শিক্ষার্থীদের আদর্শ হতে পারেন শেখ কামাল

0
156

মুহম্মদ শফিকুর রহমান: শেখ কামালের ঘরে বাড়তি ছিল গিটার, তবলা, হারমোনিয়াম ইত্যাদি। তার প্রতিফলনও আমরা দেখতে পাই শেখ কামালের মধ্যে। তিনি ছাত্র রাজনীতি করেছেন, পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিলেন, নিয়মিত এবং ভালভাবে পাসও করেছেন। ছাত্রলীগেরও কোন বড় পদ দখল করেননি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন মাত্র।

শেখ কামালের বড় অবদান হলো সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি যুব সমাজের আদর্শের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি-জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পুত্র হয়েও কোন ড্যান্ডি ডায়িং, হাওয়া ভবন, খোয়াব ভবন গড়েননি, কোন মার্শাল ডিস্টিলারি দখল করেননি, তিন মিনিটে শত কোটি টাকার ব্যাংক লোন পাস করাননি। তিনি সৃষ্টি করেছেন আবাহনী ক্রীড়াচক্র, স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী (ছায়ানটের ছাত্র ছিলেন), জড়িত ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে। আজও ভাবতে অবাক লাগে তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দল ক্ষমতায়, সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্তে ‘৭৪-এর দুর্ভিক্ষ চলছে, এ সময় শেখ কামাল দুর্ভিক্ষের ওপর নাটক করছেন টিএসসিতে। তিনি সানকি হাতে চট পরে একটি ভুখা মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিয়ে করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামালকে। এই ছিল শেখ কামাল।

শৈশব থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় উৎসাহী শেখ কামাল স্বাধীনতার পর আবির্ভূত হন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম ক্রীড়া সংগঠন ও আধুনিক ফুটবলের অগ্রদূত আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা। রাজনীতিতেও তাঁর অবদান কম নয়। ছাত্রলীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী তিনি। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন এবং শাহাদাত বরণের সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। কমিশন লাভ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণের সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here