স. ম গোলাম কিবরিয়ার ষড়যন্ত্রে বিভিন্ন পত্রিকার বিল বকেয়া

0
126

অর্থমন্ত্রালয়ের মাধ্যমে চিঠি দিয়ে সকল নিবন্ধিত পত্রিকার সরকারি পাওনা পরিশোধ না করার ব্যবস্থা করেছেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক স ম গোলাম কিবরিয়া- বলছে নির্ভরযোগ্য সুত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুত্রটি আরও বলছে যে, স ম গোলাম কিবরিয়ার এই কৌশলের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিজ্ঞাপনের পাওনা পাচ্ছেন না পত্রিকার সম্পাদকেরা। ফলে পত্রিকা অফিসগুলোতে কর্মরত হাজার হাজার সংবাদ শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বিলম্বিত হয়েছে। শুধু পত্রিকার বিল বকেয়াই করেনি, টু পাইস কামাতে না পারায় বাতিল করেছে শত শত পত্রিকার ডিক্লারেশনও।

চুক্তি শেষের আগে গোপনে তিন বছরের ক্রোড়পত্রের বিল বাবদ ৭২ (বাহাত্তর) কোটি টাকার বিল না দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রালয়ের মাধ্যমে চিঠি দিয়ে পত্রিকার সরকারি পাওনা পরিশোধ না করার ব্যবস্থা করেছেন। এতে পত্রিকার সম্পাদকেরা খুবই বিপদগ্রস্থ অবস্থায় পড়েছেন। ভর্তুকি দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাতে হচ্ছে অনেক সম্পাদক ও মালিকদের। এর প্রভাব পড়ছে পত্রিকায় কর্মরতদের উপর।

আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ট পরিচয় দেয়া স ম গোলাম কিবরিয়ার ডাকনাম বাতেন, তিনি জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন।  ডিএফপির মহাপরিচালক হিসেবে তার কার্যকালে তিনি অন্যায়ভাবে প্রায় শতাধিক দৈনিক পত্রিকার মিডিয়া বাতিল করেছেন, পত্রিকাগুলোর গ্রচার সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। তার এজেন্টদের মাধ্যমে ৫০০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা নিয়ে একটি ক্রোড়পত্র দিতেন । চেনামুখ’ দেখে, নিজের অনুগত দেখে, যাদের সাথে টাকার সম্পর্ক তাদের দেখে চিহ্নিত পত্রিকাকে বার বার ক্রোড়পত্র দিতেন। ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক, মন্ত্রণালয়ের সাবেক ও বর্তমান অতিরিক্ত সচিব এর মতো ব্যক্তিদের অনুরোধেও কাউকে ক্রোড়পত্র দিতেন না । এতে গত কয়েকবছরে অনেক পত্রিকা অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

২০২০ সালের ১ মার্চ থেকে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডিএফপির মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন গোলাম কিবরিয়া। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সম্প্রতি ডিএফপির মহাপরিচালকের পদ থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে যান গোলাম কিবরিয়া। এরপর থেকে ডিএফপির পরিচালক (প্রশাসন ও প্রকাশনা) মোহাম্মদ আলী সরকার প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে ছিলেন। পরে ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক স ম গোলাম কিবরিয়াকে চুক্তিতে একই পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে, ২০১৯ সালে ডিএফপির তৎকালীন মহাপরিচালক মো. ইসহাক হোসেন এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শেষ হওয়ার সময় তৎকালীন পরিচালক প্রশাসন স.ম. গোলাম কিবরিয়া ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তা ছিলেন এবং বিসিএস ১৩তম ব্যাচের মধ্যে জুনিয়র ছিলেন। মো. ইসহাক হোসেন এর চুক্তিশেষে তিনি কোন একটি কাজে ডিএফপিতে সরকারি গাড়িতে আসেন, কিন্তু যাওয়ার সময় এই স.ম. গোলাম কিবরিয়া তাকে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে না দিয়ে অসম্মান ও অপদস্থ করেন। তখন ৯ম ব্যাচের মো. আকতার হোসেন (ডিএফপির বর্তমান মহাপরিচালক) ও বিধান চন্দ্র কর্মকার (গণযোগাযোগ

অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক), ১৩তম ব্যাচের মো. ফায়জুল হক (বাংলাদেশ ফিল্ম ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এর বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা), শাহীনুর মিয়া (বর্তমান পিআইও), আবুল কালাম আজাদ (বাংলাদেশ ফিল্ম ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) ও মো. জসীমউদ্দিনকে (বাংলাদেশ ফিল আর্কাইভের সাবেক মহাপরিচালক) অন্যায়ভাবে সুপারসিড (সিনিয়রদের ডিঙ্গানো) করে স. ম. গোলাম কিবরিয়া চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) এর ডিজির চেয়ার দখল করেন।

সুত্র আরও বলছে,  সেসময় স.ম. গোলাম কিবরিয়া বিসিএস ইনফরমেশন এসোসিয়েশন এর সভাপতি ছিলেন এবং সে সুবাধে তিনি সিনিয়রদের ভিঙ্গিয়ে ডিএফপির মহাপরিচালক পদে বসেন। এজন্য তখন তথ্য ক্যাডারের সবচেয়ে সিনিয়র কর্মকর্তা, শহীদ বুদ্ধিজীবী মোয়াজ্জেম হোসেন এর সুযোগ্য সন্তান ৯ম ব্যাচের মো, আকতার হোসেন (ডিএফপির বর্তমান মহাপরিচালক) কে দীর্ঘ প্রায় ০৪ (চার) বছর পদহীন থাকতে হয়। এ সময় সরকারপন্থী কর্মকর্তা হয়েও মো. আকতার হোসেন এর বসার জাযগা ছিল না, দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা পাননি। মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে বার বার ধর্ণা দিয়েও স.ম. গোলাম কিবরিয়ার অবৈধ প্রভাবের কারণে মো. আকতার হোসেন কোন সমাধান পাননি, যা ছিল সুস্পষ্ট অবিচার ।

অন্য একটি সুত্র জানায়, ২০১৯ সালে তথ্য ভবন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন ১৮তম ব্যাচের মো. মনিরুজ্জামান, বাড়ি পটুয়াখালি।  এই মনিরুজজ্জামান শুধুমাত্র তথ্য ভবন নির্মাণেই প্রায় ১০ কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন। শ্রুতি আছে  মনিরুজ্জামান নিজের দূর্নীতি ঢাকতে স ম গোলাম কিবরিয়াকে টাকা খরচ করে মহাপরিচাপক পদে বসিয়েছে । এজন্য ১৩তম ব্যাচের সিনিয়র কর্মকর্তা মো. ফায়জুল হক ও মো. নিজামূল কবীর (গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক) সহ অন্যান্য ব্যাপক অস্বস্তিতে ছিলেন। পরবর্তীকালে মো. ফায়জুল হক এর মতো একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাকেও নানাভাবে হয়রানি করেছেন স ম গোলাম কিবরিয়া ও তার শিষ্যরা।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে সম গোলাম কিবরিয়ার নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষ হলে তিনি কালবেলার সন্তোষ শর্মার মাধ্যমে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে পুণরায় ডিএফপির ডিজি পদে ০১(এক) বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ লাভ করেন। বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেকে রাষ্ট্রপতির নিজের লোক দাবী করে প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন।

এছাড়াও স ম গোলাম কিবরিয়া তার কর্মকালে সরকারি বাসা ছেড়ে ধানমন্ডিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সুত্র বলছে, এসব দুর্নীতি থেকে করা আয়ের ভাগ তৎকালীন মন্ত্রীর একান্ত সচিব নাজমূল, সহকারি একান্ত সচিব রিসাদ এর মাধ্যমে মন্ত্রীকে দিতেন। এমনকি মন্ত্রীকে নিয়মিত মোটা অংকের অর্থ ও নারী সরবরাহের মাধ্যমে স ম গোলাম কিবরিয়া নিজের অবস্থান ও প্রভাব ধড়ে রেখেছিলেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here