নিত্যানন্দ হালদার, মাদারীপুর: কবিগানের সুরে ও তালে মাদারীপুরের লাখ দর্শকদের মাতিয়ে গেলেন দুই বাংলার প্রখ্যাত কবি সম্রাট অসীম সরকার ও অমল সরকার। দুই বাংলার কবিয়ালদের কবি গান শুনতে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর ও ফরিদপুরের লক্ষাধিক শ্রুতা উপস্থিত হয়েছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের বাহাদুপুর বৈকুন্ঠ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।
কৃষ্ণকান্ত ভক্তের স্মৃতি রক্ষার্থে তিন দিনব্যাপী কবি গানের আয়োজন করা হয় বিদ্যালয় মাঠে। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে তিন দিনব্যাপী কবি গানের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার দুপুর হতে না হতেই অর্ধ লক্ষাধিক শ্রোতা হাজির হয়ে যায় স্কুল মাঠে।
মাঠের মাঝখানে তৈরি করা মঞ্চে দুই কবিয়ালের বাগযুদ্ধ এবং প্রশ্নোত্তর আলোচনায় মুগ্ধ হন লাখো দর্শক-শ্রোতা। বাঙালি লোকসংস্কৃতির একটি অন্যতম ধারা হচ্ছে কবিগান। গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া কবিগানের আয়োজন করেছেন বাহাদুরপুর, চৌহদ্দি, উত্তর কলাগাছিয়া, আড়িয়াকান্দি ও কমলাপুর গ্রামের তরুণেরা।
এর প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় হলেন ব্যবসায়ী কমলেশ-ভক্ত।
মনোমুগ্ধকর এই আয়োজন কেউ দাঁড়িয়ে আবার কেউবা মাটিতে চট বিছিয়ে বসে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করলেন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় কেবল টিভির মাধ্যমে লাইভ দেখানো হয়।এমনকি প্রজেক্টরের মাধ্যমে গান শোনা ও দেখানোর ব্যবস্থাও করা হয়। কবিগানের উৎসবকে দর্শকদের কাছে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলতে আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আলোকসজ্জা করা হয়।
কবিগান উপলক্ষে স্কুলমাঠের চারপাশে বসেছিল সহস্রাধিক বিভিন্ন পণ্যের দোকান।মাদারীপুরের কদমবাড়ী ও বাজিতপুরের চৌরাশী বিষ্ণুপ্রিয়া সেবাশ্রম সংঘে প্রায় দুই শত বছর পূর্ব থেকে কবি গানের আয়োজন করা হলেও হঠাৎ কর্ দুই বাংলার কবি সম্রাট অসিম সরকারের কবি গানের আয়োজন করায় কবি গান পাগল দর্শক শ্রোতারা আরো বেশি কিছু পাওয়ার জন্য উপস্থিত হলেন এ কবি গানের আসর উপভোগ করতে।
কবি গানের সমাপনী রাতে পুরো বিদ্যালয় মাঠ ও আশ পাশের কোথায়ও তিল পরিমান জায়গা ফাঁকা ছিল না। ঘটেছিল সকল ধর্মের মানুষের মিলন মেলায়।এ গানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে আরো গাঢ় করে তুলেছে।
মাদারীপুর ছাড়াও পার্শ্ববতী জেলা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে প্রতি রাতেই কবি গান শুনতে এসেছিল শতাধিক ট্রলার ভরে দর্শক শ্রোতারা।এছাড়াও শরিয়তপুর, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে শ্রোতা এসেছিল কবি সম্রাটের কবিগান শুনতে। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী কবিগান শুনে অনেকেই খুশি।আবার অনেকেই হারিয়ে গেছেন সেই পুরোনো দিনে।
কবি গানের প্রধান উপদেষ্টা মাদারীপুর জেলা পরিষদের সদস্য এ্যাডভোকেট যতীন সরকার বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কবিগান আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।তাই এখানে কবি গানের আয়োজন করায় দর্শক- শ্রোতারা স্বল্প সময়ের জন্য হলেও খুঁজে পেয়েছে সেই পুরোনো আনন্দ।
কবিগানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক কমলেশ ভক্ত বলেন, আমার বাবা কৃষ্ণকান্ত ভক্ত কবি গান ভাল বাসতেন।তাই বাবার স্মৃতি রক্ষার্থে আমার এলাকার পাঁচ গ্রামের তরুণদের নিয়ে সবার সহযোগিতায় এ কবিগানের আয়োজন করেছি।এর আগে এখানে এমন উৎসব হয়নি।এর মাধ্যমে শ্রোতারা বাঙালির ঐতিহ্যকে জানতে পেরেছেন।
ভারত থেকে প্রখ্যাত কবিয়াল অসীম সরকার, অমল সরকারসহ ১৩ জনের একটি দল আমাদের এখানে তিন দিনব্যাপী কবিগান পরিবেশন করেন। তিনি বলেন, দর্শকদের আগমনই প্রমাণ করে দেয় যে তাঁরা কবিগানকে কতটা ভালোবাসেন।
প্রতি বছর এধরণের কবি গানের আয়োজন করা হলো কবিগান শুনে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি হবে এবং গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে এলাকাবাসী মনে করেন তিনি।