ঋণের নামে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো: নূরুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)র আবেদনের শুনানি শেষে গত ২১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া এ আদেশ দেন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন দুদকের প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।
এর আগে নূরুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো: সহিদুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, নুরুল ইসলাম একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয়ে অবৈধভাবে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ৭ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি বর্তমানে অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অনুসন্ধানের বিষয়টি রাষ্ট্রের স্বার্থে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অনুসন্ধানকালে গোপন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য,মাফিয়া আওয়ামী সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে কথিত ‘ব্যবসায়ী গ্রুপ’র চেয়ারম্যান মো: নূরুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। বিপরীতে জামানত রাখেন বিরোধপূর্ণ ও নামমাত্র মূল্যের সম্পত্তি। নিজের স্ত্রী-সন্তান এমনকি শিশুর নামে কাগুজে প্রতিষ্ঠান খুলে একই সম্পত্তির একাধিক দলিল তৈরি করেন তিনি। বন্ধক রাখেন পুরাতন মেশিনারিজও। অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গত দেড় দশকে তিনি ইসলামী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, রূপালীব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেন বিপুল অর্থ। ঋণের টাকায় ঋণ শোধ করার চাতুর্যপূর্ণ কৌশলের কারণে কোনা ব্যাংকই তাকে ‘খেলাপি’ ঘোষণা করেনি। তাকে ‘ভালো ঋণ গ্রহিতা’ গণ্য করে ঋণের ওপর ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো। শেখ হাসিনা,ওবায়দুল কাদের,সাবেক মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, শেখ হাসিনা ঘনিষ্ট বিপ্লব বড়ুয়া,সম্পদ বড়ুয়া, শেখ হাসিনার সামরিক সচিব মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বাচ্চুসহ প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের সহযোগিতায় লুট করেন এসব অর্থ।
ঋণের নামে নেয়া অর্থে গড়ে তোলেন পর্বত সমান সম্পদ-সাম্রাজ্য। মালয়েশিয়ায় করেন সেকেন্ড হোম। সিঙ্গাপুর, দুবাই, সউদী আরবেও বিনিয়োগ করেন অর্থ। এ বিষয়ে দৈনিক ইনকিলাব একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য আমলে নিয়ে দীর্ঘদিন গোপন অনুসন্ধান করে সংস্থাটি। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত এবং দেশ ত্যাগ করেন। সঙ্গে সঙ্গে সুর এবং জার্সি বদল করেন নূরুল ইসলাম। অস্থি-মজ্জ্বায় আওয়ামী ভাবাপন্ন কথিত এই ব্যবসায়ী এখন পুরোদস্তুর ‘জামাত-বিএনপি’র কাছের লোক’। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় দুদকের। নোমান গ্রুপের বিরুদ্ধে শুরু হয় প্রকাশ্য অনুসন্ধান। এরই সর্বশেষ পর্যায়ে কমিশন প্রথমে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম এবং পর্যায়ক্রমে তার স্ত্রী-সন্তানদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।





