ড. কামাল সাহেব আমরা কী স্টুপিড.?লজ্জা লাগে আমার ড. কামাল সাহেব : শামীম ওসমান

0
936

শামীম ওসমান বলেন, ‘আপনারা ষড়যন্ত্র করলে এবার ছাড় পাবেন না। কারও বাড়িতে যদি এবার আঘাত করা হয় তাহলে আমরা বসে থাকব না। এখানে যদি আঘাত করা হয় তাহলে ঢাকায় গিয়ে আঘাত করে আসব। যতবার নারায়ণগঞ্জ জেগেছে ততবার সারাদেশ জেগেছে। এটা ইতিহাসের সাক্ষী। নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেক আন্দোলন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে জাগরণ শুরু হবে। শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসবে।’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, ‘ড. কামাল সাহেব আমরা কী স্টুপিড। আপনি তাই ভেবেছেন। আপনি বলেছেন ২০ দলের সঙ্গে ঐক্য হয়েছে, কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য হয়নি। বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হয়েছে কিন্তু তারেক রহমানের সঙ্গে না। এসব শুনে আমার লজ্জা লাগে ড. কামাল সাহেব।’

তিনি বলেন,  ‘ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য হয়েছে। কামাল সাহেবরা বিএনপিকে ব্যবহার করছেন। আর বিএনপি ভাবছে ড. কামাল সাহেবকে ব্যবহার করছেন। যেন দুই শয়তানের লড়াই হচ্ছে।’

শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইরে একেএম সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ মির্জা ফখরুল আর ড. কামালরা এখন নির্বাচনের জন্য মাঠে নামেননি। তারা মাঠে নেমেছেন নির্বাচনকে বানচাল করতে। বিএনপি জানে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। সে কারণে নির্বাচন থেকে তারা সরে যেতে চায়। তারা এমন কিছু ব্যক্তিকে কাছে টেনে নিয়েছে যারা ওয়েস্টার্ন কান্ট্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের ব্যবহার করে কিছু একটা করতে চাইছে তারা।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা প্রস্তুত থাকেন। এই লড়াইয়ে আমরা জিতব। আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা। আবারও ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ।’

শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘ড. কামালদের বলছি, যদি মনে করেন আমাদের ওপর আঘাত করবেন, করেন। আপত্তি নাই। কিন্তু আমার দেশের একজন জনগণের ওপর আক্রমণ হলে নারায়ণগঞ্জবাসী আর বসে থাকবে না। তখন নারায়ণগঞ্জবাসী ঢাকায় গিয়ে উঠবে। দেখব তখন আমাদের কে ঠেকায়। এতদিন নেত্রীর কথায় ধৈর্য ধরেছি। কিন্তু আর না। জনগণের ওপর হামলা করলে বসে থাকব না আমরা।’

আরো পড়ুনঃ
বিএনপি আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না এ জন্মে : জয়

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সুচিন্তা ফাউন্ডেশন ‘২১ আগস্ট: বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান-ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারপারসন মোহাম্মদ এ আরাফাত।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবি: বাসসপ্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ায় জনগণ তার সুফলও পেয়েছে। জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে। অপরদিকে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশকে ধ্বংস করেছিল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সকল প্রকার ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বর্তমান অবস্থায় এসেছে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার মতো ক্ষমতা সিভিল সোসাইটির সদস্য, বিএনপি এবং জামায়াতের নেই।

জয় বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপি’র ন্যায় হত্যার রাজনীতি করে না। তিনি আরও বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মোট ২৪ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী নিহত হয়েছে। তা ছাড়া বিএনপি’র শাসনামলে আহসানউল্লাহ মাস্টার ও শাহ এ এম এস কিবরিয়ার মতো নেতাকেও হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের ন্যায় ১০ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতো, তবে কোনো আওয়ামী লীগ নেতা জীবিত থাকতো না।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জয় বলেন, ‘আমরা পরিবারের সদস্যদের হারানোর তীব্র যন্ত্রণা উপলব্ধি করি। সেকারণেই আমি রাজনীতিতে আসি এবং ২১ আগস্টের ভয়াবহ হামলার পর বিএনপি সরকারকে বিতাড়িত করি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২১ আগস্টের ওই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিলেন। এই জঘন্য হামলার বিচার সম্পন্ন করতে দীর্ঘ ১৪ বছর লেগেছে।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও অন্যরা ১/১১-এর কুশীলব ছিলেন উল্লেখ করে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নেপথ্য নায়ক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন মইনুল হোসেন। তারা এখন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রধানমন্ত্রী বানানোর চেষ্টা করছেন।

নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার প্রশ্নে বিএনপি নেতৃবৃন্দের অভিযোগের জবাবে জয় বলেন, ২০১৩-১৪ সালে যারা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সুশীল সমাজের সদস্যদের সমালোচনা করে জয় বলেন, যারা খুনি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে লজ্জাবোধ করে তারা আসলে খুনি ও সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে চায়।
নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপি’কে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন বিচার কাজ সম্পন্ন করেছে উল্লেখ করে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। নির্বাচনে যাদের একটি ভোটও সংগ্রহ করার ক্ষমতা নাই তাদের আওয়ামী লীগ ভয় পায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তথাকথিত সুশীল সমাজের হুমকিকে পরোয়া করে না।

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের কন্যা তানিয়া রহমান আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, দেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করাই ছিল ২১ আগস্ট হামলার মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবির এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২১ আগস্টের হামলা এবং ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা ছিল একই সূত্রে গাঁথা। তারা বলেন, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে হত্যা করা এবং দেশকে একটি জঙ্গিবাদী দেশে পরিণত করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here