শাহজালালে পৃথক অভিযানে স্বর্ণ উদ্ধার

0
3

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক দুটি অভিযানে একদিনে প্রায় সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। রোববার (৪ অক্টোবর) বিমান বন্দরে ঢাকা কাস্টমস, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়েছে বলে এনবিআরে জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে।

অভিযানে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এক যাত্রীর শরীর থেকে ৪.৫ কেজি এবং দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৯.৩৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই ঘটনায় উদ্ধার স্বর্ণের মোট পরিমাণ ১৩.৮৪ কেজি। বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দুবাই থেকে ঢাকায় আসা ‘এমিরাটস এয়ারলাইন্স-এর ইকে ০৫৮২’ ফ্লাইটের রানওয়েতে দুই বিমানকর্মীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতরে লুকানো ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন প্রায় ৯.৩৪ কেজি। যার বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি।

বিমানকর্মীদের জুতার ভেতরে স্বর্ণবার লুকিয়ে চোরাচালানের এ কৌশল সামনে আসার পর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দারা। বিমানকর্মীদের মাধ্যমে স্বর্ণ পাচারের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র রয়েছে কি না, থাকলে ওই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

অন্যদিকে শনিবার দিবাগত রাতে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় আসা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এমএইচ-০১৯৬ ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ৪.৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টমস হাউস। আটক যাত্রীর নাম মি. ইয়াং ডন সিউ। তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক।

কাস্টমস সূত্র জানায়, ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণের পর থেকেই ওই যাত্রীকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে তিনি ব্যাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল-১ অতিক্রম করার সময় তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় তার শরীরে বিশেষ কায়দায় বহন করা স্বর্ণবারের সন্ধান পাওয়া যায়। আনুমানিক রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তার শরীর থেকে ৯টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য ৮ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানা গেছে।

স্বর্ণবারগুলো একটি কালো কাপড়ের বেল্টে মোড়ানো অবস্থায় তার শার্টের নিচে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ওই যাত্রী কোনো ব্যাগেজ ঘোষণা দেননি এবং স্বর্ণের বৈধতার পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথি বা দলিলও দেখাতে পারেননি। উভয় ঘটনায়ই ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here