রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমকে আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক চর্চার পরীপন্থী জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ১০১ গণমাধ্যম কর্মী। সকালে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের সদস্য সচিব শেখ জামাল
স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি গণমাধ্যমের হাতে এসে পৌঁছায়। তাতে বলা হয়েছে:
‘আমরা, দেশের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী সাংবাদিক সমাজ, গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে—প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন অবৈধ ইউনুস সরকার অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে বিএনপি সরকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে।
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ এবং জনগণের স্বাধীনভাবে মতামত গঠনের অধিকার। কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম প্রশাসনিক বা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী এবং তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে।
আমরা মনে করি, রাজনৈতিক মতবিরোধের সমাধান হতে হবে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে—আইন বা শক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে নয়। একটি দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না; বরং এতে বিভাজন, অসহিষ্ণুতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ে।
আমরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই—
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করুন। দেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।
একই সঙ্গে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকার সংস্থা এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণে গঠনমূলক ভূমিকা রাখে।
গণতন্ত্রের পথ কখনো সংকীর্ণ হতে পারে না—এটি হতে হবে সকলের জন্য উন্মুক্ত, সহনশীল এবং ন্যায়ভিত্তিক।





