ট্রাম্পের এক বছরে বিশ্বের চীনমুখী ঝোঁক ত্বরান্বিত

0
36

‘আমেরিকা প্রথম’ নীতি নিয়ে এক বছর আগে ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আসনে বসেন, তখন অনেকেই একে চীনের শ্লথ অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছিলেন। সেসব আশঙ্কাকে দূরে ঠেলে অন্য বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে বেইজিং রেকর্ড উদ্বৃত্তে দেশের অর্থনীতিকে আরও কয়েক কদম এগিয়ে নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে ট্রাম্পের নীতি ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন মিত্র বলে পরিচিত দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক শীতল করেছে, চীন সেখানে কানাডা ও ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করায় মনোযোগ দিয়েছে।

গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। এতে বলা হয়, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ২০২৫ সালে ছুঁয়েছে রেকর্ড এক লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার; মাসিক বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ পৌঁছেছে ১০ হাজার কোটি ডলারে। বিশ্বজুড়ে চীনের মুদ্রা ইউয়ানের ব্যবহারও বেড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যখন সাম্প্রতিক সময়ে তিক্ত হওয়া বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে চীনে নামলেন, তখন বেইজিং বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তার প্রভাব আরও বিস্তৃত করার স্বপ্ন দেখতেই পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক আলেক্সান্দার তোমিক বলেন, ২০ লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতি ও ৪৫ লাখ কোটি ডলার মূল্যের স্টক ও বন্ড বাজারের সহায়তায় চীন এখন বিশ্বের অনেক দেশের কাছেই ‘স্থিতিশীল অংশীদার’ হিসেবে আবির্ভূত। অল স্প্রিং গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের ডেরিক আরউইন বলেন, নিজেদের আস্থাযোগ্য ও স্থিতিশীল বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে হাজির করতে চীন ভালো ও সঠিক কাজটাই করেছে।

বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতি– চীন ও যুক্তরাষ্ট্র গত বেশ কয়েক বছর ধরেই ভূরাজনৈতিক নানা বিরোধের মধ্যে রয়েছে। গেল এপ্রিলে ট্রাম্প চীনের পণ্যে ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করেন। পরে এ শুল্ক কমলেও তার দুই দেশে বাণিজ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। এ প্রেক্ষাপটে গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো চীনা পণ্য ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকায় ২৫ দশমিক ৮, লাতিন আমেরিকায় ৭ দশমিক ৪, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১৩ দশমিক ৪ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।

স্টারমারের চীন সফর
২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করছেন। তাঁর এ চার দিনের সফরের আগে এ মাসেই চীন ঘুরে গেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। কানাডার শেষ কোনো প্রধানমন্ত্রী বেইজিং গিয়েছিলেন ২০১৭ সালে। গতকাল বুধবার দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে চীন সফর নিয়ে কথা বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তাঁর মতে, এ সফরের ফলে ব্রিটিশ নাগরিকরা আরও সচ্ছল হবে। স্টারমারের যুক্তি, তাঁর এ সফর মানুষের পকেটে আরও টাকা আনবে এবং দেশকে আরও নিরাপদ রাখবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের রক্ষণশীল সরকারগুলো চীনের বিষয়ে কখনও গরম, কখনও শীতল নীতি নিয়েছে। এ অবস্থাকে তিনি ‘সোনালি যুগ থেকে বরফ যুগের’ দিকে যাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এখনই কূটনৈতিক সম্পর্ক উষ্ণ করার সময়। তবে বিরোধী দল কনজারভেটিভ

পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘চীনের কাছে নতজানু’ হওয়ার অভিযোগ এনেছেন। সফরকালে স্টারমার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি সাংহাই যাবেন। সেখান থেকে জাপান সফর করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here