নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

0
226

ড. বদিউল আলম মজুমদার: রাজধানীতে বাসচাপায় দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়ক ও ন্যায়বিচারের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সারাদেশে যে আন্দোলন পরিচালনা করছে তাকে আমি একটি যৌক্তিক আন্দোলন বলে মনে করি।

দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলে আসছিল, বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছিল না, যে কারণে সড়ক-মহাসড়কগুলো আজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ‘প্রথম আলো’র এক প্রতিবেদন (২৯ জুন ২০১৮) অনুযায়ী, বিগত ঈদে ঘরে ফিরতে গিয়ে ১৩ দিনে দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪০৫ জন নিরীহ মানুষ।

সড়ক-মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে ছাত্র-ছাত্রীদের বর্তমান প্রতিবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো যে, তারা কোনোরূপ সহিংসতায় সম্পৃক্ত নয়। বরং ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া যেন কেউ যানবাহন না চালাতে পারে তা নিশ্চিত করছে, যা করার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এবং তারা তা অনেকক্ষেত্রেই করছে না।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে আমি নিজেও আজ রাস্তায় আটকা পড়েছিলাম এবং তখন লক্ষ করলাম যে, এসব তরুণরা রাস্তা খালি করে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে দ্রুত যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে এবং রাস্তায় গাড়ি চলাচলে শৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আহা, আমাদের পুলিশ যদি সবসময় এমনটা করতো!

আমি আশা করি, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে সরকার পরিবহন খাতে বিরাজমান নৈরাজ্য এবং সড়ক-মহাসড়কের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া হলে এতে শুধু শিক্ষার্থীরাই উপকৃত হবে না, দেশের প্রত্যেকটি মানুষই তার সুফল পাবে। মানুষ সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করতে আরও নিরাপদ বোধ করবে।

আমি আরও মনে করি, বর্তমান আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরকে এমন একটি রাষ্ট্রীয় ও আইনি কাঠামো গড়ে তোলা দরকার, যাতে মানুষ নিজেদের বঞ্চিত, নির্যাতিত ও ক্ষমতাহীন মনে না করে । এজন্য প্রয়োজন হবে সর্বক্ষেত্রে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র চর্চা করা এবং সমাজে ন্যায্যতা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, মানুষ যাতে সরাসরি এই ব্যবস্থার এর সুফল পায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here