বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরতে চাই: প্রিয়তা ইফতেখার

0
201

দেশইনফো ডেস্ক: বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলির একটি হলো পুরান ঢাকার ঘুড়ি উৎসব। উৎসবের উৎপত্তি ঢাকা হলেও তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। প্রতি বছরের মতো এবারো বিচ্ছিন্নভাবে এ উৎসব উদযাপন করেছে ঢাকাবাসীসহ সারাদেশের মানুষ। বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব থাকায় আয়োজনের ব্যাপ্তি কম ছিলো।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ বছর ‘সাকরাইন’ উৎসব উদযাপিত হয়েছে। কিন্তু করোনা মহামারী স্বত্ত্বেও এমন ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবে কিভাবে মানুষ উদযাপন করছে তা পর্যবেক্ষন করেছে ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (ইউএস সিডিসি) এবং তাদের এশীয় সহযোগী সংস্থা সেফটিনেটের কর্মকর্তারা।

শুরুতে এই ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠানের আংশিক সমর্থন করেছিল তারা। সেফটিনেট  এর বাংলাদেশে কান্ট্রি ডিরেক্টর কর্নেল ডাঃ সৈয়দ হাসান আব্দুল্লাহ (অবঃ) জানান, এই চলমান মহামারীর সময় “নতুন সাধারণ জীবনযাত্রা” য় নিরাপদে উৎসব পালনের প্রচারের উপায় হিসাবে এই অনুষ্ঠানটি তে তারা অংশ নিয়েছেন।

সেফটিনেটের এশিয়ার দেশগুলিকে তাদের জনস্বাস্থ্য এবং রোগতত্ত্ববিদ্যায় আরো সক্ষমতা লাভে সহায়তা করে আসছে। যদিও তাদের ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং ভারতে কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, বাংলাদেশে তাদের কাজ শুরু মাত্র।

বাংলাদেশ এই মহামারীর ক্রান্তিকাল কিভাবে অতিক্রম করেছে, কিভাবে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও  বিশেষজ্ঞরা রোগ ব্যাবস্থাপনায় ভুমিকা রেখেছেন–সেই প্রয়াসের দালিলিক সংরক্ষণে সেফটিনেট প্রাথমিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরেনর মহামারী তে বাংলাদেশ অতীত থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

এছাড়া দেশের ১২ টি সিটি কর্পোরেশনগুলির স্বাস্থ্য জনবলের সক্ষমতা অর্জন এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক রোগতত্ত্ববিদ বা ডিজিজ ডিটেকটিভ তৈরির জন্য সেফটিনেট দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কার্যকরী ইতিবাচক ভুমিকা রাখার বিষয়ে সেফটনেট প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

‘সাকরাইন’ উৎসবকে ঘিরে এদিন একখন্ড ছাদ যেনো হয়ে উঠেছিল সমগ্র বাংলাদেশ। দেশীয় ঢোলের তালে আকাশে রংবেরংরে ঘুড়ি উড়ানো আর সেই ঘুড়ির সুতাকাঁটা, ফানুস উড়ানো এবং আতশবাজির আয়োজন যেন রীতিমত উৎসব। উৎসবকে ঘিরে সকলের রং বেরংয়ের পোশাক আর উচ্ছ্বাস ছিলো আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ।

মূলত পৌষসংক্রান্তিকেই ঘুড়ি উৎসব হিসেবে উদযাপন করে বাঙ্গালী। সংস্কৃত শব্দ ‘সংক্রান্তি’ পরবর্তীতে ‘সাকরাইন’ রূপ নিয়েছে। পৌষ ও মাঘ মাসের সন্ধিক্ষণে, এ উৎসব উদযাপন করেন ঢাকাবাসী। তবে পুরান ঢাকায় পৌষসংক্রান্তি বা সাকরাইন সার্বজনীন ঢাকাইয়া উৎসবের রূপ নিয়েছে।

বর্তমানে দিনভর ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি ও রঙবেরঙ ফানুশে ছেয়ে যায় বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী শহরের আকাশ। ‘সাকরাইন‘ বাংলাদেশি সংস্কৃতির একটি জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ  উৎসব। এটাকে ঐক্য এবং বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সেই ঐক্য এবং বন্ধুত্বকে বিশ্বময় পরিচিতি করিয়ে দিতেই নাসিরউদ্দিন স্মৃতি ভবন নামে পরিচিত বাংলাদেশের প্রথম মহিলা সাংবাদিক নূরজাহান বেগমের বাড়িতে জমজমাট এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিলো।

প্রথমবারের মতো এমন উৎসবে অংশ নিতে পেরে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। উৎসবে সন্তানসহ যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের মানুষ ছোট ছোট আয়োজনেও কতটা রঙ্গিন তা নিজের চোখে দেখে বিস্মিত তিনি।

শুধু মার্কিন রাষ্ট্রদূতই নন, দ্য ফ্লাগ গার্ল খ্যাত প্রিয়তা ইফতেখারের সাথে উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত গুনার ইউরিয়া, সুইজারল্যান্ডের দূতাবাসের সহ-উপ-প্রধান মিসেস করিন হেনচোজ পিগানানি, আফগানিস্তান দূতাবাসের উপ-প্রধান  মিঃ ফাওয়াদ আহমদ, সুইডেনের দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব গ্যাব্রিয়েল জজোর্ট, ফিলিপাইন দূতাবাসের  তৃতীয় সেক্রেটারি এবং ভাইস কনসাল ক্রিশ্চিয়ান হোপ ভি রেয়েস, রেডিসন ব্লু ঢাকার মহাব্যবস্থাপক আলেকজান্ডার হিউসলারসহ প্রায় ৩০ জন অতিথি অংশ  নেন।

মূলত বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের কাছে বাংলাদেশের এ ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবের বৈশিষ্ট এবং ধরণকে পরিচিত করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করেন ‘মিস কালচার ওয়ার্ল্ডওয়াইড ২০১৮’ শিরোপা  জয়ী প্রিয়তা ইফতেখার। দেশে বিদেশে প্রিয়তা ইফতেখার পরিচিতি পেয়েছেন বাংলাদেশের ‘দ্য ফ্ল্যাগ গার্ল’ বা ‘পতাকা বালিকা’ হিসেবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এর আগে থেকেই তিনি ট্রাভেল, ভিডিও ব্লগিং, ফিল্ম মেকিংসহ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

২০০৮ সালে প্রিয়তা প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘দি ফ্ল্যাগ গার্ল’ নামের একটি নেটওয়ার্ক। এ নেটওয়ার্ক কাজ করছে দেশ ও বিদেশের নারীদের নিয়ে। তবে নেটওয়ার্কের সদস্যদের মধ্যে নারী-পুরুষ সবাই আছেন। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ৩০০। ৫০ শতাংশ সদস্য বাংলাদেশি। অন্য ৫০ শতাংশ সদস্যদের বাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত নূরজাহান বেগম হলেন প্রিয়তার নানি। আর নানা হলেন কচি-কাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা, সাংবাদিক রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই)। তবে এই পরিবারে বড় হয়েও প্রিয়তা প্রথম যখন আমেরিকা যাওয়ার সুযোগ পেলেন তখন মা রীনা ইয়াসমিন আহমেদ পাসপোর্টটি লুকিয়ে রাখলেন। অবিবাহিত মেয়ে কেন একা একা বিদেশ যাবে তাই নিয়ে শুরু হয় নানান অশান্তি। তখন থেকেই নেটওয়ার্কের চিন্তা মাথায় আসে প্রিয়তার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্ধু তৈরি করাই দি ফ্ল্যাগ গার্ল নেটওয়ার্কের মূল কাজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here