২৩তম কমনওয়েলথ গেমস উদ্বোধন

0
2

ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হয়েছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গ্লাসগোর দ্য হাইড্রো অ্যারেনায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজা চার্লস বলেন, ‘খেলাধুলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা এবং আমাদের পৃথিবীর প্রতি দায়িত্ববোধকে সঙ্গে নিয়ে আমরা যেন আরও সম্প্রীতিপূর্ণ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। তিনি বলেন, আগামী ১০ দিন গ্লাসগো আবারও কমনওয়েলথ পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানাবে। ২০১৪ সালের সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারও শহরটি বিশ্বের সামনে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দেবে।

ভাষণে রাজা গ্লাসগোর জনগণ, ক্রীড়াবিদ, আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

টেকসই পৃথিবী গড়ার আহ্বান রাজা চার্লসের
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার নাটকীয় আগমন। জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ডক্টর হু-এর কাল্পনিক সময়যান টার্ডিস থেকে মঞ্চে প্রবেশ করেন তারা। প্রায় আড়াই ঘণ্টার আয়োজনে স্কটল্যান্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি, সংগীত, প্রযুক্তি, শিল্প ও ঐতিহ্যের বর্ণিল উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

মার্চপাস্টে বাংলাদেশের লাল-সবুজ
উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মার্চপাস্টে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার ক্রীড়াবিদের সঙ্গে গর্বের সঙ্গে উড়েছে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাও। বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি। কিংস ব্যাটন রিলেতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সাঁতারু সোনিয়া আক্তার। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা হাজারো দর্শকের করতালির মধ্যে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা মার্চপাস্টে অংশ নিয়ে শুরু করলেন নিজেদের নতুন কমনওয়েলথ মিশন।

স্কটল্যান্ডের সংস্কৃতির বর্ণিল উপস্থাপনা
অনুষ্ঠানে স্কটল্যান্ডের লোককথার বিখ্যাত চরিত্র নেসি বা লক নেস দানবকে ঘিরে বিশেষ পরিবেশনা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। অভিনেতা স্যাম হিউগান ব্যাগপাইপের সুরে নেসিকে আহ্বান জানান। পরে শতাধিক ব্যাগপাইপার ও ড্রামার স্কটল্যান্ডের অনানুষ্ঠানিক জাতীয় সংগীত ফ্লাওয়ার অব স্কটল্যান্ড পরিবেশন করলে পুরো অ্যারেনা আবেগঘন পরিবেশে ভরে ওঠে।

এরপর নৃত্য, আলো, সংগীত ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে গ্লাসগোর এক দিনের জীবন, শিল্পবিপ্লব, শ্রম, সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। ন্যাথান ইভান্স, দ্য সেইন্ট ফিনিক্স, গাইয়া, আইভ, ক্যালাম বিটি, নিনা নেসবিট, কেটি টানস্টল ও টম ওয়াকার সংগীত পরিবেশন করেন।

অনুপ্রেরণার বার্তা
আনুষ্ঠানিক পর্বে কমনওয়েলথের পতাকা উত্তোলনের পর গেমসের শপথ পাঠ করেন স্কটল্যান্ডের বোলস কিংবদন্তি পল ফস্টার, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল তারকা রবিন লাভ এবং অ্যাথলেটিক্স কর্মকর্তা লেসলি রয়। কমনওয়েলথ স্পোর্টের সভাপতি ড. ডোনাল্ড রুকারে বলেন, আগামী কয়েক দিনে নতুন রেকর্ড গড়া হবে, নতুন চ্যাম্পিয়নের জন্ম হবে। এই গেমস দেখে কোনো এক শিশু হয়তো ভবিষ্যতে কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখবে—এটাই হবে এই আসরের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার।

গ্লাসগো ২০২৬-এর চেয়ারম্যান জর্জ ব্ল্যাক বলেন, গেমসের ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চিত ছিল, তখন গ্লাসগো প্রশ্ন করেনি তারা পারবে কি না; বরং জানতে চেয়েছিল, ‘কবে থেকে শুরু করছি?’

২১৫ স্বর্ণপদকের লড়াই
২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত গ্লাসগোর চারটি প্রধান ভেন্যুতে ১০টি ক্রীড়া ও ছয়টি প্যারা ক্রীড়ায় মোট ২১৫টি স্বর্ণপদকের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার ক্রীড়াবিদ।

বর্ণিল উদ্বোধনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো কমনওয়েলথ গেমসের আরেকটি নতুন অধ্যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here