বিআরটিএ’র ডিডি সানাউল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

0
7

উপ-পরিচালক সানাউল হক, দায়িত্বে আছেন চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ থানাধীন বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)’র। এর আগে ছিলেন সিলেটে।  ২০২২ সালে সিলেট সড়ক পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’-এর ডাকা ধর্মঘটে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সানাউল হককে তড়িঘড়ি করে বদলী করা হয় চট্টগ্রামে। কিন্তু আবারো তার বিরুদ্ধে ‘ঘুষ বাণিজ্যে’র’ অভিযোগ উঠেছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ থানাধীন বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) অফিস এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অফিসের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারী আর বাইরে দাপুটে দালালচক্রের যোগ সাজসে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিষ্ট্রেশন কিংবা ফিটনেস-প্রতিটি সেবার জন্য নির্ধারিত ফি’র বাইরেও গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঘুষ। আর  অভিযোগ উঠেছে, এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপ-পরিচালক সানাউল হক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিআরটিএ-তে ঘুষ ছাড়া সেবা মেলা ভার। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলেও এখানে তার উল্টো চিত্র। নিয়ম অনুযায়ী অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১০ হাজার এবং পেশাদারদের জন্য ১২ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে এই সিন্ডিকেটকে। সবচেয়ে ভীতিজাগানিয়া তথ্য হলো, এই টাকা দিলে কোনো ধরণের লিখিত বা ব্যবহারিক পরীক্ষা ছাড়াই মিলছে লাইসেন্স। অথচ বৈধভাবে আবেদন করে বছরের পর বছর পরীক্ষা দিয়েও অনেকে লাইসেন্স পাচ্ছেন না। এর ফলে সড়কে অদক্ষ চালকের সংখ্যা বাড়ছে, যা ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

অভিযোগের আঙুল চট্টগ্রাম মেট্রো-২ সার্কেলের উপ-পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. সানাউল হকের দিকে। এর আগে সিলেট ও মিরপুর অফিসে থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিলো। সিলেটে শ্রমিক অসন্তোষের মুখে তাকে প্রত্যাহার করা হলেও চট্টগ্রামে এসে তিনি আরও শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে। এই চক্রের ,মাঠ পর‌্যায়ের প্রধান হিসেবে কাজ করছের সিল কন্ডাক্টর মহসিন, জেলা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সলিম উল্যাহ, অফিস পিয়ন খোরশেদ আলম, জুয়েল, সোহেল, পঙ্কজ, সেলিম এবং নৈশপ্রহরী লিটন।

বিশেষ করে নৈশ প্রহরীকে এই দালাল চক্রের অন্যতম মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভূক্তভোগীরা। শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় তার দাপট সবচেয়ে বেশি।

রাহাত্তার পুল এলাকার লেগুনা চালক রশিদুল, পতেজ্ঞা এলাকার সিএনজি চালক সোহাগ মিয়াসহ একাধিক ভূক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাজ সারতে পারছেন না। অথচ তাদের চোখের সামনেই দালালদের মাধ্যমে আসাব্যক্তিরা ঘুষ দিয়ে দ্রুত কাজ সেরে নিচ্ছেন। চোরাই গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, মোটর সাইকেল পরিদর্শন না করেই রেজিষ্ট্রেশন এবং গাড়ি না দেখেই ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ও পরিবহন সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বিআরটিএর-তে প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা ঘুষের হার নির্ধারিত আছে:

রুট পারমিট ও ফিটনেস (বাস): ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা, হিউম্যান হলার ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার, ট্রাক/ড্রাম ট্রাক ২ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা গুনতে হবে। নম্বর প্লেটের জন্য নির্ধারিত ফি’র বাইরেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো-২ সার্কেলের উপ-পরিচালক সানাউল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো-২ সার্কেলের উপ-পরিচালক সানাউল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এরআগেও তিনি সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন, তখনও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিলো। মূল অভিযোগ ছিলো সিলেটে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০-১২ জনের একটি চক্র-সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন, তাদের দ্বারাই ‘ঘুষ বাণিজ্য’ চালাতেন।

এর আগে ২০২২ বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো-২ সার্কেলের উপ-পরিচালক সানাউল হকের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে চলা এই লাগামহীন দুর্নীতি ও দালালদের দৌরাত্ব বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নামে ‘সিলেট সড়ক পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’। একসময় বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা পরিবহন ধর্মঘটের ডাকও দেয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে তাৎক্ষনিক বদলি করা হয়েছিল। তবে চট্টগ্রামে আসার পর তিনি আবারো তার অনুগত সিন্ডিকেটকে সক্রিয় করেছেন এবং পুরোনো তরিকায় ‘ঘুষ বাণিজ্য’ অব্যাহত রেখেছেন।

বিআরটিএ একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন জনা কয়েক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী। যার ফলে ম্লান হয়ে যাচ্ছে বিআরটিএর সুনাম। অতিদ্রুত উপ-পরিচালক সানাউল হকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here