জেনেভায় আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

0
28

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার জেনেভায় পরোক্ষ বৈঠকে বসছে। তবে ওয়াশিংটন অঞ্চলটিতে সামরিক শক্তি জড়ো করায় সমঝোতার স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় অংশ নেবেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে আলোচনায় থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
তবে একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী—রয়টার্সকে এমনটাই জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

এদিকে ইরান সোমবার হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেল রপ্তানির প্রধান রুট। বিরোধের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে এসব দেশ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি জেনেভার আলোচনায় ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন এবং তার বিশ্বাস, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। সোমবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না তারা চুক্তি না করার পরিণতি চায়। তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বি-২ বোমারু বিমান পাঠানোর বদলে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারতাম। কিন্তু আমাদের বি-২ পাঠাতে হয়েছিল।
’ প্রতিবাদ ও যুদ্ধের ছায়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা চলছে।

তেহরান ও ওয়াশিংটন তাদের কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধ নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি আবারও আলোচনা শুরু করে। ওয়াশিংটন ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল মনে করে, ইরান এমন একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে।

অন্যদিকে ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। যদিও দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং বোমা তৈরির উপযোগী মাত্রার কাছাকাছি পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।

তেহরান ভালোভাবেই জানে, গত বছরের জুনে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার একটি উদ্যোগ চলাকালে ওয়াশিংটনের মিত্র ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা শুরু করেছিল। পরে মার্কিন বোমারু বিমানও এতে যোগ দিয়ে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এরপর থেকে তেহরান জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

এর পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল আয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে সৃষ্ট জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। হাজারো মানুষের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সেই বিক্ষোভ দমন করা হয় এবং এতে ইরানের ইসলামী শাসকগোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়ে।

আগেরবারের তুলনায় এবার যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাকে ‘বৃহৎ নৌবহর’ বলে উল্লেখ করেছেন, তা মোতায়েন করেছে। ওয়াশিংটন পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। তবে তেহরান বলেছে, তারা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে আলোচনা করতে রাজি। তারা সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করবে না বলে জানিয়েছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন, তবে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করতে প্রস্তুত। একই দিন জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন। ইউক্রেনে মস্কোর চার বছর ধরে চলা আগ্রাসন বন্ধে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে একটি সমঝোতায় আনতে ওয়াশিংটন চেষ্টা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার জেনেভায় পরোক্ষ বৈঠকে বসছে। তবে ওয়াশিংটন অঞ্চলটিতে সামরিক শক্তি জড়ো করায় সমঝোতার স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় অংশ নেবেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে আলোচনায় থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী—রয়টার্সকে এমনটাই জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

এদিকে ইরান সোমবার হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেল রপ্তানির প্রধান রুট। বিরোধের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে এসব দেশ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি জেনেভার আলোচনায় ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন এবং তার বিশ্বাস, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। সোমবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না তারা চুক্তি না করার পরিণতি চায়। তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বি-২ বোমারু বিমান পাঠানোর বদলে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারতাম। কিন্তু আমাদের বি-২ পাঠাতে হয়েছিল।’ প্রতিবাদ ও যুদ্ধের ছায়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা চলছে।

তেহরান ও ওয়াশিংটন তাদের কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধ নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি আবারও আলোচনা শুরু করে। ওয়াশিংটন ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল মনে করে, ইরান এমন একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে।

অন্যদিকে ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। যদিও দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং বোমা তৈরির উপযোগী মাত্রার কাছাকাছি পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। তেহরান ভালোভাবেই জানে, গত বছরের জুনে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার একটি উদ্যোগ চলাকালে ওয়াশিংটনের মিত্র ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা শুরু করেছিল। পরে মার্কিন বোমারু বিমানও এতে যোগ দিয়ে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এরপর থেকে তেহরান জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

এর পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল আয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে সৃষ্ট জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। হাজারো মানুষের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সেই বিক্ষোভ দমন করা হয় এবং এতে ইরানের ইসলামী শাসকগোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়ে।

আগেরবারের তুলনায় এবার যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাকে ‘বৃহৎ নৌবহর’ বলে উল্লেখ করেছেন, তা মোতায়েন করেছে। ওয়াশিংটন পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। তবে তেহরান বলেছে, তারা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে আলোচনা করতে রাজি। তারা সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করবে না বলে জানিয়েছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন, তবে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করতে প্রস্তুত। একই দিন জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন। ইউক্রেনে মস্কোর চার বছর ধরে চলা আগ্রাসন বন্ধে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে একটি সমঝোতায় আনতে ওয়াশিংটন চেষ্টা চালাচ্ছে।

সূত্র : রয়টার্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here