ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীদের দমন করতে অভিযানের উদ্দেশে প্রায় রওনা হয়ে গিয়েছিল মার্কিন বিমান বাহিনী; কিন্তু শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিলের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত রোববার ঘটেছে এ ঘটনা।
এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধে হুথি গোষ্ঠীকে দমনে ইয়েমেনে বিমান অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই অনুযায়ী রোববার রাতে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল মার্কিন বিমান বাহিনী।
সব প্রস্তুতি শেষে, এমনকি বিমানে বোমা-গোলাবারুদ লোড করার পর যখন অভিযানে যাওয়ার জন্য উদ্যত হন মার্কিন বিমান-সেনারা, সে সময়ে হঠাৎ অভিযান বাতিলের নির্দেশ আসে হোয়াইট হাউস থেকে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং এ নির্দেশ দেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর এ ব্যাপরে আরও বিস্তারিত জানতে মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানরত মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। সেন্টকমের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী হোয়াইট হাউসেও যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স; কিন্তু হোয়াইট হাউসের কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেনের মোট ৪টি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকার, যেটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, সেই সরকারের প্রেসিডেন্ট রাশিদ আল-আলিমি আজ সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে টেলিফোন করে বিমান অভিযান পরিচালনার জন্য অনুরোধ করেছেন; কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাত শুরু হয় সৌদি আরবের। তার দু’দিন পর ১০ সেপ্টেম্বর হুথিদের দমনে প্রথমবারের মতো ট্রাম্পের কাছে বিমান অভিযান সহায়তার অনুরোধ করেন সৌদি যুবরাজ; কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই অনুরোধ নাকচ করে দেন। পরে মার্কিন কর্মকর্তারা সৌদি আরবের সরকারকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মুহূর্তে ইরান এবং হরমুজ প্রণালিকে তেহরানের কব্জামুক্ত করতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার পক্ষপাতি। এ কারণে অন্য কোথাও সামরিক অভিযান পরিচালনার ব্যাপারটি এড়িয়ে যেতে চান তিনি।
তবে তার পরের দিন ১১ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডে হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা না করার ইঙ্গিত দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হুথিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে কোনো লড়াই করতে চায় না। তারা চায় আমরা যেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিই।”
সূত্র : রয়টার্স।









