১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বৈধ প্রমাণ করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন এবার সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে একটি বিষয়ে—পর্যবেক্ষকের সংখ্যা। সংখ্যাটা ছোট নয়। প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, আর ভেতরে ৫৫ হাজারের বেশি দেশীয় পর্যবেক্ষক, মোট ৮১টি সংস্থার ব্যানারে মাঠে নামানো হচ্ছে। কাগজে-কলমে এটি বিশাল আয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই আয়োজন কি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য, নাকি তার অভাব ঢাকার জন্য?
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বড় অংশই আসছেন ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে। তারা দেখবেন ভোটের দিনের শৃঙ্খলা, লাইন, ব্যালট বাক্স—কিন্তু দেখবেন না নির্বাচনের আগের বাস্তবতা: বিরোধী দলের অনুপস্থিতি, মাঠের রাজনীতি, ভয় ও নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ। অর্থাৎ নির্বাচন নয়, তারা দেখবেন কেবল ভোটের দিন।
দেশীয় পর্যবেক্ষকদের সংখ্যাও চোখ ধাঁধানো—৫৫ হাজারের বেশি। কিন্তু এদের বড় অংশই নির্বাচন কমিশনের অনুমোদননির্ভর, অনেক সংস্থার বাস্তব কার্যক্রম বা স্বাধীনতা নিয়েই প্রশ্ন আছে। পর্যবেক্ষক যদি আগে থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে তার প্রতিবেদনও কি স্বাধীন হতে পারে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই: যেখানে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নেই, সেখানে পর্যবেক্ষণ হবে কীসের? একতরফা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক কেবল আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি—গণতন্ত্রের প্রহরী নয়, বরং তার দুর্বলতার নীরব সাক্ষী।
সংখ্যা দিয়ে গণতন্ত্র মাপা যায় না। মাপা যায় পরিবেশ দিয়ে, অংশগ্রহণ দিয়ে, ভয়হীন ভোটাধিকার দিয়ে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন তাই শুধু ভোটের দিন নয়—এটি পর্যবেক্ষকদেরও পরীক্ষা। ইতিহাস দেখবে, তারা সত্য লিখেছে, না সংখ্যার ভিড়ে হারিয়ে গেছে।
লেখক: গোলাম রববানী হিরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর, ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং এলায়েন্স (ফেমা)।





