রাফি আর তৃষা দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তৃষা ছিল অদ্ভুত রকম মেধাবী ও বুদ্ধিদীপ্ত এবং উচ্চাভিলাষী। রাফি প্রথম দেখেছিল তাকে এক ক্যাফেতে। পরিবারের লোকজনের সাথে বেড়াতে গিয়ে কিছুটা অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখা! তারপর মাঝেমধ্যে ফোনে কথা। সময়ের সঙ্গে তারা একে অপরের জীবনের অংশ হয়ে উঠার চিন্তায় মগ্ন। তৃষা কিছুটা অগ্রগামী হওয়ায় সে সর্বদা রাফিকে পর্যালোচনার অংশ হিসেবে কথা বলতো।
একসময় তৃষা পরিবারকে জানায় তার আগ্রহের কথা। পরিবারটি গুছানো এবং পরোসম্মানে আকৃষ্ট। তার পরিবার রাফির পরিবারকে দেখে তাদেরকে মেনে নিল। বিয়ের তারিখও ঠিক হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। রাফি ভেবেছিল, জীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে তৃষার সঙ্গে, যার চোখে সে নিজের স্বপ্ন খুঁজে পেত।
কিন্তু হঠাৎ সবকিছু থমকে গেল।
তৃষা একদিন বলল, “রাফি, আমি আর পারছি না। সংসার ভাবনাটা আমাকে বেঁধে ফেলছে। আমি নিজেকে টিউলিপরুপে খুঁজে পেতে চাই।”
রাফি প্রথমে বুঝে উঠতে পারেনি। চুপ হয়ে গিয়েছিল। কথাগুলো যেন তার বুক চিরে চলে গেল। সে কিছু বলার আগেই তৃষা বিদায় নিয়েছিল একটা শান্ত হাসি মুখে।
সব শেষ হয়ে গেল। রাফি শুধু ভাবল, যে মানুষটা একদিন তার জীবনে আলো হয়ে এসেছিল, সে-ই এখন অন্ধকার রেখে গেল। তৃষার ভালোবাসা, মানবিকতা, গভীরতা সব কিছু সঙ্গেই যেন চলে গেল।
রাফি চুপচাপ একদিন সেই ক্যাফেতে গিয়ে বসে। চারপাশে শব্দ, হাসি, আলো, কিন্তু তার ভেতরে শুধুই নিস্তব্ধতা। ভালবাসা ছিল, আছে, থাকবে তবে সব ভালবাসার শেষ হয় না সংসারে। কিছু ভালবাসা থেকে যায় শুধু গল্পে, অপূর্ণতায়।
লেখক: মোঃ হাবিবুর রহমান
সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক





