যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির পরও লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দুই দেশের মধ্যকার চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের কথা থাকলেও তা কার্যকর না হওয়ায় ইসরায়েলকে অঞ্চল ছাড়া করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি। সোমবার (২২ জুন) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসমাইল কানি বলেন, ইসরায়েল যদি নিজে থেকে সরে না যায়, তবে ২০০০ সালে দেশটি থেকে তাদের যেভাবে নিঃশর্তভাবে পিছু হটতে হয়েছিল, সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে এক পোস্টে কুদস ফোর্স প্রধান বলেন, ইসরায়েল যদি তাদের আগ্রাসন ও দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের অপমান ও পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিতাড়িত করা হবে।
তিনি বলেন, আপনারা যদি স্বেচ্ছায় দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে না যান, তবে ২০০০ সালের সেই মহাকাব্যের পুনরাবৃত্তি আবার ঘটবে। ওই বছর ইসরায়েল লেবানন থেকে চরম লাঞ্ছনা নিয়ে পালিয়েছিল। এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের নিতে হবে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অচলাবস্থা দেখা দিয়েছিল। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি সূত্রের বরাতে বলেছে, ট্রাম্পের হুমকি প্রকাশ হওয়ার পর ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনার টেবিলে ফিরতে অস্বীকার করেছিল। তবে পাকিস্তানি ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত ছিল।
অন্যদিকে আলোচনায় অংশ নেওয়া এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, ইরানিরা কখনোই আলোচনা ছেড়ে যায়নি। তারা গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা চালিয়েছে। আমরা হরমুজ প্রণালি, লেবানন পরিস্থিতি, পরমাণু ইস্যু এবং সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের খুঁটিনাটিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি।
মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা সোমবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কারিগরি কমিটি পরবর্তী আলোচনার জন্য সেখানেই অবস্থান করবেন। চুক্তিতে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং লেবাননসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২২ বছরের দখলদারিত্ব শেষে ২০০০ সালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ লেবানন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ দিনটিতে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর ২৫ মে লেবাননে ‘মুক্তি দিবস’ পালন করা হয়।
সূত্র: আল জাজিরা ।





