এইচএসসি কেন্দ্রে অভিভাবকদের বাড়তি উপস্থিতি

0
4

টানা আন্দোলন, পরীক্ষা স্থগিতের দাবি এবং পরীক্ষা শেষে লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে আজ বুধবার এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে অন্য দিনের তুলনায় বেশিসংখ্যক অভিভাবক সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছেন তারা। অধিকাংশ অভিভাবকরাই বলছেন, পরীক্ষা শেষে সন্তানদের একা ফিরতে দেবেন না, সঙ্গে করেই বাসায় নিয়ে যাবেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সপ্তম দিনের পরীক্ষা ঘিরে রাজধানীর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রসহ আশপাশের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কেন্দ্রগুলোর সামনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ গাছের ছায়ায়, কেউ ফুটপাতে, আবার কেউ কেন্দ্রের ফটকের আশপাশে অপেক্ষা করছিলেন। অনেকের মুখেই ছিল উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার ছাপ।

আজ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, পরীক্ষা শেষে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে।

সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন অভিভাবক নাসরিন আক্তার। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি দেখে ছেলেমেয়েদের একা পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে না। আজ পরীক্ষা শেষে মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই বাসায় ফিরব।

আরেক অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে হোক, সেটাই চাই। তবে পরীক্ষা শেষে কোনো কর্মসূচি থাকলে সন্তান যেন কোনো ঝুঁকিতে না পড়ে, সে জন্যই কেন্দ্রে অপেক্ষা করছি।

অভিভাবক আবদুল কাদের বলেন, সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার সময় কেন্দ্রে আসি। কিন্তু আজ পরিস্থিতির কারণে সকাল থেকেই এখানে আছি। ছেলে পরীক্ষা শেষ করে বের হলেই তাকে নিয়ে বাসায় চলে যাব। এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— দুর্যোগ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত; ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ।

তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি জানিয়েছে, জলাবদ্ধতার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here