ছিলো দাস, সেটা করে গুপ্ত
রাতারাতি হলো দাশগুপ্ত।
ছিলো শীল, হয়ে গেলো সেন–
এভাবেই জাতে উঠেছেন।
বাঙালির পুত, তার পদবীটা খান,
জাতে উঠে চেপে ধরে স্বজাতির কান।
কাঙালির বেটা করে চুরি-জোচ্চুরি
নামের পাশে লেখে মিয়া, চৌধুরী।
নিজে নিজে উঁচু করে বংশ
কেষ্টঠাকুর সাজে কংস।
জাতে ওঠা নয় কিছু মন্দ।
তবুও তো লাগে কিছু ধন্দ–
এরকম হলে সব উল্টা
ভাঙাবে কে ইতিহাসে ভুলটা?
পিতা-পরিচয় মুছে উচ্চে
উঠে গিয়ে ঝিঙে হলে উচ্ছে
সামাজিক ইতিহাস রচনা
হবে না — এ-ই অনুশোচনা।
সত্যিকারের যারা উচ্চ
জাত পরিচয় করে তুচ্ছ
উঁচু হন নিজ নিজ কর্মে
স্থির থেকে নিজ জাতে ধর্মে।
মুছে ফেলে পিতারই পদবী
নাম-যশ কেনা মিছে সে-সবই।
সে তো নিজ বংশেরই অপমান
বেটা হয়ে বাপেরই অসম্মান।