জুলাই যোদ্ধাদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘অভ্যুত্থান বাস্তবায়ন আন্দোলন’

0
10

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘অভ্যুত্থান বাস্তবায়ন আন্দোলন (এইম)’। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম।শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে প্ল্যাটফর্মের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি, লক্ষ্য ও রূপরেখা ঘোষণা করা হয়।

কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন আয়াতুল্লাহ বেহেস্তী ও সদস্যসচিব শেখ নাজমুস সাকিব। সদস্যরা হলেন— রাফিদ, শামস, স্বাধীন, শিপু, মঈন, তৌফিক শাহরিয়ার, জারিফ, সোহান, ইশতিয়াক, শিপন ও গালিব। পরবর্তীতে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে আয়াতুল্লাহ বেহেস্তী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা যেন ম্লান না হয়ে যায় এবং বিপ্লবকে যেন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী কুক্ষিগত না করতে পারে, সেই গভীর শঙ্কা ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা থেকে এই প্লাটফর্মের সূচনা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে বৈষম্যহীন ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ বিনির্মাণই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১৭ মাস পার হয়েছে। একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমরা এ দেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছিলাম। কিন্তু ফ্যাসিস্ট মুক্ত করার পর সেই নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই শঙ্কা থেকে এই প্লাটফর্মের আত্মপ্রকাশ। আমরা কোনো এনজিও খুলতে আসিনি, আসিনি কোনো রাজনৈতিক দোকান সাজাতে। আমরা এসেছি, একটি ভয় থেকে। জুলাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে পারে- অধিকার সচেতন নাগরিকের এই ভয় থেকে আজকের এই জাগরণ। বিপ্লব নিয়ে রোমান্টিসিজমের কোনো জায়গা নেই। ফেসবুকে আবেগি স্ট্যাটাস দেওয়ার দিন শেষ। এখন সময় এসেছে হিসাব বুঝে নেওয়ার। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, এই অভ্যুত্থান কোনো দুর্ঘটনা কিংবা মাটিকুলাস ডিজাইন ছিল না। এটা ছিল ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থান।

শেখ নাজমুস সাকিব বলেন, কোনো দল বা গোষ্ঠী এই রাষ্ট্রের ঠিকাদারি নিতে পারবে না। এই রাষ্ট্র চলবে একমাত্র মেধা যোগ্যতা ও ন্যায়ের শাসনে। কারো অন্যায় তাবেদারী মেনে নেওয়া হবে না। নাগরিক হিসেবে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা আমাদের অধিকার। সরকারের কাছ থেকে এসব দয়া বা ভিক্ষা হিসেবে আমরা নিব না। রাষ্ট্রের প্রতিটি পয়সা এবং সিদ্ধান্তের পাই টু পাই হিসাব দিতে হবে। আহতরা হাসপাতালে কাজ চাচ্ছেন আর আপনারা বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছেন। তাদের রক্তের ওপর পা দিয়েই আপনারা বিভিন্ন জায়গায় বসেছেন। যেখানে আপনাদের উচিত ছিল তাদের পুনর্বাসন করা এবং তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। উচিত ছিল শহীদদের পরিবারকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু তা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যারা দেশের টাকা পাচার করে আয়েশে আছেন, তাদের গর্ত থেকে টেনে বের করতে হবে। প্রতিটা লাশের বিচার করতে হবে। যেসব গুটিকয়েক ব্যক্তি ভারতসহ অন্যান্য দেশে পালিয়ে আছে, তাদের বিচারের নামে মূলা ঝোলানো বন্ধ করতে হবে। যারা দেশের মধ্যে আছে, যারা এই স্বৈরাচার সরকারকে যে করেছিল, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি হামলা, গুলি চালিয়েছে—তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ছাত্ররা রাস্তা ছেড়ে দিয়েছে মানে বিপ্লব শেষ হয়ে গেছে। এটা যারা ভাবছেন, তারা মারাত্মক ভুল ভাবছেন। যদি আবার দেখি যে, কোনো বৈষম্য হচ্ছে, মেধার গলায় চাপা দিয়ে দলীয়করণ হচ্ছে, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর চাটুকারিতা হচ্ছে, তাহলে জুলাইয়ের আগুন নিভে থাকবে না। প্রয়োজন হলে সেই আগুন আবার জ্বলবে। এবারের দাবানল হবে আরও ভয়াবহ।

প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ও রূপরেখা তুলে ধরেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থী রবিউস সানি শিপু। রূপরেখাগুলো হলো— বিপ্লবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণ করা, আহত ও নিহতদের সঠিকভাবে গেজেটভুক্ত করা, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হলে উপদেষ্টাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা, বিগত সরকারের আমলে জাতীয়ভাবে যেসব অবিচার হয়েছে তার বিচার নিশ্চিত করা, মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও শিক্ষা কার্যক্রমের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here