বিশ্বকাপের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে সম্ভাব্য সব কিছুই করল ইউরোপের দেশ তুরস্ক। তবে জালে জড়াতে পারল না শুধু বলটাই। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে ক্যাঙ্গারুদের পাল্টা আক্রমণে গোল হজম করে বসে আর্দা-ইলদিজরা। মূলত এতেই ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটনের শিকার হল তুর্কি শিবির।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে নেস্তরি ইরানকুন্ডার গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় অজিরা। এরপর বিরতি শেষে গোলপোস্ট থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে বল পান কনর মেটকাফ। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে সেখান থেকে দারুণ এক শটে বল জালে জড়ান তিনি।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে রূপকথা লিখল সকারুজরা। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্ককে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানে দুর্দান্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের আগেই বড় চমক দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ পপোভিচ। অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও নিয়মিত গোলকিপার ম্যাথু রায়ানের জায়গায় তরুণ বিচকে নামিয়ে দেন শুরুর একাদশে।
এমনকি বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয় সহ-অধিনায়ক জ্যাকসন আরভাইনকেও; তার জায়গায় মাঠে নামেন ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার পল ওকন-ওকন–ইংস্টলার। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, অস্ট্রেলিয়ার শুরুর একাদশের ১১ জনের মধ্যে ১০ জনই ছিলেন বিশ্বকাপ অভিষিক্ত!
কোচের এই সাহসী ‘জুয়া’ মাঠে শতভাগ সফল হয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে চড়াও ছিল তুরস্ক। কিন্তু প্রতিবারই তাদের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান বিচ। আর রক্ষণ সামলে প্রতি-আক্রমণের কৌশলে বাজিমাত করে অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচের ২৮তম মিনিটে ডেডলক ভাঙে সকারুজরা। ওকন-ওকন–ইংস্টলারের নিখুঁত ও দূরপাল্লার পাস বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তুরস্কের রক্ষণভাগ চূর্ণ করেন নেস্তুরি ইরানকুন্ডা। এরপর অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতান দলকে।
এর ঠিক এক মিনিট আগে, অর্থাৎ ২৭তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পেয়েছিল তুরস্ক। রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ সেনসেশন আর্দা গুলেরের এক বুলেট গতির শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন বিচ। প্রথমার্ধে এমন বেশ কয়েকটি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও চিত্রনাট্য বদলায়নি। আক্রমণের ধার বাড়ায় তুরস্ক, আর তা প্রতিহত করতে থাকেন বিচ। ৫৭তম মিনিটে আর্দা গুলেরের আরও একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন এই গোলকিপার। তুরস্ক যতই চাপ বাড়িয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ ততই নিরেট হয়েছে।
অবশেষে ৭৫তম মিনিটে তুরস্কের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় অস্ট্রেলিয়া। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ড্রিবল করে এগিয়ে যান কনর মেটকাফ। বক্সের প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার এক ট্রেডমার্ক দূরপাল্লার শট পরাস্ত করে তুর্কি গোলরক্ষককে। ব্যবধান ২-০ হতেই ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত হয়ে যায়।
বাকি সময়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি তুরস্ক। ফলে দুই যুগ পর বিশ্বমঞ্চে ফেরার উপলক্ষটা হার দিয়ে বিষাদময় হলো তাদের।



