মামা হালিম ও একটি সত্য ঘটনা

0
408

আফছার উদ্দিন: ২০০৬ সন। ধানমন্ডিতে আমরা একটা দোকান কিনেছিলাম প্রায় অর্ধকোটি টাকা দিয়ে। আমি দোকানটি ভাড়া না দিয়ে আরো সাত লাখ টাকা খরচ করে ডেকোরেশন করিয়ে নিজেরাই খাবারের দোকান দেই।

রমজান মাসে মামা হালিম বিক্রি করবো ভেবে আমি আর খালাতো ভাই কলাবাগানে মামা হালিমের দোকানে যাই। দোকান থেকে বললো মামার সাথে কথা বলতে হলে বাসায় যেতে হবে। দোকানের উত্তর পাশ দিয়ে পূর্বদিকে যে গলিটা গেছে ওই গলি দিয়ে পূর্বদিকে হাটছি। গলিতে অনেকগুলি খাসি, বকরি, গরু দেখলাম যা রমজানে হালিম তৈরির অপেক্ষায় আছে। বামদিকে মামার বাসায় ঢুকতেই দেখলাম প্রচুর পরিমানে নিম্নমানের শসার স্তূপ।

অপর ঘরে ঢুকতেই দেখলাম একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে আর একজন সাদা লুঙ্গি সাদা সার্ট পরিহিত চিকনা পাতলা লোক অামাদের দেখেই হকচকিয়ে উঠলো অার তার হাতে থাকা একটি ক্যান লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। তার হাতে থাকা ওটা বিয়ারের ক্যান আর ওই লোকটিই মামা হালিমের মালিক অর্থাৎ মামা যার আসল নাম দীন মোহাম্মাদ।

মামাকে আমাদের উদ্দেশ্যের কথা বলতেই অনেকটা স্বাভাবিক হলেন। প্রতি ড্রাম হালিমের মূল্য, অগ্রিম কত দিতে হবে কিভাবে হালিম ডেলিভারি দিবে ইত্যাদি আমাদেরকে মামারূপী দীন মোহাম্মদ সব বুঝিয়ে দিলেন। দামের ব্যাপারে আমরা একটু দর কষাকষি করতে চাইলেই মামা তার সহকারীকে ইশারা দিলেন। সহকারী একটি স্কচ হুইস্কির বোতল এনে দিলেন।

মামা বললেন এত দামি মাল দিয়ে হালিম বানিয়ে কেমনে দাম কমাবো বলেন মামা। আর সসের মধ্যে তো আরো দামি মাল দেই। পড়তা হয় না মামা। আমরা মাগরিবের নামাজ পড়েই গিয়েছিলাম।

দুজনের মাথায় তখনো টুপি। কোন রকমে বের হয়ে গাড়িতে উঠেই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। আর নিজেরা বলাবলি করলাম মানুষ ইফতার করে এই হালিম খাবে। তাতে যদি হারাম মদ মেশাতে হয় তাহলে এমন ব্যবসার দরকার নেই। (শতভাগ সত্য ঘটনা)।

দেশে থাকলে ইফতারিতে আমার প্রিয় হালিম আর মধ্যপ্রাচ্যে থাকলে ইফতারিতে প্রিয় হারিস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here