ভারতীয় এই টেনিস খেলোয়াড়ের মৃত্যু সিনেমার মতো নয়

0
36

রাধিকা যাদব ভারতের ২৫ বছর বয়সী টেনিস খেলোয়াড় ছিলেন। যিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগে ৭৫তম ও উইমেন্স ডাবলসে ৫৩তম র‍্যাংকিং অর্জন করেছিলেন। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে রাধিকা নিজের বাবার হাতে খুন হয়েছেন।

রাধিকার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আজ সোমবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জেরুজালেম পোস্ট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাধিকা যখন তাঁর বাবা দীপক যাদবের জন্য সকালের নাশতা তৈরি করছিলেন, তখনই নিজের লাইসেন্সকৃত রিভলভার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান দীপক। যার মধ্যে তিনটি গুলি রাধিকার গায়ে লাগে। গুরুগ্রামের এশিয়া মারিঙ্গো হাসপাতালে নেয়ার পর রাধিকাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

হত্যার সম্ভাব্য কারণ
৪৫ বছর বয়সী দীপক যাদব হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি জানান, মেয়ের আয়ের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকার বিষয়টি নিয়ে গ্রামের লোকজনের কটূক্তি ও উপহাস সহ্য করতে না পেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

এনডিটিভির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দীপক যাদব পুলিশকে বলেন, কিছু লোক রাধিকার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল। তাই তিনি রাধিকাকে টেনিস একাডেমি বন্ধ করে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু সে রাজি হয়নি।

পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আগাম অবসর নেওয়ার পর একটি টেনিস একাডেমি খুলেছিলেন রাধিকা। এর মাধ্যমে তিনি আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে ওঠেন। এ ছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনেক অনুসারী ছিল। সিএনএন নিউজ-১৮ কে পুলিশ কর্মকর্তা বিনোদ কুমার জানান, এটি ‘অনার কিলিং’ বা সম্মান রক্ষার্থে হত্যাকাণ্ড ছিল না।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় রাধিকার মা মঞ্জু যাদব বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, অসুস্থতার কারণে নিজের কক্ষ থেকে বের হননি। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কিছুই দেখেননি।

রাধিকার কাকা কুলদীপ যাদব গুলির শব্দ শোনার পর দ্রুত রাধিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি দীপক যাদবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

ভারতে খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য নিয়ে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে আছে দঙ্গল, ম্যারি কম, সাবাস মিতু। যেগুলোতে পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উৎরে নারীদের কুস্তি ও ক্রিকেটে অংশ নিতে দেখা যায়। যদিও দঙ্গল সিনেমায় বাবার চরিত্রকে প্রেরণাদানকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here