অনুরিমা খান: বাবা কন্যার অডিও আমাকে সারারাত ঘুমাতে দেয়নি। কাঠগড়ায় র্যাব, সত্য-মিথ্যা যাচাই হয়তো পরে হবে। শারীরিকভাবে একরাম নাই হয়ে গেছে সপ্তাহখানেক। অভিযোগ ছিল মাদক ব্যবসার।
কিন্তু এই একরামকে সামাজিকভাবে নাই করা হয়েছে আরও পাঁচ বছর আগে। তাকে মাদক সম্রাট বানিয়েছিলো আমাদের মিডিয়া। দিনের পর দিন রিপোর্ট বানানো হয়েছে কমিশনার একরামকে নিয়ে। সামাজিকভাবে তাকে মারা হয়েছে অনেক আগেই। একরামের অপরাধ ছিল একটাই, সে টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
এই প্রক্রিয়া এখনো চলছে। শুধু রাজনৈতিক কারণে অনেককে বানানো হচ্ছে মাদক সম্রাট, তথ্য প্রমান ছাড়া সামাজিকভাবে মেরে ফেলা হচ্ছে অনেককেই। মিডিয়ার এই অসুস্থ প্রক্রিয়া বন্ধ হোক।
এটা ২০১২ সালের কথা। তালাশের ২০ নাম্বার (৩১-০৮-২০১২) এপিসোডে টেকনাফের ইয়াবা গডফাদারের তালিকায় নাম ছিলো কাউন্সিলর একরামুল হকের,
যারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা চেষ্টা করছেন তাদের জন্য প্রশ্ন একটাই মাদক বিরোধী অভিযানে নিরীহ কেউ নিহত হলো কি?
তালাশের কাছে একরামের নাম কারা দিয়েছে তাদের খুজে বের করেন। একরামের নামে কোনো মাদক মামলা নাই। তার গাড়ী আর বাড়ীগুলা দেখান। একটা মিডিয়াও তো গাড়ীর ছবিও দেখাতে পারলো না। তার সন্তান আর স্ত্রীর দিকে তাকিয়েছেন? তাদের চলাফেরা দেখেছেন? জরাজীর্ন কক্ষে ক্রন্দন দেখেছেন? মাদক ব্যবসায়ী বা দূর্নীতিগ্রস্থ লোকদের সন্তানরা হয় উগ্র বা উশৃঙ্খল, সবার চলাফেরাই হয় অন্যরকম অথচ তার পরিবারের কারো মধ্যে তো তেমন লক্ষনই দেখলাম না আমরা। মাদক ব্যবসায়ীর সন্তান স্থানীয় স্কুলে পড়বে কেন? জরাজীর্ণ কক্ষে থাকবে কেন?
এসব প্রশ্নের উত্তর দেন। সরকার প্রধানের দিকে আঙ্গুল তোলা সহজ। কিন্তু নিজের কৃতকর্মের জন্য নিজেদেরও কি সাবধান হওয়া উচিত নয়? সত্য শিকারে এগিয়ে আসা উচিত নয়। আমি যদি বলি মিডিয়া হত্যা করলো একরামকে তাহলে কি বেশী বলা হবে?