মানুষের মৌলিক পাঁচ অধিকারের মধ্যে একটি হলো স্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু জলবায়ুর প্রভাবে প্রতিনিয়ত বাঁড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বৈশ্বিক বিবেচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সংবেদনশীল রোগের কারণে স্বাস্থ্য খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে জলবায়ুজনিত অভিঘাতে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়া, মাতৃস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং নারীর প্রতি সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
বিশুদ্ধ বাতাস, স্বচ্ছ ও নিরাপদ পানীয় জল, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং নিরাপদ বাসস্থান ও স্বাস্থ্য-এই মৌলিক চাহিদাগুলোকে প্রভাবিত করছে জলবায়ু পরিবর্তন। সাম্প্রতিক অতীতে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে শুধুমাত্র বিশ্ব-উষ্ণায়নের ফলে। জলবায়ু ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত ও সংবেদনশীল স্বাস্থ্য-সমস্যাগুলো, যেমন-অপুষ্টি, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু ইত্যাদি ভয়াবহ আকার নিতে চলেছে। আগে পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে ভৌগোলিক কারণে এগুলোর প্রকোপ ছিল না বা কম ছিল। জলবায়ু পরিবর্তন সেই অঞ্চলগুলোতে ভৌগোলিক সীমারেখা মুছে নতুন স্বাস্থ্য-সমস্যা সৃষ্টি করছে। বেশির ভাগ উন্নয়নশীল দেশের দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এই সমস্যার আকস্মিকতা ও ব্যাপ্তি সামলানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়। পরিবেশকে শীতল ও নির্মল করার সব উদ্যোগের পাশাপাশি উন্নততর যাতায়াত, খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহার স্বাস্থ্য-সমস্যার এই নতুন দিকটি সামাল দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হচ্ছে।
সমস্যার মূলে যে জলবায়ু পরিবর্তন, তা কীভাবে এমন মাত্রায় পৌঁছাল? গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের পরিবেশবিরোধী নানা রকম ক্রিয়াকলাপের ব্যাপক বৃদ্ধি এবং কয়লা, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, ওজোন, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর উপস্থিতি বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে উষ্ণতা বেড়ে গিয়ে তা প্রভাবিত করছে পৃথিবীর জলবায়ুকে। বিভিন্ন অঞ্চলে বদলে যাচ্ছে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের প্রকৃতি, পরিমাণ এমনকি ঋতুছন্দও। গত ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে পৃথিবীর উষ্ণতা প্রতি দশকে প্রায় দশমিক ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বেড়ে চলেছে। গলে যাচ্ছে হিমবাহ ও মেরু প্রদেশের বরফ। সমুদ্রতলের উচ্চতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠছে। ঠান্ডা বা গরমের তীব্রতা লক্ষণীয়ভাবে স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে নানা রকমের স্বাস্থ্যসমস্যা ডেকে আনছে। যেমন, তীব্র গরমে কার্ডিওভাসকুলার ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে, যা মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষত বয়স্করা এর শিকার হচ্ছে বেশি। উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এই ধরনের দূষিত আবহাওয়া শহরাঞ্চলে অ্যাজমার প্রকোপ বৃদ্ধি করছে। প্রচলিত চিকিৎসা ও পরিকাঠামো এটি মোকাবিলা করতে পারছে না। ফলে এক বিরাট জনগোষ্ঠী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই ঝুঁকি এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষকে উদ্বাস্তুতে পরিণত করেছে—যাদের এরই মধ্যে জলবায়ু উদ্বাস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের সংকট। এর মধ্যে ডায়রিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য। এ রোগে প্রতি বছর প্রায় ২২ লাখ মানুষ মারা যায়। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খরা ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি। মনে করা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৯০ সালের মধ্যে পৃথিবীতে খরায় আক্রান্ত এলাকা ব্যাপকভাবে বাড়বে। খরার ঝুঁকি বেড়ে যাবে দুগুণ। আর খরার গড় সময়কাল বেড়ে ছয় গুণে দাঁড়াবে। একইভাবে বাড়বে বন্যার সংখ্যা ও ভয়াবহতাও। ফলে পানিবাহিত রোগসহ নানা ধরনের সংক্রামক রোগের প্রকোপ বেড়ে যাবে।
বড় কথা হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের প্রভাবে খাদ্যশস্যের উৎপাদন যথেষ্ট কমে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন নানা কীটপতঙ্গের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। শামুক প্রজাতির প্রাণী ও বিভিন্ন শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর মাধ্যমে সাধারণভাবে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ হয়। পরিবর্তিত জলবায়ু এ ধরনের প্রাণীর মাধ্যমে রোগের জীবাণু সংক্রমণের কাল দীর্ঘায়িত করছে। চীনে শামুকজাতীয় প্রাণীবাহিত সিস্টোসোমিয়াসিস রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। সারা পৃথিবীতে অ্যানোফিলিস মশাবাহিত ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু দ্রুত ছড়াচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি রোগের প্রকোপ বাড়ছে। উচ্চ তাপমাত্রায় অনেক সময় কলেরার মতো ব্যাকটেরিয়াবাহিত রোগ মহামারির আকার নিতে পারে। একইভাবে বেড়ে যেতে পারে অ্যানিফিলিস মশাবাহিত ম্যালেরিয়া। কিউলেক্স মশাবাহিত জাপানি এনসেফেলইটিসের বাড়-বাড়ন্ত লক্ষ্য করা যায় বর্ষার আবহাওয়ায়, যখন বেশি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি তাপমাত্রা অন্তত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
প্রশ্ন হচ্ছে এই মুহূর্তে করণীয় কী? প্রাথমিকভাবে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্য খাতে সৃষ্ট নতুন নতুন সমস্যার মধ্যে সম্পর্কবিষয়ক আমাদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করা দরকার। তারপর স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাববিষয়ক একটি নির্দেশিকা তৈরি করা জরুরি, যেখানে রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রক্রিয়াটিকে সার্বিকভাবে তুলে ধরা হবে। প্রশাসন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানকে এ ক্ষেত্রে সমভাবে উন্নত করতে হবে। চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া ও এ থেকে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পরিকল্পনাগুলোকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণের উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় বিশেষীকরণ এবং পরিবেশনীতি ও স্বাস্থ্যনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
যদিও ‘হেলথ ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান (এইচ-ন্যাপ) ২০২৬-২০৩১’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতকে আরও সক্ষম করতে সরকারের নেওয়া হেলথ ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যানের গ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিকল্পনা বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে বিভিন্ন খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি জলবায়ু সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বল্প কার্বন এবং টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং রোগের ধরনে পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, জরুরি সেবা অব্যাহত রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্যোগের মধ্যেও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা, নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষা, তরুণদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এবং একটি কার্যকর ও সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ তৈরি হবে। পরিকল্পনাটি প্রণয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে সহায়তা দিতে পেরে ইউএনএফপিএ খুবই আনন্দিত হয়েছে। এতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং মন্ত্রণালয়ের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রোমোশন ইউনিটসহ বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য ও সুইডেন সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
উষ্ণতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও তাপপ্রবাহ (হিট স্ট্রোক) হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং পানিশূন্যতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, ডায়রিয়া, কলেরা এবং চর্মরোগের মতো পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়ায়। বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ও জলাবদ্ধতা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া বহনকারী মশার বংশবিস্তারকে ত্বরান্বিত করে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনের ফলে বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকা হারানোর কারণে মানুষ ট্রমা, বিষণ্ণতা ও মানসিক চাপে ভোগে।
নিরাপদ পানির উৎস নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। একইসাথে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পর্যাপ্ত ওষুধের মজুত রাখাও দরকার। মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা দরকার। এছাড়ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি। এর ফলে যেসব নেতিবাচক প্রভাব সারা বিশ্বে পড়বে, তার সবকিছুই বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য। এতে করে পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু অঞ্চল নিকট ভবিষ্যতে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এর কারণে লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি শিল্প কারখানায় পণ্য ও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে।
নিঃসন্দেহে, বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদে পরিচালিত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য লক্ষ্যটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই সংবেদনশীল। দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঝড়-বন্যার মতো দুর্যোগ এবং কোভিডের মতো মহামারিকালীন জরুরি অবস্থা সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করার মতো সহনশীল নয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তাও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ বাধা। এগুলোর কোনোটিই রাতারাতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্যোগ সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুর্যোগের প্রতিরোধ ও প্রস্তুতিতে বিনিয়োগ দুর্যোগ–পরবর্তী খরচের তুলনায় বহুগুণ লাভজনক। এতে সরকারের অর্থ সাশ্রয় হয়।
দ্বিতীয়ত, কম সম্পদওয়ালা দেশগুলোকে তাদের নিজের স্বার্থে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা দরকার। স্বাস্থ্য খাতের সাধারণ বাজেট থেকে যতটুকু সম্ভব সাশ্রয় করে, সেই অর্থ দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উপযোগী সফটওয়্যার তৈরি করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা দানকারী ক্লিনিক বা হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্য রেকর্ডকে ডিজিটাল করতে পারলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির প্রথম ধাপ পার করা যাবে। তৃতীয়ত, সদিচ্ছা থাকলে স্বল্প খরচেই স্বাস্থ্য রেকর্ড ডিজিটাল করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির আগাম বার্তা দেওয়ার কাঠামো যেমন—দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোর স্বাস্থ্যঝুঁকির মানচিত্র তৈরি করে স্থানীয় এবং সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা যায়। এর ফলে দুর্যোগের আগে কোথায় কোন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা লাগবে, তা দুর্যোগের আগেই প্রস্তুত রাখা ও পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি লক্ষ্য থাকলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট ব্যবহার করে জলবায়ু–সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জনবান্ধব, উন্নত এবং সাশ্রয়ী করাও অসম্ভব কল্পনা নয়।
আমরা মানি বা না মানি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে এক্ষুনি অনুভূত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও বেশি সংবেদনশীল। অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় সক্ষমতা উন্নয়ন—এই তিনটি স্তম্ভ একত্রে রূপায়িত করতে পারলে বাংলাদেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা শুধু দুর্যোগ মোকাবিলায় নয়, আগাম প্রস্তুতি ও দ্রুত পুনরুদ্ধারেও উদাহরণ হতে পারে।
সাজেদা হক, সম্পাদক, দেশইনফো.কম.বিডি।




