চাকরি দেয়ার নামে ট্রেনিংয়ের কথা বলে টাকা নেয় উত্তরার ‘লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সপ্তাহ পার না হতেই চাকরিপ্রত্যাশীদের বলা হয়, ‘আরও দুজন নিয়ে আসেন, তাদের দেওয়া টাকার একটি অংশ আপনাদের দেওয়া হবে।’ যারা এ শর্ত মেনে আরও দুজন এনেছেন, তারা কিছু টাকা পেয়েছেন। আর যারা নতুন দুজনকে আনেননি তাদের নির্যাতন করেছে কোম্পানির ভাড়াটে লোকেরা।
শনিবার (২৮ এপ্রিল) রাতে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ভুয়া এমএলএম কোম্পানি লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান, ডিস্ট্রিবিউটর মো. গোলাম কিবরিয়া, ইনচার্জ মো. রাশেদুর রহমান সুমনসহ ২৩ জনকে আটক করেছে র্যাব-১১-এর একটি দল। একইসঙ্গে চাকরিপ্রত্যাশী ৩১ জন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১১-এর অপারেশনস অফিসার এএসপি মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘এই এমএলএম কোম্পানি মাসে ১৬ হাজার ও তার বেশি টাকার বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর ভিন্ন তিনটি প্যাকেজে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে যথাক্রমে ২৭ হাজার ১০০, ৩৭ হাজার ১০০ ও ৪৭ হাজার ১০০ টাকা নেয়। পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের নামে সপ্তাহখানেক কালক্ষেপণ করে প্রত্যেককে নতুন দুজন সদস্য সংগ্রহের শর্ত দেওয়া হয়। নতুন সদস্য সংগ্রহ করে দিলে সংগৃহীত টাকার সামান্য কমিশন দেয়।’
নাজমুল হাসান বলেন, ‘যারা নতুন সদস্য সংগ্রহ করে দিতে পারেননি তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে খালি স্ট্যাম্প ও আপসনামায় জোর করে সই নিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।’ আর যারা প্রতিবাদ করে তাদের কোম্পানির ভাড়া করা লোকজনকে দিয়ে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হতো বলে জানিয়েছেন এএসপি মো. নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন ৩১ জন ভিকটিম উদ্ধার করেছি। যারা প্রত্যেকে চাকরির ট্রেনিংয়ের জন্য প্যাকেজ অনুযায়ী টাকা দিয়েছেন।’
আটককৃতরা হলো কোম্পানির পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান (৪৫), ডিস্ট্রিবিউটর গোলাম কিবরিয়া (৩৯), ইনচার্জ রাশেদুর রহমান সুমন (৪০), সুমন (১৯), মো. রবিন (১৭), আমিনুল ইসলাম সোহেল (২৪), মো. মাহবুবুর রহমান (২৪), মো. রুহুল আমিন (২৫), মোহাইমিনুল ইসলাম (২৮), সজীব হোসেন (২৪), মো. ইমন মিয়া (১৮), মো. সাইফুল ইসলাম (২৬), মো. শরীফুল ইসলাম (২৪), মো. আরিফুল ইসলাম (২৫), মো. নাঈম (২২), আবুল কালাম (৩২), মো. সাকিব (২৫), আমজাদ হোসেন (২০), মো. হরমুজ আলী (১৯), মো. শাহিন ইসলাম (২৪), দেলোয়ার হোসেন (২৫), নয়ন চন্দ্র রায় (২৫) ও বিটু মিয়া (২৪)।
অভিযানে কোম্পানির অফিস থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩৭টি মোবাইল, ৫টি কম্পিউটারের মনিটর, ২টি সিপিইউ, ২টি টেলিভিশন, ১টি প্রিন্টার, ১টি ল্যাপটপ, ১টি ওয়াটার ফিল্টার, ২টি স্পুন সেট, ১টি ফিরনি সেট, ১০টি স্যুপ পিচ, ২টি ডিনার সেট, ৬টি ফুড পট পিচ, ২টি হটপট সেট, ৪টি ব্লাংক সাইন ষ্ট্যাম্প পেপার, ১টি ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স, নগদ ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭২৫ টাকা ও বেশ কিছু ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়।