দিনমজুর থেকে হঠাৎ কোটিপতি, চোরাকারবারি থেকে অনলাইন ক্যাসিনো, মেহেরপুরে অস্বাভাবিক অর্থনৈতিক উত্থান ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মানি লন্ডারিং অনুসন্ধান। এ ঘটনায় নতুন করে জেলার আরও ৯ জনকে তলব করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এবার মানি লন্ডারিংসংক্রান্ত অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এনসিপি নেতা, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা, চোরাকারবারি, অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট, ক্যাসিনো এজেন্টের সহযোগী এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের কম্পিউটার প্রশিক্ষকসহ মোট ৯ জনকে তলব করা হয়েছে।
তারা হলেন- এনসিপি নেতা তামিম ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মেহেরপুর শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের কম্পিউটার প্রশিক্ষক এস এম রাসেল, যুবলীগ নেতা আঙ্গুর আলী, নাদিম খান, মারুফ সুলতান বর্ষণ, দিনমজুর থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া মাসুম বিল্লাহ, মনজুর রহমান ওরফে মজনু, মইনুদ্দিন ও মাদার আলি।
সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক চিঠির মাধ্যমে তাদের তলব করা হয়। ৩০ ও ৩১ মার্চ ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা ২০১৯-এর ৫১(৯) ধারা অনুযায়ী এ তলব করা হয়েছে। এ ধারায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ না করা বা প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সিআইডির অর্গানাইজ ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেনসংক্রান্ত একটি চিঠি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা কালবেলাকে বলেন, বিএফআইইউ থেকে পাওয়া নির্দেশনা সম্বলিত চিঠির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি দুদক, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, আয়কর অফিস ও সঞ্চয় ব্যুরোতেও তাদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এর মাধ্যমে গত এক বছরে মেহেরপুর জেলা থেকে মোট ৩৪ জনকে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তলব করা হলো, যা জেলাজুড়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।





