মেসির ‘অসম্মান করবেন না’ মন্তব্য নিয়ে কথা বললেন রেফারি

0
4

দিন দশেক আগে শেষ হওয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক চলছে। যেখানে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডাইভ (ফাউলের অভিনয়) দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। যা ছিল তার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, ফলে তিনি লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইসরা। ওই সময় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে কী কথা হয়েছিল তা জানালেন রেফারি জোয়াও পিনেইরো।

ওই ম্যাচে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা এবং ম্যাচ চলাকালে মেসির সঙ্গে রেফারি পিনেইরোর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। এ নিয়ে মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কথা বলেছেন ম্যাচ রেফারি।

পিনেইরো জানিয়েছেন, প্রথমে তার রেফারিং দল আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের (লিয়েন্দ্রো পারেদেস) চ্যালেঞ্জকে হলুদ কার্ডযোগ্য ফাউল হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো ফাউলই হয়নি। বরং প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় (এম্বোলো) ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউলের অভিনয় করেছিলেন। আর সেটি যেহেতু দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পরিস্থিতি ছিল, তাই খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। এটি যদি প্রথম হলুদ কার্ড হতো, তাহলেও সিদ্ধান্ত একই থাকত।

এমন আচরণ বন্ধ করতে ফিফা যে নতুন ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সমর্থন করেন পিনেইরো। যদিও একইদিন ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপের ওই কোয়ার্টার ফাইনালে এম্বোলোর লাল কার্ড দেখানোর প্রক্রিয়াটি ভুল ছিল। তাদের মতে, ভিএআর পর্যালোচনার সময় নিয়ম সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ ধারা কেবলমাত্র কোন খেলোয়াড় অপরাধটি করেছেন তা শনাক্ত করার জন্য ব্যবহার করা যাবে। অপরাধের ধরন পরিবর্তন বা নতুন করে পর্যালোচনা করার জন্য তা ব্যবহার করা যাবে না।

ওই ম্যাচের ৭২তম মিনিটে সুইজারল্যান্ড ১-১ সমতা ফেরানোর কিছুক্ষণ পর কার্ডের সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। ম্যাচ চলাকালে মেসি ও পিনেইরোর বাক্যবিনিময়ের দৃশ্যও ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেখানে আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে রেফারির দিকে আঙুল তুলে সম্মানজনকভাবে কথা বলার দাবি জানাতে দেখা যায়। মেসি বলেন, ‘ভালোভাবে কথা বলুন, অসম্মান করবেন না। আমার সঙ্গে সম্মান রেখে কথা বলুন। আমিও আপনার সঙ্গে সম্মান রেখেই কথা বলেছি।’

তবে বিষয়টিকে স্বাভাবিক ঘটনা বলেই মনে করেন পিনেইরো, ‘মেসি আমার সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন, অন্য খেলোয়াড়রাও বলেছে। অধিনায়করা সাধারণত রেফারিদের সঙ্গে বেশি কথা বলে এবং নতুন নিয়মেও এই সংলাপের সুযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় মেসির নাম জড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি অনেক বেশি আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এমন আলোচনা অনেক ফুটবলারের সঙ্গেই হয়। মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জড়িত থাকলে মানুষ বিষয়গুলো ভিন্নভাবে দেখে।’

বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হলেও বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার অনুভূতি অন্যরকম বলে দাবি পিনেইরোর, ‘এগুলো গঠনমূলক আলোচনা। সবাইকে হলুদ কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক নয়। হয়তো সে আমার কোনো সিদ্ধান্ত ভুল বুঝেছিল। আমরা কথা বলেছি, একে অপরকে বুঝেছি, তারপর খেলা এগিয়ে নিয়েছি। বিশ্বকাপ কতটা অসাধারণ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। নিজে অংশ না নিলে এর মহিমা উপলব্ধি করা যায় না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here