‘অন্যায়ের শিকার’ এবং সেনেগালের জেতার জেদ

0
22

আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস ফাইনালের ম্যাচ-উইনার পাপে গুয়েই জানিয়েছেন, মরক্কোর পক্ষে দেওয়া একটি বিতর্কিত পেনাল্টি এবং এর ফলে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তাদের মধ্যে ‘অন্যায়ের শিকার’ হওয়ার অনুভূতি তৈরি করেছিল। আর সেখান থেকেই তাদের জেতার জেদ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে ট্রফিও জেতে সেনেগালিরা।

রাবাতের প্রিন্স মৌলে আবদুল্লাহ স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে ব্রাহিম দিয়াজকে ফাউল করার দায়ে মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়া হয়। এর কয়েক মিনিট আগেই সেনেগালের একটি গোল ফাউলের অজুহাতে বাতিল করা হয়েছিল। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্তে সেনেগালের খেলোয়াড়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং প্রতিবাদ হিসেবে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান। গ্যালারিতেও সেনেগালি সমর্থকরা মাঠে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর দিয়াজ পেনাল্টি নেন। সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি সহজেই তার দুর্বল শট রুখে দেন। এরপর অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে পাপে গুয়েই দুর্দান্ত এক গোল করে সেনেগালকে ১-০ ব্যবধানে জয়ী করেন এবং দলকে ট্রফি তুলে দেন।

ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার গুয়েই বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছিল আমরা অন্যায়ের শিকার হচ্ছি। পেনাল্টির ঠিক আগেই আমাদের একটি গোল হওয়া উচিত ছিল কিন্তু রেফারি ভিএআর চেক করেননি।’ তিনি আরও জানান, দলের মহাতারকা সাদিও মানে সবাইকে মাঠে ফিরে আসার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। গুয়েই বলেন, ‘সাদিও আমাদের ফিরে আসতে বলে এবং আমরা নতুন উদ্যমে মাঠে নামি। এরপর মেন্দি পেনাল্টি সেভ করল, আমরা মনোযোগ ধরে রাখলাম এবং গোল করে ম্যাচ জিতলাম।’

সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও স্বীকার করেছেন যে, পেনাল্টির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনিই প্রথমে খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে চলে যেতে বলেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। বিইন স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করার পর আমি বুঝতে পেরেছি যে আমার তাদের মাঠ থেকে চলে যেতে বলা উচিত হয়নি। মুহূর্তের উত্তেজনায় মাঝে মাঝে এমন প্রতিক্রিয়া হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ আগে আমাদের একটি গোল বাতিল করা হয়েছিল। তবে এখন আমরা মেনে নিচ্ছি যে রেফারিদেরও ভুল হতে পারে এবং আমরা আমাদের আচরণের জন্য ক্ষমা চাইছি।’

এটি ছিল সেনেগালের দ্বিতীয় আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস শিরোপা। এর আগে ২০২২ সালে ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মিশরকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তারা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। মজার ব্যাপার হলো, সেনেগাল মোট চারবার ফাইনালে উঠলেও পাপে গুয়েইর এই গোলটিই ছিল কোনো আফকন ফাইনালে সেনেগালের করা প্রথম গোল, কারণ আগের ফাইনালগুলো ছিল গোলশূন্য।

গুয়েই আরও জানান, দলের নিয়মিত রাইট-ব্যাক ক্রেপিন ডায়াট্টা এবং টটেনহ্যাম মিডফিল্ডার পাপে মাতার সারসহ তিনজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় শেষ মুহূর্তে ছিটকে যাওয়ার পরও এই জয় তাদের জন্য অনেক বড় গৌরবের। এনিয়ে গুয়েই বলেন, ‘আজ রাতের জয়ে আমরা খুব খুশি। তবে আমরা গর্বিত। আজ জিততে চেয়েছিলাম। ম্যাচের শেষ দিকে কী ঘটেছিল, তা আমরা সবাই দেখেছি। কিন্তু আমরা মাঠে ফিরে সবকিছু দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমরা সেটাই করেছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here