ফরিদপুরে জমেউঠেছে নৌকা বিক্রির হাট

0
200
কে. এম. রুবেল, ফরিদপুর : চলছে বর্ষা মৌসুম। চার দিকে থৈ থৈ করছে বর্ষার পানি। গ্রামের মেঠো পথ, খাল-বিলগুলো এখন বর্ষার পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ। আর ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষের বর্ষা কালের চলাফেরার প্রধান যানবাহন ডিঙি নৌকা। নৌকার চাহিদা মেটাতে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। আর সপ্তাহে দুই দিন জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কুমার নদীর পাড়ে বসে ডিঙি নৌকা বিক্রির বিশাল হাট। সকাল থেকে শুরু হওয়া হাট চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা নৌকা কিনতে ভীড় করে এই হাটে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কুমার নদীর পাড়ে জমে উঠেছে ডিঙি নৌকা বিক্রির হাট। সপ্তাহে দুই দিন শুক্রবার ও সোমবার নৌকা বিক্রির হাট বসে। সকাল থেকে শুরু হওয়া হাট চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা আশেন নৌকা ক্রয় করতে। হাটে এসে পছন্দের নৌকা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। আর নৌকা বিক্রি করে খুশি নৌকা তৈরীর কারিগররা।
বর্ষা মৌসুমে নদী-নালা, খাল-বিলে বর্ষার পানিতে ভোরে উঠে। আর এই সময় গ্রাম অঞ্চলের মানুষের গৃহস্থলীর বিভিন্ন কাজে নৌকার চাহিদা বেড়েযায়। হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মাছধরা, গরুর খাবার সংগ্রহ করা, ধান-পাট কাটা ও আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য বর্ষা মৌসুমে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। আর এ কারনেই নৌকা তৈরী ও বিক্রির ধুম পড়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নৌকা বিক্রির হাট। প্রকার ভেদে নৌকা বিক্রি হয় দুই হাজার থেকে সাত-আট হাজার টাকা পর্যন্ত।
ভাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী আসাদ মুন্সী বলেন, দক্ষিনাঞ্চলের সবচেয়ে বড় নৌকার হাট বসে ভাঙ্গায়। বিভিন্ন জেলা থেকে নৌকা কিনতে এই হাটে ভীড় করে। সপ্তাহে দুই দিন শুক্র ও সোমবার হাট বসে। সকাল থেকে শুরু হওয়া হাট চলে সারাদিন। তবে শুক্রবার বেশী নৌকা উঠে বলে তিনি জানান।
টেকেরহাট থেকে নৌকা কিনতে এসেছেন জুয়ের মল্লিক তিনি বলেন, এখন বর্ষাকাল। চারিদিকে বর্ষার পানিতে থৈ থৈ করছে। আর এখন নৌকা ছাড়া কোন কাজই হয় না। আর সেজন্যই নৌকা কিনতে এসেছি। দেখছি ঘুরছি পছন্দ হলেই কিনব। যেহেতু বষা কাল চলছে নৌকার বিকলা নেই। দাম যাই হোক নৌকা কিনতে হবে।
বর্ষা কাল নৌকা ছাড়া কোন কাজ হয় না। প্রতিটি কাজে নৌকা লাগে। আর নৌকা তৈরীর কারিগররা জানালের বর্ষা মৌসুমে কাজ না থাকায়, নৌকা তৈরি করে বিক্রয় করে ভালই আছেন তারা।
নৌকাতৈরী কারিগররা জানালেন, বর্ষা মৌসুমে রেন্ডি, কড়াই, উড়িআম, চাম্বুল কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরী করখে খরচ হয় ২২শ টাকা থেকে ২৫শ টাকা। আর বিক্রয় হয় ২৮শ থেকে ৩হাজার টাকা। আর পানি যত বেশী হলে নৌকার চাহিদাও বেশী হবে। আর আমাদের আয়ও ভাল হবে।
আষা-শ্রাবন বর্ষা কাল হলেও বাংলাদেশে বর্ষার পানি থাকে পাঁচ মাস পর্যন্ত। এই পাঁচ মাস গ্রাম অঞ্চলের মানুষের স্বাচ্ছন্দে নৌকায় দৈনন্দিন কাজ করে থাকেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here