মেডিসিনের কাহিনী ও ব্যবসা

0
730

শরফুদ্দিন আহমেদ: স্কয়ার ফার্মার একটি ইঞ্জেকশন নাম সেফট্রন ১ গ্রাম দাম ১৯০ টাকা। সেইম ইঞ্জেকশন হেলথ কেয়ার ফার্মার অরিসেফ ১ গ্রাম দাম ৩২০ টাকা ঠিক একই ইঞ্জেকশন রেডিয়ান্ট ফার্মার রফেসিন ১ গ্রাম ৪১৫ টাকা। বিশাল পার্থক্য!

হয় স্কয়ার নিম্ম মানের কাঁচামাল দিয়ে ইঞ্জেকশন বানাচ্ছে অথবা রেডিয়ান্ট ফার্মা বেশি লাভে মার্কেটে মাল ছাড়ছে। রেডিয়ান্ট কোম্পানির বক্তব্য আমরা মাল্টিন্যশনাল কোম্পানি, কিন্তু ঔষধ বানায় গাজীপুরে। নিউরো বি স্কয়ার বিক্রি করছে প্রতি ট্যাবলেট ৮ টাকা করে সেই মেডিসিন জিস্কা ফার্মা সেইম ঔষধ নিউবিন বিক্রি করতেছে ৫ টাকা। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে ১ গ্রাম সেফট্রন ভাল মানের কাঁচামাল দিয়ে প্রস্তুত করতে খরচ পড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা আর সেই ইঞ্জেকশন ভোক্তার হাতে যেতে দাম পড়ে ১৯০ থেকে ৪১৫ টাকা।

একটা এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ মিলিগ্রাম ট্যাব প্রস্তুত করে ফ্যাক্টরি থেকে বের হলে দাম পড়ে মাত্র ৩ টাকা। সেই এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ মিগ্রা কে ভোক্তারা কেনেন ৩৫ টাকা ৫৫ টাকায়। একেক কোম্পানি একেক ধরণের টেকনোলজি ব্যবহার করে এবং একেক কোম্পানি একেক সোর্স থেকে কাঁচামাল কালেক্ট করে।

বাস্তবে কি তারা সঠিক কাঁচামাল দিয়ে বানাচ্ছে তো? তারপর বাজারে যেসব মেডিসিন আছে সেখান থেকে স্যাম্পল কালেক্ট করে ল্যাব টেষ্ট করা হোক। তারা কি ১ গ্রাম ইঞ্জেকশন এর স্থানে ৮৯০ মিলিগ্রাম দেয়নি তো?

এরপর আসি বোতল কোম্পানি নিয়ে, মানে বাজারে প্রচলিত ইউনানি, হারবাল, আয়ুর্বেদ নিয়ে। শুনেছি এসব মেডিসিন ফ্যাক্টরির মালিকদের নাকি সরকারকে
ভ্যাট দিতে হয় না কিন্তু ৪৫০ মিলি বোতল পানি ঔষধ বাজারজাত করতে এরা মুল্য নির্ধারণ করে দেয় ৪৫ – ৯০টাকা। সেই মেডিসিন বাজারে বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়। যেমন এসবি ল্যাবরেটরি, এস এস ফার্মা, ঢাকা ফার্মা ইত্যাদি।

এবার আসি ফুড সাপ্লিমেন্টস নিয়ে যেমন: স্পাইরুলিনা, বিদেশি ক্যালসিয়াম, বিদেশি ভিটামিন। নিয়ম অনুযায়ী ফুড সাপ্লিমেন্টস ফার্মেসিতে বিক্রি করা যায় না এবং ডাক্তার প্রেস্ক্রিপশন করতে পারেন না। কিন্তু হরদম চলছে এইসব বিক্রি। যেখানে স্বদেশি ফুড সাপ্লিমেন্টস এর দাম ৩ টাকা প্রতি ক্যপ্সুল সেখানে ভিনদেশি (জিঞ্জিরা, গাজিপুরে প্রস্তুত করা হয়)ক্যাপসুল এর দাম ২০ টাকা।

ঔষধ সবসময় জীবন রক্ষাকারী। কিন্ত কিছুক্ষেত্রে জীবণ হরণকারীও হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here