এবারের এশিয়া কাপ টা বাংলাদেশ ই জিতবে : মুরসালীন

0
349

বুধবার(২৬ সেপ্টেম্বর) রাতেই টাইগারদের জয়ের পর অভিনন্দন জানিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হাত চলেনি। থেমে গেছে পুরনো আতঙ্কে। আবারও ফসকে যাবে না তো শিরোপা?

ফাইনালে বাংলাদেশ। অবিস্মরণীয় দুই জয়ে মুছে গেছে ভারত আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে অসহায় হারের স্মৃতি। এবার সব ধুয়ে মুছে ফাইনালের স্বপ্ন সাজানোর সময়। পারবে তো বাঘেরা? পারতেই হবে। অন্য কিছুই চিন্তায় নেই। ষোলো কোটি স্বপ্ন ভাঙতে দেবেন না কান্ডারি মাশরাফি। ওই শক্ত কাঁধেই ভর করে তো এতদিন দেখে এসেছি অবাধ্য সব স্বপ্ন!

১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। কেবল ক্রিকেট কি জিনিস তা  শিখছি। যখন সমর্থনের প্রসঙ্গ এলো, তখন ছোট্ট আমি খুঁজেছিলাম আমাদের দেশকে। পাই নি। বাধ্য হয়েই সমর্থনের পাল্লাটা ঠেলে দিলাম ভিনদেশে। তখনকার দিনে বন্ধুদের আড্ডায় তর্কও হতো ভিনদেশি পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে।

সময় বদলায়। পরের বছরই। আইসিসি কাপের রুদ্ধশ্বাস জয় আমাদের নিয়ে যায় বিশ্বকাপের দরবারে। তখন আবার ডুয়াল সাপোর্ট সিস্টেম। প্রশ্ন হতো, ‘তুই বাংলাদেশের পর কোন দল করিস?’। এখন গর্ব করে বলি, ‘আগে-পিছে কিছু নেই। আমি লাল-সবুজের সমর্থক’।

১৯৯৯ এর বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে আমরা কাঁপিয়েছিলাম বিশ্ব। মনে পড়ে? সে কথা মনে থাকলে বুঝবেন,কালকের জয়টা তো সে জয়েরই উত্তরসূরী। বাঘের ডেরার বুড়ো বাঘেরা অবসর নেয়। হয় জার্সি বদল। শুধু টিকে থাকে বাঘের হুংকার আর শিকারের আত্মবিশ্বাস।

এত উল্লাস, আনন্দ আর সাফল্যের মাঝে ভয় ঢুকলো কেন?
২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল। তখন টেলিভিশনের রিপোর্টার হিসেবে কাভার করছি ম্যাচ। সেদিন প্রেসবক্সে বসে অঝরে কেঁদেছি সবার সাথে। পোস্ট ম্যাচ সেশনে মুশফিকের গলা ধরে এসেছিল কষ্টে। এ অনুভূতি আর চাই না।
প্রতিপক্ষ ভারত। ভয়ের গল্পের দ্বিতীয় পৃষ্ঠাটা তারা লিখেছিল।

এই তো সেদিন। নিদহাস ট্রফির ফাইনালে।শেষ বলে স্বপ্ন ভঙ্গের ব্যথাটা এখনো কমে নি। কে কাঁদে নি সেদিন? আর কাঁদতে চাই না আমরা। আর নয়। আমাদের নারীরা এখন এশিয়ার সেরা। তবে, মাশরাফি-মুশফিকরা নয় কেন? লক্ষ্য করুন, মন চাইলেও বলতে পারছি না সাকিব-তামিমের কথা। ইনজুরির চোখরাঙানি খাদে ফেলেছে আমাদের। তারপরেও কি থেমে আছি? এটাই তো বাঘের বৈশিষ্ট্য।

চাপে পড়ে ভেঙে পড়া, সম্মানজনক হার কিংবা একটুর জন্য হলো না…. এ কথাগুলো মুছে ফেলার সময় আজই।
মাশরাফির নেতৃত্ব, মুশফিকের চাপ সামলানো, রিয়াদের নীরব যুদ্ধ আর মুস্তাফিজের পেস শৈলী; জিততে আর কিছু লাগে নাকি? প্রতিপক্ষ ভারত, র্যাঙ্কিং, ইনজুরি এসব বলবেন তো? ভুলে যাই চলুন। ফাইনালের দিনটা ‘আমাদের’ হলেই দৌঁড়ে পালাবে সব কিছু।

প্রিয় বাঘেরা, ভাঙা হাত নিয়ে বুক চিতিয়ে লড়া তামিমের মন ভেঙো না তোমরা। আমরা বাংলা মায়ের ১৬ কোটি অবুঝ শিশু। আমাদের আবদার একটাই। ‘কাপ চাই; কাপ।’

আর একটা কথা বলি? কাপ যদি নাও পাই, মন ভাঙবে সত্যি; কিন্তু অটুট সমর্থন থাকবে আমরণ। শুভ কামনা বাংলাদেশ।

এদিকে বাংলাদেশের কাছে হেরে একটুও ভাল লাগছে না সরফরাজের

অঘোষিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।বিতরণী অনুষ্ঠানে রমিজ রাজা শুভকামনা জানালেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে, ‘ঘরে ফেরাটা নিরাপদ হোক।’ রমিজ আর কী বলতে পারেন, পাকিস্তান যে এশিয়া কাপ ফাইনালের ‘দর্শক’!

টুর্নামেন্ট থেকে এভাবে বিদায় নিতে কার ভালো লাগে! সরফরাজেরও ভালো লাগছে না। বাংলাদেশের কাছে হেরে পাকিস্তান অধিনায়কের মনটা খুব খারাপ, ‘একেবারে ভালো লাগছে না। পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। অধিনায়ক হিসেবে আমি নিজেই ভালো করতে পারিনি। দল হিসেবে ভালো করিনি। আমি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারিনি।’

আরব আমিরাতকে অনেক দিন ধরে ঘরের মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছে পাকিস্তান। কন্ডিশনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি পরিচিত তারাই। স্বাভাবিকভাবে অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক এবারের এশিয়া কাপে ফেবারিট হিসেবে পাকিস্তানের নাম বলেছিলেন। অথচ ফল হয়েছে উল্টো। ফাইনালেই উঠতে পারেনি পাকিস্তান। আজ আবুধাবিতে বাংলাদেশের কাছে ৩৭ রানে হেরে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় সরফরাজদের।

ভালো করেননি বলে দল হেরেছে। দল হেরেছে বলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। কদিন আগে অস্ট্রেলিয়া-জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলা পাকিস্তানের এই ত্রাহি দশা হলো কীভাবে, সেটিও ব্যাখ্যা করলেন সরফরাজ, ‘আমরা ভালো ফিল্ডিং করেনি, ব্যাটিং-বিপর্যয় হয়েছে। দল হিসেবে কোনো বিভাগেই ভালো করিনি। ফখর আমাদের মূল খেলোয়াড় ছিল। শাদাব-নওয়াজের ভালো সুযোগ ছিল। ভালো দলের বিপক্ষে জিততে হলে আমাদের ভালো খেলা দরকার। ব্যাটিং-বিপর্যয় আমাদের অনেক ভুগিয়েছে।’

সরফরাজ যখন রমিজের সঙ্গে কথা বলছেন, অদূরে দাঁড়িয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা। সরফরাজের ব্যর্থতার জবাব কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়কের মধ্যে লুকিয়ে—দলের সাফল্য এনে দিতে হলে নেতৃত্ব দিতে হবে সামনে থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here