‘ভোজিনহা’ নাম ব্যবহার করতে পারবেন না কেপ ভার্দের গোলরক্ষক!

0
3

ফুটবল বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের গোলপোস্টের নিচে চীনের দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গোলরক্ষক জোসিমার এভোরা দিয়াস। ফুটবলবিশ্বে তিনি ভোজিনহা নামেই বেশি পরিচিতি। সম্প্রতি চিলিয়ান ক্লাব কোলো কোলোতে যোগ দিয়েছেন তিনি। তবে নতুন ক্লাবে এক অনন্য নিয়মের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ৪০ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে। বিশ্বজুড়ে ভোজিনহা নামে পরিচিত হলেও ক্লাবের জার্সিতে এই নাম ব্যবহার করতে পারেবন না তিনি।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিলিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএনএফপি কড়া নিয়মের কারণেই এটি সম্ভব হচ্ছে না। চিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় জার্সিতে ডাকনাম, ছদ্মনাম বা সাংকেতিক নাম ব্যবহার করতে পারবেন না। জার্সির পেছনে খেলোয়াড়কে অবশ্যই তার বাবার বা মায়ের পারিবারিক নাম ব্যবহার করতে হবে। চাইলে মূল নামের প্রথম অক্ষর যোগ করা যাবে।

তাই ভোজিনহাকে তার নাম থেকে বেছে নিতে হবে—হয় এভোরা কিংবা দিয়াস। এএনএফপি যদি বিশেষ কোনো ছাড় না দেয়, তবে এই দুই নামের যেকোনো একটি দিয়েই তাকে মাঠে নামতে হবে।

পর্তুগিজ ভাষায় ‘ভোজিনহা’ শব্দটির অর্থ হলো ‘দাদি’ বা ‘নানি’। শৈশবে তিনি তার নানি মারিয়া সেনহোরিনহা ও নানা মানুয়েল দা লুজের কাছে বড় হন।

ছোটবেলায় বয়সে বড় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলার সময় ফাউল বা চোট পেলে তিনি রেগে যেতেন। তখন খেলার সঙ্গীরা ঠাট্টা করে বলতো- সে বোধহয় নালিশ জানাতে নানির কাছে দৌড় দেবে! সেখান থেকেই ক্ষ্যাপাতে ক্ষ্যাপাতে বন্ধুরা তার নাম দিয়ে দেয় ভোজিনহা, যা পরবর্তীতে পেশাদার ফুটবলেও তার পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।

ভোজিনহার আসল নাম জোসিমার রাখার পেছনেও রয়েছে এক সুন্দর ইতিহাস। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন ফুল-ব্যাক জোসিমার। সেসময় কেপ ভার্দের সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ভোজিনহার বাবা জিল পেদ্রো ব্রাজিলের খেলা দেখে মুগ্ধ হন। সেই স্মারকেই তিনি সদ্যোজাত ছেলের নাম রাখেন জোসিমার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here