এপস্টেইন ফাইলস_ পঙ্গপালের মস্তিষ্ক বিকৃতিরোগ

0
81
এপস্টেইন ফাইলস হচ্ছে_ পঙ্গপালের মস্তিষ্ক বিকৃত রোগ। এপস্টেইন ছিলেন একজন বিকৃত মানসিকতার যৌন রোগী।তার ৭৫ একরের একটি পাম দ্বীপে এই অন্ধকার রাজত্ব ছিলো। সেখানেই মূলত নারীদের হিউম্যান ট্রাফিকিংয়ের মাধ্যমে ধনী রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের উপহার দেয়া হতো। ইউনূসের বন্ধু বিল ক্লিনটনের সেখানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ইউনূসের আরেক বন্ধু বাংলাদেশের ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু আমেরিকার নির্বাচনে যে রিচার্ডসকে পাচ হাজার ডলার নির্বাচনী ফান্ড দিয়েছেন , তার সেখানে যাতায়াত ছিলো। মার্কিন অভিনেতা, অভিনেত্রী ও ব্রিটিশ ধনী ব্যবসায়ীদের সেখানে যাতায়াত ছিলো। এটাকে আপনি পৃথিবীর জান্নাত ও হুরের কারখানা বলতে পারেন।এভাবেই এই নারী টোপ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধনী বিল গেটসকে এক রাশিয়ান নারী দিয়ে এই নেটওয়ার্কের মধ্যে ফাঁসিয়ে দিয়েছিলেন এপস্টেইন। এপস্টেইনকে আপনি অন্ধকার জগতের এক ব্লাকমেইলার বলতে পারেন।তার এই বিলাস বহুল দ্বীপ ও অন্ধকার রাজত্ব নিয়ে আমেরিকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি আগ্রহ ছিলো।প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে দমিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে গিয়ে ট্রাম্প এপস্টেইন নথি ফাঁস করে দিয়েছেন।
এপস্টেইন খুব ভালো গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বুঝতেন।
এই গণিতের মেধা অবৈধ পথে কাজে লাগিয়ে এপস্টেইন মাল্টি বিলিনিওর বনে যান। নিজের উপার্জিত সম্পদ দিয়ে পাম দ্বীপে এক বিলাসবহুল প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ধীরে ধীরে আমেরিকার রাজনীতির এক নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেন এপস্টেইন।গড়ে তুলেন অন্ধকারের এক এপস্টেইন সাম্রাজ্য। আমেরিকার রাজনীতিবীদ ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে পাম দ্বীপে।মূলত এপস্টেইনের কাছে আমেরিকার বিভিন্ন রাজনীতিবীদ , ব্যাবসায়ীদের গোপন আমলনামা ছিলো। গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে এসব ভিডিও ও ছবি তুলে নিয়েছেন এপস্টেইন। নিজের উপার্জিত অর্থ , সাম্রাজ্য ও খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে এপস্টেইন রাতারাতি বনে যান ব্লাকমেইল জগতের এক অঘোষিত সম্রাট।
১৭৭৬ সালে ডাল্টন স্কুলের গণিত শিক্ষক থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর বিশ্ববিখ্যাত ওয়াল স্ট্রিটের বিয়ার স্টার্নসের বিভিন্ন উচ্চ পদে চাকরি করে আশির দশকে নিজের এক বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি খুলে বসেন জেফরি এপস্টেইন। ২০০৫ সালে এক ১৪ বছরের কিশোরীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফ্লোরিডার পাম পুলিশ এপস্টেইন এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।
২০০৮ সালে একটি বিতর্কিত চুক্তি ( Deal of the century) তথা শতাব্দীর চুক্তির জন্য এপস্টেইনকে ১৩ মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এপস্টেইন মূলত আলোচনায় আসেন ২০১৯ সালে কারাগারের ভেতরে আত্মহত্যার কথা বলে যখন তাকে হত্যা করা হয়। এপস্টেইন আমেরিকার বিভিন্ন রাজনীতিবীদ ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন গোপন তথ্য জানাতেন।এই কারণেই সম্ভবত তাকে হত্যা করা হয়েছিল।তার প্রেমিকা গ্রিসলেন ম্যাক্সওয়েল এর ২০ বছরের সাজা হয়েছে।
এপস্টেইনের সম্পত্তির মধ্যে ছিল নিউ ম্যাক্সিকোর বিশাল র্যাঞ্চ, নিউইয়র্কের আলিশান ম্যানশন ও ক্যারিবিয়ান সাগরে ৭৫ একরের পেডোফাইল আইল্যান্ড। এই পেডোফাইল আইল্যান্ড ঘিরে গড়ে উঠে তার অপরাধের বিশাল সাম্রাজ্য।এটা ছিল তার একটি অন্ধকার জগৎ। কিন্তু সবাই তার এই অন্ধকার জগতের বিষয়ে জানতো না।এই অন্ধকার জগতের বাইরে তিনি ছিলেন আমেরিকান একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী।আমেরিকা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি বিনিয়োগ করতেন। ক্লিনটনের জন্য তিনি তার ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ পাঠিয়েছেন।ইলন মাস্কের সাথে তার বিভিন্ন ইমেইল আদান প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। আমেরিকার একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে তার সাথে অনেকেই ছবি তুলবেন , তথ্য আদান-প্রদান হবে এসব একটি স্বাভাবিক বিষয়।
এপস্টেইনের ফাইলস এর একটি অংশ হচ্ছে লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপ।এই দ্বীপ থেকেই এসেছে নারী নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য।এই দ্বীপে যাওয়ার জন্য এপস্টেইন হেলিকপ্টার ও নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা ছিল। লাইব্রেরী , সিনেমাহল , জিমনেসিয়াম, নীল – সাদা ডোরাকাটা মন্দির সব ছিল সেখানে। কিন্তু এপস্টেইন ফাইলস মানেই শুধু এই পেডোফাইল আইল্যান্ড নয়। আমাদের পঙ্গপাল এই পেডোফাইল আইল্যান্ড নিয়েই পড়ে আছে। এজন্য এপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনার নাম আসতেই এদের পটুতে পাকিস্তান জিন্দাবাদ ধ্বনি উঠতে থাকে।
বাংলাদেশের প্রভাবশালী কারো সাথে সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিলো না এপস্টেইনের।মূলত বাংলাদেশ বিষয়ে এপস্টেইনকে ইমেইল পাঠাতো এক নরওয়েজিয়ান। নরওয়ের কোম্পানি গ্রামীণফোনের সাথে ব্যবসা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের। নরওয়ের ওই ব্যক্তির ইমেইল থেকেই ইউনূস ও শেখ হাসিনার বিষয়ে জেনেছেন এপস্টেইন। এপস্টেইন ফাইলে নাম এসেছে পাকিস্তানের ইমরান খানের।তার মানে এই নয় যে, ইমরান খান এপস্টেইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে উড়ে ক্লিনটনের মতো পেডোফিল আইল্যান্ডে গেছেন। এপস্টেইনের ফাইলে নাম এসেছে বিশ্বখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর। যিনি মাত্র ২২ বছর বয়স থেকেই জটিল মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত। যার উঠা ও বসার পর্যন্ত ক্ষমতা নাই তিনি প্যাডোফিল আইল্যান্ডে গিয়ে কি ডিম পাড়বেন?
এপিস্টেইন পৃথিবী বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্লাকমেইল করার জন্য পুরো দ্বীপে অসংখ্য হিডেন ক্যামেরা দিয়ে বিভিন্ন নগ্ন ভিডিও ও ছবি ধারণ করতেন। স্টিফেন হকিংকে বিপদে ফেলার জন্য তিনি নগ্ন নারীর গল্প রচনা করেছেন।ইমরান খানের রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে তিনি শঙ্কিত ছিলেন। শেখ হাসিনার সাথে এপিস্টেইন এর কখনো দেখাই হয়নি। শেখ হাসিনার একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করতেন এপস্টেইন।এই সংক্রান্ত বিষয়ে নরওয়ের সেই লোক এপস্টেইনকে ইমেইল করেছেন।নরেন্দ্র মোদীর একটি ব্যক্তিগত ছবিও প্রকাশ পেয়েছে।তার মানে এই নয় যে নরেন্দ্র মোদী এপস্টেইনের পোডোফিল আইল্যান্ডে গিয়ে নাচানাচি করেছেন অথবা তার নীল সাদা ডোরাকাটা মন্দিরের আন্ডারগ্রাউন্ড সাউন্ড প্রুফ রুমে বসে নারী নির্যাতন করেছেন।এসব একমাত্র পঙ্গপালের পক্ষেই সম্ভব!
অথচ পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতে বেগম খালেদা জিয়ার দূর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরও এই পঙ্গপালের দল স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাযা নিয়ে নেচেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট খামেনির পুত্র মুজতবা খামেনির লন্ডনে বিলাসবহুল সম্পদ ও আয়েশী জীবনের কথা পর্যন্ত এই পঙ্গপাল বিশ্বাস করে না।তাই এপস্টেইন ফাইলস , এপস্টেইন নোটবুক , ভিডিও ও ফটো এসব সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই পঙ্গপালের দল লাফায়। এপস্টেইনের সাথে শেখ হাসিনা , ইমরান খান অথবা নরেন্দ্র মোদী কারোই ছবি নেই।এসব হচ্ছে এপিস্টেইন নোটবুক।
জেফরি এপস্টেইন এর সাথে মাইকেল জ্যাকসনের ছবি থাকলেও শেখ হাসিনার ছবি কেন নেই , এই বিষয়ে পঙ্গপালের মন ভীষণ খারাপ। এজন্য পঙ্গপালের দল এপস্টেইনের টীমের সাথে শেখ হাসিনার যোগাযোগ নিয়ে গালগল্প ছাপছে।এই প্রসঙ্গে এপস্টেইনের সহযোগী লোসলি গ্রাফ বলেন, ” কোন এক অজানা বিষয়ে জেফরি এপস্টেইন টীমের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন।তবে বিষয়টা কী, তা বলা হয়নি।” এখানে সরাসরি শেখ হাসিনার নাম আসেনি।
শেখ হাসিনার মতো এমনি গল্পের ফাঁদ পাতা হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং নিয়ে। নরেন্দ্র মোদীর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের সাথে নাচ আলোচনায় এসেছে। একজন মানুষ নাচতেই পারেন । কিন্তু তা যদি হয় নরেন্দ্র মোদী, তবে বাংলাদেশের পঙ্গপাল তখন ইসরায়েলের বিচকেই পেডোফিল আইল্যান্ড ভেবে নেয়। বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও জলবায়ু প্রকল্প সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ ছিল জেফ্রি এপস্টেইনের। পাকিস্তানের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থায় বিনিয়োগ ছিল এপস্টেইনের।এমনকি এপস্টেইন ফাইলসে ডক্টর ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংক ও বিকাশ এসব পর্যন্ত উঠে এসেছে।নারী নির্যাতনকারী এপস্টেইনের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আমেরিকান সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রামীণ ফাউন্ডেশন, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন এরা তো মায়ের পেটের ভাই। এদের মতো করেই নিজের এক কোম্পানি খুলে এপস্টেইন মানুষকে ব্লাকমেইল করতেন। ক্লিনটন এপস্টেইনের বন্ধু, ইউনূস ক্লিনটনের বন্ধু। তার মানে কি ধরে নিবো ইউনূস এপস্টেইনের পোডোফিল আইল্যান্ডে নারী পাচারের সাথে জড়িত?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here