ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারকে চার দফায় অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান

0
2

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ৪টি কার্গো বিমানে করে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে পাকিস্তান। সেপ্টেম্বরে এসব অস্ত্র ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পাঠানো হয় বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানি সরকারি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, পাঠানো সরঞ্জামের মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া সৌদি আরবের সেনাদের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক উপদেষ্টারাও ইয়েমেনে অবস্থান করছেন। তারা সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইয়েমেনে হুতিদের সামরিক অভিযান জোরদারের মধ্যে পাকিস্তানের এই সহায়তা এসেছে। একাধিক পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, হুতিদের মোকাবিলায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। হুতিরা বর্তমানে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিয়ন্ত্রণ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাইজ শহরের আশপাশে তীব্র লড়াই চলছে।

বৃহস্পতিবার হুতিরা তাইজের সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকা ও এডেনের মধ্যে সংযোগকারী একটি সেতু ধ্বংস করেছে। হুতিরা তাইজ দখল করতে পারলে উত্তরের সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে এডেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। এতে সরকারি বাহিনীর সরবরাহব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবও বিমান হামলা বাড়িয়েছে। হুতিদের দাবি, বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে ৯৪টি হামলা চালিয়েছে। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

সৌদি আরব জানিয়েছে, একই দিনে সানা শহরে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ অভিযান চালানো হয়েছে এবং সাদায় ১১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে। তাইজে একটি ‘সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থার’ ওপর ২৭টি বিমান হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে রিয়াদ। অন্যদিকে হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সৌদি আরব বৃহস্পতিবার হুতিদের বিরুদ্ধে মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, একটি ড্রোন নবীজি (সা.)-এর মসজিদে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। তবে হুতিরা ওই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে কয়েক দশকের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। আগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করার পর ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সামরিক সহায়তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগর উপকূল ধরে অগ্রসর হয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি করলেও পাকিস্তান ও তুরস্ক তখন সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্ত থাকায় ইসলামাবাদকে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিজস্ব নিরাপত্তা উদ্বেগ—দুই দিকই বিবেচনা করতে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার এখনো যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি। পাকিস্তানের মতো যুক্তরাষ্ট্রও ইয়েমেনে সামরিক উপদেষ্টা ও অস্ত্র ব্যবস্থা পাঠিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি আরব আরও আঞ্চলিক মিত্র খুঁজছে। এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কও জোরদারের চেষ্টা করছে রিয়াদ। ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে আগে মতপার্থক্য ছিল।

মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রিয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মানসুর বিন জায়েদকে স্বাগত জানান।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here