ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ

0
223

শহীদুজ্জামান জোয়ার্দার: একাত্তুরের ২৭ সেপ্টেম্বর ভৈরবে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, আমার ভৈরবের ভাই ও বোনেরা, দুনিয়া জোড়া মানুষের কাছে আবেদন করলাম। দুনিয়ার মানুষ আমাদের সাহায্য করল। এক ভারতবর্ষ আমাকে ৯ লক্ষ টন খাবার দিলো।

কারণ পাকিস্তানের বর্বর বাহিনী ৩০০ রেলের ব্রিজ ভেঙ্গে দিয়ে গিয়ে ছিলো। বন্ধু রাষ্ট্র ভারতবর্ষ, গ্রেট ব্রিটেন – এদের সাহায্য নিয়ে আমরা এ ব্রিজগুলোকে মেরামত করি। বিশেষ করে ভারতবর্ষ আমাদের ইঞ্জিনিয়ার, লোক, টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করে। একটা ব্রিজ বাকি ছিলো যার সঙ্গে চট্রগ্রামের সঙ্গে ঢাকার সম্মন্ধ ছিলো – সেটা ছিলো ভৈরব ব্রিজ। মালপত্র পাঠাতে পারতাম না। মাল এসে চট্রগ্রাম বন্দরে জমা হয়ে যেতো। চট্রগ্রাম বন্দর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো্। চালনা বন্দর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো।

আজকে বড় আনন্দের দিন, আমি বলেছিলাম ভৈরব আমি সেইদিন যাব যেদিন এই ব্রিজ মেরামত হবে। আমি তাই আপনাদের কাছে এসেছি – আজ ওপেন করার জন্য – আজ মেরামত হয়ে গেছে। আজ রেললাইন চলবে চট্রগ্রাম থেকে ঢাকায় অন্যান্য জাগায় যাবে – এ আমাদের সৌভাগ্য। (জনতার করতালি।) আমি ভারত সরকার – ভারতের জনসাধরণকে আপনাদের পক্ষের থেকে ধন্যবাদ জানাই।

ভারতের উপমন্ত্রী জনাব কোরেশী সাহেব এসছেন তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই যে সমস্ত ভারতের ভাইয়েরা এখানে কাজ করেছেন নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে তাদেরকে আমি মোবারকবাদ জানাই ইংরেজ গভর্মেন্ট যে সাহায্য আমাকে দিয়েছে সরকারকে আমি অভিবাদন – আমি অভিনন্দন জানাই – অভিনন্দন জানাই আমার রেলওয়ে কর্মচারীদের যারা অক্লান্ত পরীশ্রম করে এতো বড় জিনিসকে মেরামত করতে সাহায্য করেছে এবং ৩০০ ব্রিজ আইজ আমাদের মেরামত হয়ে গেলো ইনশাল্লাহ।

সাড়ে ৭ কোটি মানুষ আমাদের গুদামে খাবার ছিলো না – আমাদের গায়ে কাপড় ছিলো না – পাকিস্তানিরা বৈদেশিক মুদ্রা লুট করে নিয়ে গেছে – আমাদের জাহাজ ছিলো না – আমাদের প্লেন ছিলো না – আমাদের কিচ্ছুই ছিলো না। কিন্তু ইনশাল্লাহ আমরা চালায়া নিয়েছি। ভাইয়েরা বোনেরা আমার, এই বিশ মাসের মধ্যে ৩৮ লক্ষ টন খাবার – ৩৮ লক্ষ টন মানে – ২৭ মণে ১ টন – ৩৮ লক্ষ টন খাবার বন্ধুদের সাহায্যে বিদেশ থেকে এবং বাংলাদেশের টাকায় ১২৫ কোটি টাকা খরচ করে আমাকে খাবার কিনতে হয়েছে।

দাবী আমার কাছে করতে হয় না – আমিতো প্রথমেই বলেছিলাম এসে – যে দাবী কী- আমি বাংলাদেশের মানুষকে বলেছিলাম ৩ বচ্ছর কিছুই দেবার পারবো না। বাংলার মানুষ বলেছিলো তোমার কাছে কিছুই চাইনা। তাই বলে কি আমি গ্রামে গ্রামে রিলিফ আইনে দেই নাই? তাই বইলে কি ৩৮ লক্ষ টন খাবার বিদেশ থেকে আনি নাই? তাই বলে কি আমি গরীব কর্মচারীর বেতন বাড়াই নাই? তাই বলে কি ওয়েজ বোর্ড করে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর বন্দোবস্ত করি নাই?

ভাইয়েরা, আজকে আইজ আমাদের সৌভাগ্য – আমাদের যারা – ভারতের ইঞ্জিনিয়াররা সহকর্মিরা এখানে এসছেন – যারা আমাদের জন্য এতোটা – ২০ মাস পর্যন্ত কাজ করেছেন – ভারত সরকার এবং তাদের সহোকর্মীরা তাদের কর্মচারীরা এবং তাদের নেতৃবৃন্দ – আমি মোবারকবাদ জানাই। আমি আমি জানি আপনাদের – আমি ইংরেজ গভর্মেন্টকেও মোবারকবাদ জানাই। আবার মোবারকবাদ জানাই। আরও মোবারকবাদ জানাই ভৈরবের জনসাধরণকে যারা কোঅপারেশন করেছে – যারা সাহায্য করেছে – যারা সহানুভূতি দেখিয়েছে – এই ব্রীজ করা জন্য। আজ ব্রীজ খুলে যাবে আমি আজ যেয়ে ফিতা কাটবো – ইনশাল্লাহ গাড়ি চলা শুরু হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here