আমরা পরাজিত হওয়ার জন্য জন্মাইনি: হাসিনা

0
2

২৩ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন নয়, এই দিনটি বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের সঙ্গে গভীর ভাবে যুক্ত। ১৯৪৯ সালের এই দিনে জনগণের দাবি, মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামি লিগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই পথচলার ৭৭ বছর পূর্ণ হলো।

বাংলাদেশ আওয়ামি লিগ শাসকের অনুকম্পা, বিদেশি শক্তির প্রশ্রয় কিংবা ক্ষমতার মোহে জন্ম নেওয়া কোনও দল নয়। আওয়ামি লিগ বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার ইতিহাস ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে একাকার হয়ে মিশে থাকা একটি অনুভূতির নাম। ৭৭ বছরের পথচলায় এই সংগঠন কখনও জনগণের হাত ছেড়ে যায়নি, কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিটি ধাপে আওয়ামি লিগের ত্যাগ, নেতৃত্ব ও সংগ্রাম জড়িয়ে আছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সেই স্বপ্নের জন্য জাতিকে সংগঠিত করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ নামটাও তাঁরই দেয়া। অতএব বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই আওয়ামি লিগের ইতিহাস।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মর্যাদাবান সোনার বাংলা গড়ে তুলতে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করা হয়নি; আঘাত করা হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনায়, গণতন্ত্রে, সংবিধানে এবং বাঙালির আত্মপরিচয়ে।

এর পরে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশকে বার বার পিছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সামরিক শাসন, ষড়যন্ত্র, হত্যা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, মৌলবাদী শক্তির পুনর্বাসন এবং গণতন্ত্রবিরোধী রাজনীতির মাধ্যমে স্বাধীনতার মূল চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামি লিগ থেমে থাকেনি। কারাগার, গুম, হত্যা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, নিষেধাজ্ঞা এসব কিছুই আওয়ামি লিগকে জনগণের পথ থেকে সরাতে পারেনি।

আওয়ামি লিগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামি লিগের শাসনকালে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, দারিদ্র কমেছে, শত ভাগ বিদ্যুতায়নের পথে এগিয়েছে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলেছে। বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হয়ে জনগণের জন্য নিরাপদ আবাসভূমিতে পরিণত হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলি টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, ডিজিটাল বাংলাদেশ, কমিউনিটি ক্লিনিক, আশ্রয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি এসব নিছকই কোন স্লোগান কিংবা প্রতিশ্রুতি নয়; এগুলো বাংলাদেশের উন্নয়নের বাস্তব উদাহরণ। বাংলাদেশকে আমরা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমরা প্রমাণ করেছিলাম, বাঙালি জাতি সুযোগ পেলে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পেলে, সৎ নেতৃত্ব পেলে নিজের শক্তিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

কিন্তু আজ সেই বাংলাদেশ আবার গভীর সংকটে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অনির্বাচিত ও অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে ঘৃণা, বিভেদ, প্রতিহিংসা, মব-সন্ত্রাস, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, মিথ্যা মামলা এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের যে পথ তৈরি করা হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও চলছে।

দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামি লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখে, কোটি কোটি মানুষের পছন্দের দলকে ব্যালটের বাইরে রেখে নির্বাচনের নামে যে প্রহসন ১২ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে, তাতে জনরায়ের প্রতিফলন হয়নি। আওয়ামি লিগকে নির্বাচনে হারানো হয়নি, বরং নিশ্চিত পরাজয় জেনে দেশবিরোধী শক্তি আওয়ামি লিগকে নির্বাচন থেকেই সরিয়ে দিয়েছে। এটি শুধু আওয়ামি লিগের ওপর আঘাত নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আঘাত।

আজও আওয়ামি লিগের কার্যক্রমের ওপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। ঘরে ঘরে তল্লাশি, গ্রেপ্তার, নির্যাতন, পরিবারকে হয়রানি, সহায়-সম্পত্তি দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আওয়ামি লিগকে নীরব করার চেষ্টা চলছে। এমনকি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন, পতাকা উত্তোলন কিংবা রাজনৈতিক মত প্রকাশকেও অপরাধ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। একটা কথা স্পষ্ট ভাবে বলা প্রয়োজন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো অপরাধ নয়। ‘জয় বাংলা’ বলা অপরাধ নয়। আওয়ামি লিগকে ভালোবাসা অপরাধ নয়। জনগণের অধিকার, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলা অপরাধ নয়।

একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, আইনের শাসন, মানুষের ভোটাধিকার ও উন্নয়নের পথ। অন্য দিকে প্রতিহিংসা, মব-সন্ত্রাস, মৌলবাদ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্ধকারের পথ। বাংলাদেশের মানুষ কখনও অন্ধকারের পথ বেছে নেয়নি, এ বারও নেবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের স্মরণ রাখা উচিত, তারা কোনো দলীয় বাহিনী নয়। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। রাজনৈতিক নির্দেশে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার করা, মিথ্যা মামলায় জড়ানো, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন করা এবং কোনও নাগরিককে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপরাধী বানানো আইনসম্মত দায়িত্ব নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার।

অন্যায় নির্দেশ পালন করে কেউ ইতিহাসের দায় থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। যারা মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, যারা মায়ের কোল খালি করছে, যারা সন্তানকে পিতার কাছ থেকে, পিতাকে সন্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করছে, যারা নিরপরাধ মানুষকে কাঁদাচ্ছে, তাদের প্রতিটি কাজ একদিন আইন, ইতিহাস এবং জনগণের আদালতে জবাবদিহির মুখোমুখি হবে। কোনও সরকার স্থায়ী নয়, কোনো ক্ষমতাই স্থায়ী নয়; জনগণই চিরস্থায়ী। তাই জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

আমি জানি, আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীরা আজ কঠিন সময় পার করছেন। কেউ কারাগারে, কেউ মিথ্যা মামলার বোঝা নিয়ে ঘরছাড়া, কেউ আহত, কেউ পঙ্গু, কেউ প্রিয়জন হারিয়েছেন। অনেকের ঘরবাড়ি ভাঙা হয়েছে, ব্যবসা বন্ধ করা হয়েছে, চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সন্তানদের ভয় দেখানো হয়েছে। তবুও তাঁরা মাথা নত করেননি।

তাঁদের এই ত্যাগ আমি জানি। এই কষ্ট আমি অনুভব করি। আমার অনুপস্থিতি নীরবতা নয়। আমি দূরে থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আছি, আওয়ামি লিগের প্রতিটি কর্মীর ত্যাগ, সাহস ও বেদনার সঙ্গে আছি। কূটনৈতিক ভাবে, রাজনৈতিক ভাবে, আইনি পথে এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম অব্যাহত আছে। আওয়ামি লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রাখা যায়, কিন্তু জনগণের হৃদয় থেকে আওয়ামি লিগকে মুছে ফেলা যায় না। আওয়ামি লিগ বাংলার ইতিহাস, বাংলার সংগ্রাম, বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। মামলা দিয়ে, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে, ভয় দেখিয়ে, অপপ্রচার চালিয়ে এই দলকে শেষ করা যাবে না। আওয়ামি লিগ ৭৭ বছরের পথচলায় বহু বার আঘাত পেয়েছে, বহু বার রক্ত দিয়েছে, বহু বার ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আওয়ামি লিগ জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এবারও দাঁড়াবে।

বাংলাদেশ আজ দু’টি পথের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, আইনের শাসন, মানুষের ভোটাধিকার ও উন্নয়নের পথ। অন্য দিকে প্রতিহিংসা, মব-সন্ত্রাস, মৌলবাদ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্ধকারের পথ। বাংলাদেশের মানুষ কখনও অন্ধকারের পথ বেছে নেয়নি, এ বারও নেবে না। এই জাতি ১৯৫২ দেখেছে, ১৯৬৬ দেখেছে, ১৯৬৯ দেখেছে, ১৯৭১ দেখেছে। বাঙালি জাতিকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যায় না।

আওয়ামি লিগ ৭৭ বছরের পথচলায় বহু বার আঘাত পেয়েছে, বহু বার রক্ত দিয়েছে, বহু বার ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আওয়ামি লিগ জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এবারও দাঁড়াবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনা হবে। আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধার হবে। গণতন্ত্র ফিরে আসবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে এগিয়ে যাবে।

এই সময়ে আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব আরও বড়। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, জনগণের পাশে থাকতে হবে। প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি মহল্লা, প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি ইউনিয়নে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে হবে। নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী, শিশু, শ্রমজীবী মানুষ, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন থাকতে হবে। আওয়ামি লিগের রাজনীতি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়; আওয়ামি লিগের রাজনীতি মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার রাজনীতি।

আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি বাংলাদেশের মানুষের জন্য, আমার পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। এই পথ কঠিন, কিন্তু আওয়ামি লিগের ইতিহাস কঠিন পথ অতিক্রম করার ইতিহাস। আমরা পরাজিত হওয়ার জন্য জন্মাইনি। আমরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার জন্য সংগ্রাম করিনি। আমরা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য লড়েছি, লড়ছি এবং লড়ব।

১৯৮১ সালে আমি দেশে ফিরে এসেছিলাম গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়ে। আমি আমার বাবা-মা, ভাই-সহ পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষকে কখনও ছেড়ে যাইনি। এই দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকে কখনও পিছু হটিনি।

আমি আবারও ফিরব বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। আমি ফিরব গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের ভোটাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়ে। আমি ফিরব জনগণের শক্তিতে। বাংলাদেশের মানুষ ফিরিয়ে আনবে তাদের গণতন্ত্র, তাদের অধিকার, তাদের মর্যাদা।

দেশের সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক শক্তির আজ ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। ভয়কে জয় করতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে হবে। প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে হবে। মিথ্যা প্রচারণা, সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদ ও দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, জাতীয় চার নেতাকে, মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহিদ ও দুই লক্ষ নির্যাতিত মা-বোনকে, ১৫ আগস্টের শহিদদের, গণতন্ত্রের সংগ্রামে শহিদ আওয়ামি লিগ নেতা-কর্মীদের, এবং সাম্প্রতিক দমন-পীড়নে নিহত, আহত, পঙ্গু, কারাবন্দি ও ঘরছাড়া সকল সহযোদ্ধাকে। তাদের ত্যাগ বৃথা যাবে না। আওয়ামি লিগের সংগ্রাম থামবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবেই। ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মুহূর্তে শপথ একটাই— ভয় নয়, সাহস; বিভেদ নয়, ঐক্য; প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার; অন্ধকার নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকিত পথেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

বাংলাদেশ আওয়ামি লিগ জনগণের সঙ্গে ছিল, জনগণের সঙ্গে আছে, জনগণের সঙ্গে থাকবে। জনগণের শক্তিতেই আওয়ামি লিগ আবার ঘুরে দাঁড়াবে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে, দেশবিরোধী অপশক্তির সব ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে বাংলাদেশকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে এগিয়ে নেবে, জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণ করবে। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

তথ্যসূত্র: এই সময়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here