কোটা পদ্ধতিতে নিয়োগ বৃত্তান্ত

0
1503

মিজানুর রহমান সজীব: যারা মনে করেন কোটা পদ্ধতিতে সুযোগ প্রাপ্ত প্রার্থীরা মেধাবী নন, একটু কষ্ট করে পড়ে মন্তব্য করলে খুশী হবো।

১। আবেদন –
বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করার যে যোগ্যতা আছে তা দেখে বোঝা যায় আবেদন করতে কোন কোটা নেই। অর্থাৎ চাহিত শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা (যেমন বয়স, উচ্চতা ইত্যাদি) থাকলেই আবেদন করা যাবে।

২। প্রিলিমিনারি –
এটি বি সি এস পরীক্ষা দেবার আরেকটি প্রাক পরীক্ষা। এটায় পাশ না করলে বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারবেন না। এমসিকিউ তে হয়। পূর্ণমান ২০০। বিষয় ১০টি। সঠিক উত্তরে ১ নম্বর যোগ, ভুল উত্তরে আধা নম্বর বিয়োগ। এখানেও কোটা নেই।

অর্থাৎ যারা আবেদন করেছিলেন এবং সেই মত ফর্ম পূরণ করেছিলেন এবং প্রবেশ পত্র হাতে পেয়েছেন সবাই এখানে পরীক্ষা দেবে। এটি কঠিন না সহজ সেটা বিষয় নয়। কারণ কঠিন হলে সবার জন্য কঠিন, সহজ হলে সবার জন্য সহজ। টিকলে বিসিএস দিতে পারবেন। কোটা বা নন কোটা যাই হন না কেন।

# নোট – এখানে কারা টিকবে তার দুটো পদ্ধতি আছে।

যেমন – ক) ধরা যাক যারা ৫০ নম্বর পাবেন তারা সবাই প্রিলি উত্তীর্ণ। এবং মোট পরিক্ষার্থী ১ লক্ষ। দেখা গেল ৫০,০০০ জন আছে যারা ৫০ এর উপরে নম্বর পেয়েছেন। তাহলে এই ৫০,০০০ জন বিসিএস পরীক্ষা দিবেন।

নিয়ম খ) ধরা যাক ৫০,০০০ জনের পরীক্ষার আয়োজন করা যথেষ্ট কঠিন। এবং সরকারী ব্যয় সাপেক্ষ। সরকার বিজ্ঞপিতিতে ১০০০ জনের নিয়োগ দেবে বলেছে। তারা সিদ্ধান্ত নিলো ৫০,০০০ জনের পরীক্ষা না নিয়ে ২০,০০০ জনের পরীক্ষা নেয়ার আয়োজন করতে চায়।

সেক্ষেত্রে প্রিলিতে যে যত নম্বর পাক না কেন মেধা অনুযায়ী প্রথম ২০,০০০ জনকে প্রিলিতে টিকানো হবে। হতে পারে ২০,০০০ তম ব্যাক্তির প্রিলির নম্বর ৭০। উল্লেখ্য, এখানেও কোন কোটা নেই। আপনি নারী হন বা প্রতিবন্ধী কিছু যায় আসেনা। ৭০ না পেলে বিসিএস দিতে পারবেন না। মেধা দিয়েই ৭০ পেয়ে পরের স্টেপে যেতে হবে।

৩। পরীক্ষা শুরু –
এখানে মূলত পর্ব ২ টা। লিখিত ও মৌখিক। (যদিও স্বাস্থ্য পরীক্ষাতেও অনেকে বাদ যায়- সে আলোচনা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ)।

লিখিততে ৯০০ আর মৌখিকে ২০০ নম্বর। দুটোর নম্বর যোগ করে ১১০০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বরের উপর পাশের তালিকা হবে (মনে রাখুন এটা নিয়োগের তালিকা নয় – পাশের তালিকা। এখানে কোন কোটাবাছাই প্রযোজ্য নয়)। আসুন এবার পরীক্ষা শুরু করা যাক।

৪। লিখিত পরীক্ষা –
এখানে মোট ৯০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। সাধারণ ক্যাডার ও পেশাগত (যেমন ডাক্তার) – কিছু সাবজেক্ট ভিন্ন হলেও পূর্নমান ৯০০। (বিস্তারিত সাথে দেয়া বিজ্ঞাপনের ছবি দেখুন)। ইংরেজি ২০০, বাংলাদেশ ২০০, আন্তর্জাতিক ১০০, যুক্তি ও দক্ষতা-১০০ = মোট ৬০০। এই ৬০০ নম্বর সবার জন্য এক। বাকি থাকে ৩০০ নম্বর।

সাধারণ ক্যাডারের জন্য বাংলা হবে ২০০ নাম্বারের। এবং পেশাগত ক্যাডারের (যেমন – ডাক্তার) এর জন্য বাংলা হবে ১০০ নাম্বারের। এরপর, সাধারণ ক্যাডার দেবে সাধারণ বিজ্ঞানের উপর পরীক্ষা ১০০ নাম্বারের এবং পেশাগত- যেমন ডাক্তাররা দেবে ডাক্তারি বিষয়ের উপর ২০০ নম্বরের পরীক্ষা।

অর্থাৎ সবাইকেই ৯০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। ডাক্তাররা বাংলায় ১০০ আর নিজেদের বিষয়ে ২০০ = মোট ৩০০। জেনারেল ক্যাডার বাংলা ২০০+ সাধারণ জ্ঞ্যান ১০০= ৩০০।

এবার যা লিখবো তা গোলমাল মনে হলে আপনার আর পড়ার দরকার নাই। কারণ এখানে কিছু গণিত আর বিশ্লেষণ থাকবে।

যেসব পরীক্ষায় পূর্ণমান ২০০ সেগুলো হবে ৪ ঘণ্টা আর ১০০ হলে ৩ ঘণ্টা। সব পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে গড় করা হবে। গড় পাস নম্বর ৫০%। অর্থাৎ ৯০০ নম্বরে সবগুলো মিলিয়ে ৪৫০ নম্বর না পেলে হবেনা। যদি কেউ কোন সাবজেক্টে ৩০% নম্বরও না পায় তাহলে সেই সাবজেক্টের কোন নম্বর যোগ হবেনা।

অর্থাৎ ধরেন কেউ ইংরেজিতে ২৫ পেলো। তাহলে এই ২৫ নম্বর যোগ হবেনা। যেহেতু ইংরেজির পূর্ণমান ২০০ সেহেতু এখানে কমপক্ষে ১০০ না পেলে কোন নম্বর যোগ হবেনা। যদি সে বাকি সব বিষয়ে ৩০% এর বেশী পায় তাহলে শুধু সেগুলোর নম্বর যোগ করে মোট ৪৫০ পেতে হবে পাশ করার জন্য। (যেহেতু পাশ নম্বর ৯০০ এর ৫০%)।

এখানেও কোন কোটা অধিকার নেই। অর্থাৎ যারা প্রবেশ পত্র পাবেন সবাই লিখিত পরীক্ষা দিতে পারবেন। খাতায় কোটাধারী প্রার্থি বলে কোন চিহ্ন দেয়া থাকবেনা। কাজেই সবাইকে মেধায় টিকতে হবে।

৫। মৌখিক পরীক্ষা –
অনেকেই মনে করেন মৌখিকে টেকার জন্য লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়। আসলে তা ভুল। মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষার নম্বর যোগ করে পাশের তালিকা হয়। কিন্তু তাই বলে যারা লিখিতর প্রবেশপত্র পাবে সবার মৌখিক পরীক্ষা সরকার নেয় না। কারণটা স্বাভাবিক। লিখিতর নম্বর ৯০০ আর মৌখিকের মাত্র ২০০।

লিখিততে ৪৫০ না পেলে তার পক্ষে আর ভালো ব্যাটিং করা সম্ভব হয়না। ব্যবধান অনেক হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত – মৌখিকের পাশ নাম্বার ১০০। কাজেই লিখিততে যারা পিছিয়ে পড়বে তারা যদি মৌখিকে যারা টিকেছে তাদের সাথে ভাইভায় ভালো করে টিকতে চায় সেক্ষেত্রে তাদের চেয়ে যত ভালো পরীক্ষাই দিক ১০০ নাম্বারের বেশী এড করতে পারবেনা (এবং তা হবে যদি সে ২০০ তে পুরো ২০০ নাম্বারই পায় – যা একেবারেই অসম্ভব।) তৃতীয়ত – ঐযে আগে বললাম, ইংরেজিতে ২৫ নাম্বার পান নাই আবার বিসিএস পাশ করতে চান – সেটাও একটু বেশী চাওয়া বটে।

এখানেও কিন্তু কোটা আলারা কোন সুবিধা পাচ্ছেন না। সবার ১০০ পেয়ে পাশ করতে হবে। কথাও বলা নেই যে নারীরা ৭০ পেলেই হবে। প্রতিবন্ধীরা ৩০ পেলেই হবে। তাই নয় কি?

তাহলে আমরা দেখতে পাই, কোটাধারিদেরকে মেধাহীন বলে যে ব্যাঙ্গ করা হয় সেটা সঠিক নয়। লিখিত ও মৌখিকের সম্মিলিত নম্বর যোগ করে একটি তালিকা করা হয়। এবং মনে রাখতে হবে যে এরা সবাই মেধাবী। আবারো বলছি, এরা সবাই মেধাবী।

৬। নিয়োগের জন্য বাছাই –
আমাদের উদাহরণে আগেই ধরে নিয়েছি যে বিসিএস দিবে ২০,০০০। (all are selected through the preliminary test regardless of quota). (অথবা যারা ৫০ বা নির্ধারিত পাশ নাম্বার পাবেন – whichever is applied for all)। এর পরে বিসিএস শুরু হবে। প্রথমে লিখিত। পরে ভাইভা। এই দুই পরীক্ষার নম্বর যোগ করেন।

মোট পূর্ণমান ছিল ৯০০+২০০= 1100। মোট পাশ নম্বর ছিল ৪৫০+১০০= ৫৫০। (লিখিত এর ক্ষেত্রে গড়ে ৫০%, আর ভাইভার ক্ষেত্রে ৫০%)। এবার এদের একটি নম্বর তালিকা হবে (regardless of quota)। এবং স্বীকার করে নিতে হবে সকল পরীক্ষাই মেধা দিয়েই পাশ করতে হয়েছে। এরা মেধাহীন নয়।

লিখিততে কোন সাবজেক্টে ৩০% এর কম পেলে তার সেই সাবজেক্টের নাম্বারই যোগ হচ্ছেনা। আর ভাইভায় ৫০% নাম্বারের কম পেলেও হবেনা। তাহলে যারা এপর্যন্ত আসলো তারা মেধাহীন কিভাবে হলো?

এখন আসুন বাছাই শুরু করি।

আগেই ধরা হয়েছিল সরকার নিয়োগ দেবে ১০০০ জনকে। যে ২০০০০ জন লিখিত দিয়েছিল ধরা যাক তাদের মধ্যে ৭০০০ জন লিখিততে পাশ করেছে। এবং ৭০০০ জনের ভাইভা হয়েছে। এখান থেকে ৩০০০ জন ভাইভায় পাশ করেছে। এখন এই ৩০০০ জনের লিখিত ও ভাইভার নম্বর যোগ করে একটি নাম্বার তালিকা হল। মনে রাখতে হবে এই তালিকার লোকসংখ্যা কিন্তু ৩০০০।

প্রথমে আসুন মুক্তিযোদ্ধা। এই ৩০০০ জন থেকে দেখা গেল ৫০০ জনের “মুক্তিযোদ্ধার সনদ” আছে। এদের কারো নম্বর ক্রম হতে পারে ১০ বা হতে পারে ২০০০। সে যাই হোক, ৫০০ জনের নম্বর তালিকা আলাদা করা হল।

৩০% কোটা থাকায় ১০০০ নিয়োগের ৩০% হয় ৩০০ পদ। ধরে নিন ৫০০ জনের প্রথম ৩০০ জনকে নিয়োগ তালিকায় রাখা হল। (এটি চূড়ান্ত নয় – এদের থেকে বাদ যাবে। কিভাবে সেটা আগাতে থাকুন – টের পাবেন।)

এবার আসুন নারী কোটায়। দেখা গেল ৩০০০ জনের মধ্যে নারী আছে ৭০০ জন। ১০% কোটা হলে ১০০০ পদে হয় ১০০ জন। তাহলে এই ৭০০ জনের নাম আলাদা করা হল। এদের নম্বর দেখে প্রথম ১০০ জনকে নিয়োগ তালিকায় রাখা হল। (এটি চূড়ান্ত নয় – এদের থেকে বাদ যাবে। কিভাবে সেটা আগাতে থাকুন।)

এবার আসুন জেলা কোটা। আমরা জানি বাংলাদেশের নাগরিকরাই বিসিএস পরীক্ষা দেয়। সেই হিসেবে সে কোন না কোন জেলার ছাত্র। এখন একটি কথা না বললেই নয় যে, সকলেই কোন না কোন জেলার লোক হওয়ায় এই বেনিফিট সবাই পাচ্ছে। তাই এটিকে কেউ আঘাত করছেনা। সব দোষ মেধার। অথচ আমরা দেখিয়েছি, সকল পরীক্ষা মেধাতেই পাশ করতে হয়েছে। কোটায় নয়।

১ লক্ষ লোকের পরীক্ষায় টিকে টপ ৩০০০ এর মধ্যে যে আসতে পারে সে মেধাহীন কিভাবে হয় আমার জানা নেই। এনিওয়ে, জেলা কোটা ১০%। ১০০০ পদে ১০০ পদ। এটির সিলেকশন একটু কঠিন। মাথা গরম হয়ে গেলে এই স্ট্যাটাস আপনার জন্য নয়। তবুও এতদূর এগিয়েছেন তাই জেলা কোটার বাকি হিসেবটা শেষে দেই।

এবার আসুন উপজাতি কোটায় –

এখানেও ৫%। ১০০০ পদে হয় ৫০টা। ৩০০০ জনের তালিকায় দেখা গেল নাম আছে ৭০ জনের। এখান থেকে এদের নাম আলাদা করা হল। প্রথম ৫০ জনকে নিয়োগ তালিকায় রাখা হল। (এটি চূড়ান্ত নয়)

তাহলে মুক্তিযোদ্ধা ৩০+ নারি১০+ জেলা ১০+ উপজাতি ৫ = ৫৫%
অর্থাৎ ১০০০ জনে ৫৫% করলে হয় ৫৫০ জন।

আগেই বলেছি জেলা কোটা পরে আসবে। কেন? আসুন দেখি।

দেশে যদি ৬৪ টি জেলা থাকে আর পদ ১০০০ হলে প্রতি জেলায় কমপক্ষে ১৫ জনের নিয়োগ হতে হবে। ধরুন একটি জেলার নাম বান্দরবন। এই জেলা থেকে কতজন টিকলো সেটা কিভাবে নির্ধারিত হবে? কোন তালিকা দেখা হবে? বান্দরবনের মুক্তিযোদ্ধা কোটা আলাদের নাম কি এই ১৫ জনের বাইরে হবে? বান্দরবনের নারীরা কি এই ১৫ জনের বাইরে হবে? বান্দরবনের উপজাতি কোটায় যাদের নাম এইমাত্র রাখলাম তাদের নাম কি বাদ যাবে? উত্তর কি? উত্তর – অবশ্যই “না”।
তাহলে সিলেকশন হিসাবটা একটু বুঝান।

ওকে। জেলা কোটা হিসেবে বান্দরবনের কমপক্ষে ১৫ জনকে নিয়োগ দিতে হবে। দেখা গেল মূল নম্বরলিস্ট এর ৩০০০ জনের মধ্যে বান্দরবনের লোক আছে ২৫ জন। এখন এদের নামের তালিকাটা আলাদা করেন। দেখা গেল এদের মধ্যে নারী কোটায় আগেই যে ১০০ জনের লিস্ট করা হয়েছিল তাদের থেকে কেউ নাই – অর্থাৎ বান্দরবনের নারী কেউ ৩০০০ জনের মধ্যে আসে নাই। নো প্রবলেম।

এবার দেখেন এই ২৫ জনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যে ৩০০ জনের লিস্ট করছিলাম তাদের কেউ আছে কিনা। দেখা গেল ৫ জন আছে। এবার দেখেন উপজাতি কোটায় যে ৫০ জনকে রাখছিলাম তাদের কেউ আছে কিনা। দেখা গেল ৫ জন আছে বান্দরবনের। তাহলে ২৫ জনে মোট পেলাম নারী(০)+মুক্তিযোদ্ধা (৫)+উপজাতি(৫)= ১০ জন। জেলা কোটা পূরণ করতে হলে আমার আরও ৫ জন লাগে। বুঝতেই পারছেন, এখন এই যে ২৫ জনের তালিকা এখান থেকে যাদের নাম কোন তালিকায় ছিল না উপর থেকে নম্বর অনুযায়ী প্রথম ৫ জনকে তাহলে ফাইনাল লিস্টে টেনে নিন।

তাহলে মোট কী দাঁড়ালো বান্দরবনে?
নারী(০)+মুক্তিযোদ্ধা(৫)+উপজাতি
(৫)+জেলা(৫) = ১৫ জন।
এবার ধরেন কুমিল্লা জেলা।

জেলা কোটা হিসেবে কমপক্ষে ১৫ জনকে নিয়োগ দিতে হবে। দেখা গেল মূল নম্বরলিস্ট এর ৩০০০ জনের মধ্যে কুমিল্লার লোক আছে ১০০ জন। এখন এদের নামের তালিকাটা আলাদা করেন। দেখা গেল এদের মধ্যে নারী কোটায় আগেই যে ১০০ জনের লিস্ট করা হয়েছিল তাদের থেকে আছে ১৫ জন। নো প্রবলেম। এবার দেখেন এই ১০০ জনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যে ৩০০ জনের লিস্ট করছিলাম তাদের কেউ আছে কিনা।

দেখা গেল ২০ জন আছে। এবার দেখেন উপজাতি কোটায় যে ৫০ জনকে রাখছিলাম তাদের কেউ আছে কিনা। দেখা গেল কেউ নাই। তাহলে ১০০ জনে মোট পেলাম নারী(১৫)+মুক্তিযোদ্ধা(২০)+উপজাতি(০)= ৩৫ জন।

জেলা কোটা পূরণ করতে হলে আমার দরকার ছিল ১৫ জন। অলরেডি এই জেলা থেকে ৩৫ জন আছে নানা তালিকায়। (বোঝা গেল কুমিল্লা অনেক উন্নত, অগ্রসর, মেধাবী লোকজনের একটি জেলা)। এখন দরকার ছিল ১৫ জনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা – পেয়ে গেলাম ৩৫ জন। সেই হিসেবে কেউ আর জেলা কোটায় কুমিল্লা থেকে যুক্ত হবেন না। আশা করি বিষয়টা বোঝা গেল।

এবার আসুন টার্গেট মুক্তিযোদ্ধা কোটায় –

আগেই বলেছি, আমরা ধরে নিয়েছি নাম্বার লিস্টের ৩০০০ জনের মধ্যে ৫০০ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ আছে। ৩০০ জনকে নিয়ে একটা লিস্ট করে রেখেছিলাম। আগেই প্রমাণ করেছি এদের সবাই ৩০০০ এর মধ্যে এসেছেন একইভাবে।

কোটা পদ্ধতি শুধু চূড়ান্ত বাছাইয়ে প্রয়োগ হচ্ছে। পরীক্ষার খাতা দেখার সময় নয়। কাজেই এদের কারো নাম ৩০০০ জনের তালিকায় টপ টেনে থাকতে পারে আবার সবার নিচেও (আন্ডার টেন) থাকতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার গোল্ডের দোকান না যে এই তফাতে প্রশাসনিক গোলযোগ লেগে যাবে। যেই দেশে এম পি বা দেশের আইন প্রণেতা হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগেনা সেই দেশের সেই সকল আইন প্রণেতাদের আণ্ডারে কাজ করা কর্মচারি হতে গোল্ডের মত তোলা-আনা-ভরি মেপে নিয়োগ না হলে দেশ রসাতলে যাবে এসব বলা হাস্যকর। পরিস্থিতি বিবেচনায় আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রদূতের মত আচরণ নয়।
আরেকটি বিষয় বাদ গেছে,

ধরুন ৩০০০ জনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সনদ আলা লোক টিকছে ১০০ জন। কিন্তু লাগবে ৩০%। অর্থাৎ ১০০০ জন নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩০০ জন। তখন কিন্তু ঐ ১০০ জনের সবাই চান্স পাবে। কিন্তু এটা ভুললে চলবে না যে, বাকি ২০০ জনকে কিন্তু লিখিত তে ফেল করা লিস্ট থেকে টেনে আনা হচ্ছেনা।

বরং সেই শূন্য ২০০ পদ (যা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের দেয়ার কথা) সেটা এই ৩০০০ জন থেকে পূরণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ সেই টার্মে মুক্তিযোদ্ধাদের থেকে মাত্র ১০% ছাত্র চাকরীর জন্য সিলেক্টেড হল। ৩০% নয়। এবং আবারো বলি- অবশ্যই

এদের কেউ অমেধাবী নয়।

একসময় দেশে নম্বর পদ্ধতি ছিল। সারা বোর্ডে নম্বরের উপর টপ ২০ জন প্লেস করত। সেটাকে বলা হত মেধাতালিকা। দেখা গেল মেধাতালিকা মানে শুধু তারাই মেধাবী আর বাকিরা মেধাবী তা কিন্তু নয়। পরে এই নিয়ম বাদ করে একতা রেঞ্জ দেয়া হল। অর্থাৎ ধরে নেয়া হল, যে ছেলে ৬০ থেকে ৭৯ পাবে সে এক লেভেলের ছাত্র, আর যে ৮০ থেকে ১০০ পাবে সে এক লেভেলের ছাত্র। এটাকে মেনে নেয়া যায়। বিশ্বেও এভাবেই চলে।

বাকিরা কি মেধাবী নয়? অবশ্যই। তারা অনেক ভালো ভালো চাকরী করছে। প্রোমোশন পাচ্ছে। কাজেই এইসব কথা ভিত্তিহীন যে ৩০০০ জনের মধ্যে টেকার পরেও তারা মেধাহীন।

রাজনৈতিক কারণেই, কোটা বাদ হয়ে যাবে হয়ত। কিন্তু ভাইভা পর্যন্ত টিকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের “মেধাহীন” বলার আগে একটু নিজেদের আই কিউ টেস্ট করে নেবেন। চিলে কান নিয়ে গেছে বলে চিলের পিছে দৌড়াবার অধিকার আপনার আছে। চাকরীর অধিকারও আপনার আছে।

একসময় মেয়েদের সমাজে এগিয়ে নিতে নারী কোটা হয়েছিল, এক সময় উপজাতিদের এগিয়ে নিতে উপজাতি কোটা করা হয়েছিল, এক সময় মাদ্রাসার ছাত্রদের মূল কর্মশক্তিতে পরিণত করতে তাদেরকে জেনারেল লাইনের পড়াশোনার সমকক্ষতা দেয়া হয়েছিল।

যদি মনে করেন সেসব দরকার নাই, তাহলে সেটা আপনাদের ব্যাপার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here