ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ২০টি ট্রফি জিতে বিদায় নিচ্ছেন পেপ গার্দিওলা। ১০ বছর ইতিহাদ স্টেডিয়াম পাড়ায় ছিলেন স্প্যানিশ কোচ। ক্লাবটির ইতিহাসে নিঃসন্দেহে সেরা ট্যাকটিশিয়ান তিনি। কোচের দায়িত্ব ছাড়লেও তিনি সিটি ফুটবল গ্রুপের সঙ্গেই থাকছেন। বৈশ্বিক দূত হিসেবে এই কোম্পানির অধীনে থাকা ক্লাবগুলোকে কারিগরি ও কৌশলগত পরামর্শ দেবেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে, ম্যানসিটির পরবর্তী কোচ বাছাইয়েও কি তার ভূমিকা থাকছে?
গার্দিওলা সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন, তেমন কোনো ভূমিকা রাখার ইচ্ছা একদমই নেই। ম্যানসিটির পরের কোচ বাছাইয়ে তিনি কোনো পরামর্শ দিতে চান না। সিটির সাবেক সহকারী কোচ ও সাবেক চেলসি কোচ এনজো মারেসকাকে প্রথম পছন্দের তালিকায় রাখা হয়েছে।
তবে সম্ভাব্য কোচ নির্বাচনে তার মতামত নেওয়া হবে এমন আশা করছেন না গার্দিওলা। এমনকি পরের কোচের সন্ধান পেতে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা রাখতে চান না তিনি।
গার্দিওলা বললেন, ‘এই ধরনের চাকরিতে কপি-পেস্ট করে কাজ চলে না। আপনাকে অনন্য, স্বাভাবিক এবং নিজের মতো হতে হবে এবং নতুন যিনি ম্যানেজার হবেন, তিনি তার নিজের মতোই থাকবেন। যখনই এটি অন্য কারো কপি হতে শুরু করবে… প্রত্যেকেই তো আসলে স্বতন্ত্র। বিষয়টি এরকমই হওয়া উচিত। আর এই কারণেই সবকিছু ভালোভাবেই চলবে।’
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ১১৫টি চার্জ আনা হয় সিটির বিরুদ্ধে। তারপরও গার্দিওলা সিটির পাশে থেকেছেন। ৫৫ বছর বয়সী কোচ আশা করছেন, ক্লাবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে শিগগিরই নিষ্কলুষ হয়ে উঠবে।
সিটির হয়ে শেষ ম্যাচের পর গার্দিওলা বিশ্রাম নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। যদিও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার চাহিদা থাকবে অনেক। তিনি বললেন, ‘বিশ্রাম ছাড়া আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা বাচ্চারা যখন বড় হয়ে উঠছিল এবং যেসব আমি করতে চেয়েও পারিনি, সেগুলো করতে চাই।’
তার কথা, ‘সুতরাং আমি এক সেকেন্ডের জন্যও পরবর্তী সময়ে ও বছরগুলোতে ফুটবল নিয়ে কিছু ভাবছি না। আমি এটা নিয়ে একদমই ভাবি না। আমার বিশ্রাম দরকার, নিজের দিকে তাকানো দরকার। আমার কোনো পরিকল্পনা নেই, কেবলই বিশ্রাম নেওয়ার সময়। অতীতে যেসব কাজ করিনি তার অনেকগুলোই করতে চাই, এমনকি বোকামির মতো কাজগুলোও।’




