মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলছে আঘাত-পাল্টা আঘাত। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট ও নীতিগত। বাংলাদেশ মনে করে, যুদ্ধ নয়, শান্তি ও সংলাপই সমাধান। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কূটনীতিক কালবেলাকে বলেন, প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন অপরিহার্য। ফলে সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক উপায়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সংলাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের এ উত্তেজনা প্রশমিত করা উচিত।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো পক্ষকে সমর্থন না দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও ঐতিহাসিক নীতির ভিত্তিতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য যারা ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট ধরতে পারেননি, তাদের যদি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তাহলে তার সমাধান নিয়েও কাজ করছে সরকার।
যদিও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন লাখ লাখ বাংলাদেশি। তাদের অনেকেই এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। প্রবাসীদের স্বজনরাও দেশে বসে টেলিভিশন ও অনলাইনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। অনেকেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অভিবাসী কর্মীদের ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা এবং প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় সক্রিয় থাকা জরুরি। দূতাবাসগুলোকে তৎপর হয়ে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘ হলে অনেক সময় কর্মীদের বেতন-ভাতা ছাড়াই ফেরত পাঠানো হয়, যা বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরানের বাংলাদেশ মিশনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা কূটনীতিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্য বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। বিশেষ করে শিল্প খাতে উৎপাদন খরচ বাড়বে ও কাঁচামালের সংকট দেখা দেবে। আর এর ফলে সময়মতো পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে না। মধ্যপ্রাচ্য জ্বালানি তেলের বড় উৎস। যুদ্ধ শুরু হওয়ায় দেশের বাজারে তেলের সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে। এমনিতেই দেশের অর্থনীতি বেহাল। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতির জের দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ইরান সংকট প্রতিক্রিয়ায় নীরব বিশ্ব: ইরানের চলমান সংকট নিয়ে অনেকটাই নীরব বিশ্ব। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও প্রধান দেশগুলোর (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি) অনেক নেতার এক্স অ্যাকাউন্ট হামলার পর নীরব ছিল। পরে তারা ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা করেছে; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমণ নিয়ে সরাসরি নিন্দা করেনি এবং কেউই কোনো পক্ষকে সরাসরি দোষারোপ করেননি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখো এসকেলেশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু হামলার নিন্দা করেননি। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অনেক আরব দেশ (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার) তারা ইরানের পাল্টা হামলা (যা তাদের দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত করেছে) নিন্দা করেছে এবং নাগরিকদের সতর্ক করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রথম হামলা নিয়ে কোনো নিন্দা এখনো জানায়নি তারা। এদিকে ইরানের মিত্ররা হিজবুল্লাহ, হুথি ইত্যাদি প্রক্সি গ্রুপ ও হুমকি দিলেও এখনো বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের প্রতিক্রিয়াও মৃদু। এ ছাড়া জাতিসংঘও নীরব।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অনেক দেশ (বিশেষ করে ইউরোপ) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না।
খামেনির শাসনামলে ইরানের প্রতি বিশ্বের (বিশেষ করে আরব দেশ ও পশ্চিমের) অনেক অভিযোগ ছিল প্রক্সি যুদ্ধ, পারমাণবিক কর্মসূচি, মানবাধিকার লঙ্ঘন। অনেকে মনে করছেন, খামেনির মৃত্যু ইরানে পরিবর্তন আনতে পারে। রাশিয়া-চীনও সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন খামেনির হত্যায় নিন্দা জানিয়েছেন। চীন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু তারা কোনো সামরিক/বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়নি শুধু বিবৃতি দিয়েছে।
বাংলাদেশের অবস্থান: মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে বাংলাদেশে চায় শান্তি। বাংলাদেশের এ অবস্থান কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে অবিচল। বাংলাদেশ কোনো পক্ষকে সরাসরি সমর্থন করে না। ইরানের সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংযোগ থাকলেও, ইসরাইলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠছে। বাংলাদেশের অবস্থান হলো নিরপেক্ষতা ও শান্তির পক্ষে।
মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২০-২৫ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান—এসব দেশে তারা কর্মরত। সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। কাতারে প্রবাসীদের সামরিক স্থাপনার কাছে না যাওয়া, বাসায় থাকা, অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তেহরানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলাসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কূটনীতিক কালবেলাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে আমরা চাই শান্তি। আমরা চাই না সংকট আরও তীব্র হোক। এরই মধ্যে আমাদের অনেক প্রবাসী দেশটিতে রয়েছেন ফলে আমরা তাদের সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। এ ছাড়া অনেকেই বিদেশে যেতে ব্যর্থ হয়েছে ফ্লাইট মিস করে, আমরা তাদের নিয়ে ভাবছি, কারণ এদের অনেকেরই হয়তো ভিসার মেয়াদ বেশিদিন নেই। আমরা এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’
ইরানের ওপর হামলায় বাংলাদেশ কাউকে সমর্থন করে কি না প্রশ্ন করলে ওই কূটনীতিক কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা সমর্থন করার মতো শক্তিধর নই। তবে তাদের ওপর হওয়া হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মারা যাওয়ায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করি। কিন্তু আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ছাড়া আর কিছুই করছি না। তবে যদি সৌদিসহ বড় মুসলিম রাষ্ট্রগুলো জোরদার ভূমিকা নিয়ে ইরানকে সহায়তা করে এবং এতে বাংলাদেশেরও সমর্থন যদি সেসব দেশ চায়, তাহলে আমরা হয়তো এগিয়ে আসব। অন্যথায় আগ বাড়িয়ে সরকার কিছুই করতে চায় না।’
জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি: হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। বাংলাদেশের জ্বালানির ৯০ শতাংশ+ আমদানিনির্ভর—তেল, এলএনজি, কয়লা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। প্রণালি বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের এ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশের ওপরে কি কোনো ধরনের প্রভাব পড়তে পারে? বিশেষ করে জ্বালানি সংকটসহ এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আছে কি না, জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘না, এই মুহূর্তে আমাদের যে স্টক আছে সেটা নিয়ে তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। কিন্তু যেগুলো হচ্ছে অস্বাভাবিক। এই সংকট আমরা আগেও দেখছি। বিভিন্ন সময়ে কিছু এনার্জি রিলেটেড মানে একটু ফ্লাকচুয়েশন হতে পারে; কিন্তু আমাদের মোটামুটি প্রস্তুতি ভালো এগুলোর জন্য। এগুলো নিয়ে তেমন শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি যারা আছেন, তারাই আমাদের প্রাধান্য প্রায়োরিটি। এ ছাড়া বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সহায়তা করা। আমি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গতকাল এয়ারপোর্টে গিয়েছি বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে। আমরা নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয়ের কাজটা ঠিকভাবে করছি, যাতে কোনো ডিসট্রেস আমাদের সিটিজেনদের হয় না। দেশের ভেতরে যারা অপেক্ষমাণ আছেন অথবা যারা বিদেশে কোনো না কোনোভাবে দুশ্চিন্তায় আছেন এই মধ্যপ্রাচ্যের এই কারেন্ট সিচুয়েশনে।’
এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘যদি এই সংঘাত স্বল্পমেয়াদি হয় এবং আমেরিকা-ইসরায়েল রিজিম চেঞ্জ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে খুব বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে না বাংলাদেশের। কিন্তু যদি এটি দীর্ঘমেয়াদি হয়ে যায় যেমন প্রক্সি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হওয়া, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর গভীর প্রভাব পড়বে।’
মধ্যপ্রাচ্যে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা বাংলাদেশের: ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাতটি দেশের নামোল্লেখ করা হলেও সে তালিকায় ইরানকে রাখা হয়নি।শনিবার ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার জেরে ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেণণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে ইরান।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ; যার মধ্যে রয়েছে, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে জরুরি সভা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপর গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের।এদিন ঢাকার সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। ওই বৈঠক থেকে সংশ্লিষ্ট দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানোর কথা বলেছেন কর্মকর্তারা।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তার উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ ‘অগ্রাধিকার’ দেওয়া হচ্ছে।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “বাংলাদেশ কূটনৈতিক সমাধান ও উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে। আমরা চাই পরিস্থিতির অবনতি না ঘটুক। কূটনৈতিকভাবে সমাধান হোক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান জানিয়ে রোববারের বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ইরানে হামলার পর দেশটিতে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ সাবধান করে দিতে চায়, সংঘাত চালিয়ে গেলে তা কেবল আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক জনগণের সমৃদ্ধিকে বিপন্নই করবে। সর্বোচ্চ সংযমের চর্চা এবং মতপার্থক্য দূর করতে কূটনীতিতে ফেরার জন্য সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ।’’এরপর দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “শিগগির পরিস্থিতি শান্ত হয়ে উঠবে এবং ওই অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।”




