নারী ফুটবল সংকটে আশার আলো

0
46

কোচ-খেলোয়াড় দ্বন্দ্বে নারী ফুটবলে সংকট তৈরি হয়েছে। সেই সংকট সমাধানে আজ খানিকটা আশার আলো দেখা গেছে। নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ ১৮ খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। সেই আলোচনা শেষে নারী ফুটবলাররা অনুশীলনে ফিরবেন এমনটাই জানিয়েছেন বাফুফের এই কর্মকর্তা।

নারী ফুটবল সংকট সমাধানের রেখা দেখা গেছে। যা বাফুফে ও ফুটবলের জন্য ইতিবাচক। বাফুফের মিডিয়া বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের ডাকেননি। বিগত সময়ের মতো কিরণের কক্ষে সাংবাদিকরা হাজির হয়েছিলেন। সেই উপস্থিত সাংবাদিকদের কিরণ বলেছেন, ‘মেয়েরা অনুশীলনে ফিরতে চেয়েছে। তবে এখনই না। তারা কিছুটা বিশ্রাম চেয়েছে। আরব আমিরাত থেকে দল ফেরার পর আবার যখন ক্যাম্প শুরু হবে তখন তারা ফিরবেন এবং অনুশীলন করবেন। তখনই চুক্তি হবে।’

বৃটিশ কোচ পিটার বাটলারের অধীনে সাবিনারা ১৮ জন অনুশীলন করতে চাননি। তারা পিটারের অধীনেই অনুশীলনে ফেরার আগে ত্রিপক্ষীয় সভার কথা বললেন নারী উইংয়ের প্রধান, ‘যেহেতু একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে তাই পুনরায় ক্যাম্প শুরু হওয়ার পর কোচ, ফেডারেশনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং খেলোয়াড়রা বসা হবে।’ খেলোয়াড়রা যেমন এই কোচের অধীনের অনুশীলন করতে চাননি। তেমনি কোচও কয়েকজন খেলোয়াড়কে দলে রাখতে চাননি। খেলোয়াড়রা খানিকটা নমনীয় হলেও কোচের অবস্থান এখনো নিশ্চিত নন বাফুফের এই কর্মকর্তা, ‘মেয়েদের সাথে আজ আমার কথা হয়েছে সেটা বললাম। কোচের সাথে আজ কথা হয়নি।’

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ নারী দল সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছে। সাবিনারা বিদ্রোহ করায় জুনিয়র ফুটবলারদের দিয়ে অনুশীলন করাচ্ছেন বাটলার। জুনিয়র ফুটবলারদের নিয়েই বাংলাদেশ আরব আমিরাতে যাচ্ছে। ৩ মার্চ ম্যাচ খেলে এই জুনিয়র ফুটবলাররাও কয়েক দিনের ছুটিতে যাবেন। মার্চেই জাতীয় দলের পুনরায় ক্যাম্প শুরু হবে জুনের নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের জন্য।

সাবিনাদের ও বাটলার দ্বন্দ্ব পুরনো বিষয় ছিল। এই দ্বন্দ্ব সমাধান না করেই বাফুফে কেন কোচ নিয়োগ করল সেটা বড় প্রশ্ন ছিল। এতে নারী উইংয়ের দায় ফুটবলাঙ্গন দেখছে প্রকটভাবে। আজ বিকেলে মাহফুজা আক্তার কিরণ সেই দায় বাফুফের জরুরি কমিটির উপর চাপালেন, ‘নারী উইং নিয়ে ভুল তথ্য যাচ্ছে সেটা পরিষ্কার করে বলতে চাই। নারী উইং খেলোয়াড়দের সঙ্গে এককভাবে ও একসঙ্গে বসেছিল। নারী উইং থেকে এই কোচকে না রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। কোচ নিয়োগ হয়েছে জরুরি কমিটির সভায়। যেখানে সভাপতি ও সহ-সভাপতিরা (সিনিয়র সহ-সভাপতিও আছেন) রয়েছেন।’

অথচ সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরপরই কিরণ বাটলারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাটলারই থাকছেন নারী দলের কোচ এমন কথা গণমাধ্যমে বারবার বলেছেন। অথচ আজ তিনি কোচের নিয়োগের দায় চাপালেন জরুরি কমিটির উপর এবং তিনি নাকি এই কোচের বিপক্ষে ছিলেন।

কোচের বিপক্ষে থেকেও আবার গুণগাণ গেল ঠিকই, ‘বাটলার তো আসলে ভালো প্রোফাইল কোচ। সভাপতি নিশ্চয়ই ভেবে চিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ বাফুফে নির্বাহী সদস্য ও নারী উইংয়ের দায়িত্বে থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে জরুরি কমিটির দায় চাপানো বড় প্রশ্নের মধ্যে পড়েছে। কোচ-খেলোয়াড় দ্বন্দ্বে এই আন্দোলন বাফুফে কর্তাদের মধ্যে দূরত্ব আবার প্রকাশ হয়েছে।

নারী ফুটবলাররা আজ কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য দেননি। ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল একুশে পদক গ্রহণ করবে। প্রধান উপদেষ্টা ও ক্রীড়া উপদেষ্টার ঐ পুরস্কার প্রদান অনুষ্টানে উপস্থিত থাকার কথা। একুশে পদক গ্রহণের পরই সাবিনারা এই সংকট নিয়ে আনুষ্টানিক অবস্থান ব্যক্ত করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here