মথুরানাথ বোসের ১১৭তম মৃত্যু বাষির্কী আজ

0
166
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : আজ ২রা সেপ্টেম্বর। সেন্ট মথুরানাথ বোসের ১১৭তম মৃত্যু বাষির্কী। অশিক্ষা আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যে মানুষটি আজীবন লড়াই করে গেছেন দেশের মানুষ তথা গোপালগঞ্জবাসী আজ তাকে ভুলতে বসেছেন। কেউই তাঁর কথা এখন আর স্মরণ করে না। তার জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীতে হয় না কোন স্মরণ সভা। মথুরানাথ ছিলেন এ অঞ্চলের শিক্ষার অগ্রদূত, সমাজ সংস্কারক ও ভাটির মানুষের আশার আলো। এ উপলক্ষ্যে বুধবার বিকালে খ্রীষ্টিয়ান ফেলোশীপের উদ্যোগে আলোচনা সভা, প্রার্থণা, গান, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীতের আয়োজন করা হয়েছে।
জানাগেছে, প্রায় দেড়’শ বছর আগে এ অঞ্চলটি ছিল জলাভূমি ও প্লাবণ এলাকা। আদিবাসীদের প্রায় সবাই ছিল নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। এরা সবাই ছিল গরীব ও অশিক্ষত। অতিদরিদ্র, অনুন্নত ও অশিক্ষত মানুষের মুক্তির বার্তা পৌঁছে দিতে কলকাতার ভবানীপুরের লন্ডন মিশনারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরী ছেড়ে ১৮৭৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে প্রথমে নৌকা যোগে গোপালগঞ্জ পৌঁছান। শুরু করেন নিরক্ষর মানুষকে জাগিয়ে তোলার কাজ। গড়ে তোলেন শিক্ষাঙ্গণ, ভজনালয়, কোর্ট, পোষ্ট অফিস, হাই স্কুল, ব্যাংক, হাসপাতাল ও কৃষি খামার। গোপালগঞ্জের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে আন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসতে তাঁর ভুমিকা ছিল অপরিসীম। মথুরানাথ ছিলেন এ অঞ্চলের শিক্ষার অগ্রদূত, সমাজ সংস্কারক ও ভাটির মানুষের আশার আলো। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে হয়ে ওঠেন তাদের বন্ধু। কিন্তু এত কিছু কারা পরও এ মানুষটির সমাধী সৌধ টি পড়ে আছে অযন্ত আর অবহেলায়।
মথুরানাথ বোস এ অঞ্চলের শিক্ষার আলো বঞ্চিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে জ্ঞানের অর্ণিবাণ শিখা প্রজ্বলিত করেন। রেভারেন্ড জে এল সরকারের বাসভবনের কাছে ছেলেদের জন্য তিনি প্রথম একটি পাঠশালা স্থাপন করেন। পাঠশালাটি পরে প্রাইমারী মিশন থেকে হাইস্কুলে উন্নিত করা হয়। পরে এই মিশন হাইস্কুলের নাম তার নামানুসারে এমএন ইনস্টিটিউট রাখা হয়।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ মিশন হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু এই মিশন স্কুল থেকে ম্যট্রিক পাশ করেন। স্কুলটি ৫০ সালে কায়েদে আযম কলেজ ও  পরে বঙ্গবন্ধু কলেজ (বর্তমানে সরকারী বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ) নামকরন করা হয়। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে দুস্থ পীড়িত অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সেবা করাই ছিল তার জীবনের একমাত্র ব্রত। কিন্তু এ সাধকের সমাধী সৌধে যাওয়ার এমমাত্র রাস্তাটি রয়েছে ময়লা আর্বজনায় ভরা। জেলা প্রশাসকের কাছে বারবার স্মারকলিপি পেশ করলেও নেওয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। এই মহান পুরুষ ১৯০১ সালের ২রা সেপ্টম্বর ৫৮ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন। যে মানুষটির আপ্রাণ চেষ্ঠায় গোপালগঞ্জ শহরের বিকাশ; সেই মহাপ্রান সেন্ট মথুরানাথের নাম আজ গোপালগঞ্জ বাসীর কাছে বিস্মৃত প্রায়। নব প্রজন্ম যাতে তার কথা জানতে পারে জন্য যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।
সেন্ট মথুরানাথ বোসের ১১৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে খ্রীষ্টিয়ান ফেলোশীপের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। এর মধ্যে রয়েছে শোক র‌্যালী, সমাধীতে মাল্য দান, আলোচনা ও প্রার্থনা সভা।
এলাকাবাসী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তার স্মৃতি রক্ষার্থে কোন পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। ফলে এমন একজন মহা মানুষের স্মৃতি আজ হারিয়ে যিতে বসেছে। এমনকি তার প্রতিষ্ঠিত স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা তার নাম পর্যন্ত জানে না। রক্ষন-বেক্ষনের জন্য সেন্ট মথুরানাথ বোসের সমাধী সৌধে সরকারী ভাবে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি। তার প্রতিষ্ঠিত স্কুল ও কলেজে একটি স্মৃতি স্তম্ভ¢ প্রতিষ্ঠা করার দাবী জানান।
গোপালগঞ্জ খ্রীষ্টান ফেলোশিপের সহ-সভাপতি পালক অনুকুল বিশ্বাস বলেন, এই মহান পুরুষের সমাধী সৌধটি আজও অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এ বছর খ্রীষ্টান ফেলোশিপের উদ্যোগে মৃত্যুদিবস পালন উপলক্ষে সমাধী সৌধে মাল্যদান, শোক র‌্যালী, প্রার্থনা ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here