‘অভিষেক’ ম্যাচে অভিশাপ ঘুচালেন জিদান

0
3

জিনেদিন জিদান ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জিতেছেন ফ্রান্সের হয়ে। কোচিং ক্যারিয়ার শুরুর পর তিনি অনেকদিন ধরেই জাতীয় দলকে কোচিং করানোর স্বপ্ন বুনছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর দিদিয়ের দেশম ইস্তফা দিতেই তার স্বপ্ন পূরণ হলো। কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে পেয়ে ফ্রান্সও উজ্জ্বীবিত। নিজ দেশের কোচ হয়ে ‘অভিষেক’ ম্যাচে ৩২ বছরের একটি অভিশাপ ঘুচলেন জিদান।

গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাতে উয়েফা নেশন্স লিগের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে স্বাগতিক তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। এর মধ্য দিয়ে ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রথম কোচ হিসেবে ১৯৯৪ সালের পর জিদান প্রথম ম্যাচেই জয় পেলেন। সর্বশেষ এমন কীর্তি গড়েছিলেন আইমে জ্যাকে। ১৯৯৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নেপলসে ইতালির বিপক্ষে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে জিতিয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন জিদানের সাবেক সতীর্থ ইউরি জর্কেফ।

জ্যাকে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জিদানের আগমন পর্যন্ত ফ্রান্সের দায়িত্বে ছিলেন আরও পাঁচ কোচ। ফরাসি সংবাদপত্র লেকিপে–র তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউই প্রথম ম্যাচে জয় পাননি। ১৯৯৮ সালে রজার লেমেরের অধীনে প্রথম ম্যাচে ফরাসিরা অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল। ২০০২ সালে কোচ জ্যাক সান্তিনির প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ফ্রান্স।

২০০৪ সালে রেমন্ড ডোমেনেখের অভিষেক ম্যাচেও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষেও ফ্রান্স একই ফল (১-১) পায়। ২০১০ সালে ফ্রান্সের কোচ হন লরাঁ ব্লাঁ, তার প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় দলটি। এরপর ২০১২ সালে জাতীয় দলের দায়িত্বে নিজের প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেন দিদিয়ের দেশম।

জিদানের শুরুতে অবশ্য রয়েছে বিশেষ এক ঐতিহাসিক যোগসূত্র। ১৯৯৪ সালের আগস্টে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে খেলোয়াড় হিসেবে জিদানকে ফ্রান্সের হয়ে প্রথমবার মাঠে নামার সুযোগ দিয়েছিলেন সেই আমে জ্যাকে। ম্যাচ শেষে জিদানও উপলক্ষটির গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

টিএফ১–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিদান বলেন, ‘অনেক আবেগ কাজ করছে। এটি প্রথম ম্যাচ, আর জয় দিয়ে শুরু করা কখনোই সহজ নয়, বিশেষ করে তুরস্কের মাঠে। আমার মনে হয়, আমাদের যে ধরনের ম্যাচ খেলা দরকার ছিল, আমরা সেটাই খেলেছি। আমরা প্রতিপক্ষকে খেলতে দিইনি। বেশ উঁচু জায়গা থেকে তাদের প্রেস করেছি এবং বল পুনরুদ্ধারের সময় ছিলাম খুবই আগ্রাসী। বল পায়ে থাকলে কী করতে হবে, সেটিও আমরা ঠিকভাবে করতে পেরেছি।’

‘আমরা মাত্র সাড়ে তিনটি অনুশীলন সেশন একসঙ্গে করেছি। তারপরও আমি অনেক ইতিবাচক দিক দেখেছি। এটি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। খেলোয়াড়রা যা করেছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট। আর এই অভিষেকটা এভাবে হওয়ায় আমি খুশি’, আরও যোগ করেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী এই ফরোয়ার্ড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here