‘লতার বোন’ থেকে যেভাবে সুরের রানী ‘আশা’

0
22

ভারতীয় উপমহাদেশে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র আশা ভোঁসলে আর নেই। দীর্ঘ সংগীতজীবনে হাজার হাজার গান গেয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কোটি ভক্তের হৃদয়ের অংশ। তার মৃত্যুতে শুধু ভারত নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আশা ভোঁসলে ছিলেন সেই সোনালি প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধি, যাদের কণ্ঠে গড়ে উঠেছিল হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের স্বর্ণযুগ। তার সঙ্গে একই সময়ের কিংবদন্তিদের মধ্যে ছিলেন বড় বোন লতা মঙ্গেশকর, পাশাপাশি ছিলেন মুকেশ, মোহাম্মদ রফি ও কিশোর কুমার- যারা কয়েক দশক ধরে ভারতীয় সংগীতকে শাসন করেছেন।

মাত্র ৯ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে গানের জগতে যাত্রা শুরু করেন আশা ভোঁসলে। সেই সময় তার বড় বোন লতা মঙ্গেশকর সংগীত জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছেন। ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতে আশাকে বারবার ‘লতার ছোট বোন’ পরিচয়ে পরিচিত হতে হয়েছে। তবে প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলেন তিনি। ৫০-এর দশকে বহু জনপ্রিয় গান উপহার দিলেও, দীর্ঘ সময় তাকে নির্দিষ্ট ধাঁচের গানে বন্দী থাকতে হয়।

৬০ ও ৭০-এর দশকে বলিউডের নাচের গানের ক্ষেত্রে প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন আশা ভোঁসলে। ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইয়ে মেরা দিল’, ‘ও হাসিনা জুলফোঁওয়ালি’—এমন অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে। বিশেষ করে অভিনেত্রী হেলেনের পর্দার নাচে প্রায় নিয়মিতই কণ্ঠ দিতেন আশা। ফলে নাচের গান মানেই যেন ছিল তার কণ্ঠ।

অনেকেই একসময় মনে করতেন, আশা ভোঁসলে শুধু হালকা বা নাচের গানেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সেই ধারণা ভেঙে দেন তিনি নিজেই। ‘উমরো জান’ সিনেমায় গাওয়া গজল তাকে এনে দেয় ব্যাপক প্রশংসা ও জাতীয় পুরস্কার। পরে ‘ইজাজাত’ সিনেমাং ‘মেরা কিছু সামান’ গানেও তার কণ্ঠ নতুন মাত্রা যোগ করে। প্রমাণ করেন, তিনি শুধু নাচের গানের শিল্পী নন, বরং সম্পূর্ণ একজন বহুমাত্রিক গায়িকা।

শুধু সংগীত নয়, ব্যক্তিজীবনেও ছিলেন দৃঢ়চেতা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন গণপতরাও ভোঁসলেকে। সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি। বিচ্ছেদের পর সন্তানদের নিয়ে ফিরে আসেন পরিবারের কাছে। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে সংগীত পরিচালক আর ডি রাহুল দেব বর্মনকে বিয়ে করেন, যিনি তার চেয়ে বয়সে ছোট ছিলেন। এই সম্পর্ক নিয়েও শুরুতে আপত্তি থাকলেও, শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন আশা।

আশা ভোঁসলের মৃত্যু মানে শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়—এটি একটি যুগের সমাপ্তি। যে যুগে গান ছিল আবেগ, গল্প আর সংস্কৃতির মিশেল। তার কণ্ঠে গাওয়া অসংখ্য গান আজও সময়ের সীমানা পেরিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয়।

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here