যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘অবিশ্বাস’ এখনও রয়েছে: ইরান

0
2

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে তেহরান এখনও আগ্রহী, তবে এজন্য সবার আগে প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা পুরুদ্ধার করা। গত কাল শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে আছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।

সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, “আমরা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যেসব প্রতিশ্রুতি লিপিবদ্ধ করেছি, সেসব আমাদের দু’পক্ষেরেই মেনে চলা উচিত। আর যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এটা পরিষ্কার করতে হবে যে আমাদের সরকার এবং প্রশাসনের পতন ঘটানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।”

মার্কিনি নাগরিকদের ইরানের বর্তমান অবস্থান বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “বর্তমানে আমরা যে অবস্থানে আছি, সেখানে একবার নিজেদের রাখুন এবং কল্পনা করুন যে কেউ এসে আপনাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করল; আর তার পর, যেসব বিষয়ে আপনার একমত হয়েছিলেন— সেসবের কিছুই মানল না। তখন আপনাদের কী প্রতিক্রিয়া হতো? এটা এমন কোনো ব্যাপার নয় যার সমাধান খুব সহজে করা সম্ভব।”

যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই বিরোধের সমাধান চায় কি-না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট; বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের প্রশাসনের পতন ঘটানো। ইসরায়েলের নিজেদের বক্তব্যে ইতোমধ্যে তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এখানে মূল লক্ষ্য হলো একটি দেশের সরকারকে অকার্যকর করা, আলোচনা নয়।”

“আপনারা মনে করেন যে আমাদের সঙ্গে সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই আগ্রহী? যদি তা-ই হয়, তাহলে কেন আলোচনার মাঝখানে তাদের সেনাবাহিনী আমাদের ওপর বোমা ফেলে? কেন তারা এসে আমাদের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা এবং সাধারণ জনগণকে হত্যা করে?”

“প্রতিদিন তারা যেসব পদক্ষেপ আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, সেসব বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন।”

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিত্যনতুন নিষেধাজ্ঞা, হুমকি ও হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “ওয়াশিংটন লিখিত প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনা। তাহলে তারা যদি ফের আলোচনায় বসে, শেষ পর্যন্ত কি তা মেনে চলবে?”

ইরানের প্রেসিডেন্ট অবশ্য এখনও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা ত্যাগ করেননি। শুক্রবারের সাক্ষাৎকারে সিএনবিসিকে তিনি বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সময় এবং সুযোগ এখনও আছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি গণহত্যায় অভিযুক্ত ইসরায়েলকে সহযোগিতা করা স্থগিত করে, শিশু, বেসামরিক লোকজন, বিজ্ঞানী, হাসপাতাল, স্কুলে বোমা ফেলা বন্ধ করে এবং ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতাপূর্ণ ভূমিকায় আসে— কেবল তাহলেই শান্তি সম্ভব।”

২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, যাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এর জবাবে তেহরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইসরায়েলি ও মার্কিন স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।

জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও—এবং পরবর্তীতে আলোচনার ক্ষেত্রে অচলাবস্থা দেখা দিলেও—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখে।

বর্তমানে যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি পণ্য সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচার সংক্রান্ত মতপার্থক্যের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনা বর্তমানে থমকে আছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here