নোমান গ্রুপের বন্ড জালিয়াতি তদন্তে আর বাধা নেই

0
9

নোমান গ্রুপের বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাপড় চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ বাজারজাতের অভিযোগে দায়ের করা আবেদনের তদন্ত স্থগিতের ওপর থাকা স্থিতাবস্থার আদেশ বাতিল করেছে আপিল বিভাগ।  গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আপিল বিভাগের দেয়া এই আদেশের ফলে দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা থাকা তদন্ত আবেদন এগিয়ে নিতে আর কোনও আইনি প্রতিবন্ধকতা থাকলো না।

২০২২ সালে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে যে নোমান গ্রুপের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাপড় অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি করছে। বিষয়টি নজরে এলে লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন অভিযোগসহ একটি আবেদন দুদকে জমা দেন। দুদক ৪ জুলাই ২০২২ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ৭ জুলাই ২০২২ আবেদন গ্রহণ করে, তবে দীর্ঘ সময়েও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি আদালত।

পরবর্তীতে পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হওয়ায় আনোয়ার হোসেন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ ৩১ আগস্ট ওই বছরের আদেশে রুল জারি করে দুই মাসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। তবে নোমান গ্রুপের পক্ষে জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফ্যাব্রিকস আপিল করলে ১৯ সেপ্টেম্বর চেম্বার জজ স্থিতাবস্থার আদেশ দেন, যার ফলে সরকারি মেয়াদে আর কোনও তদন্ত এগোয়নি।

সরকার পরিবর্তনের পর রিটকারী পক্ষ স্থিতাবস্থা বাতিলের আবেদন করেন। আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের ১ নম্বর বেঞ্চে শুনানি শেষে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি দারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চেম্বার আদালতের স্থিতাবস্থা তুলে দেন। আদালত পাশাপাশি নির্দেশ দেন—রায় শুনানির জন্য বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর জন্য।

শুনানিতে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, দুদক আইনের ১৭ (গ) ধারায় যেকোনও অভিযোগ অনুসন্ধান ও নিষ্পত্তি করা দুদকের বাধ্যবাধকতা। কিন্তু চেম্বার আদালত সে আইনের মূলনীতি বিবেচনায় না নিয়েই আবেদন নিষ্পত্তিতে স্থিতাবস্থা দিয়েছিলেন, যা আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিলো না। তিনি যুক্তি দেন, দুদক আইনে জাতীয় কমিটির সদস্য হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল দুর্নীতির পক্ষে প্রতিরক্ষা নিতে পারেন না—এ অবস্থায় স্থিতাবস্থার আদেশ যুক্তিযুক্ত ছিলো না।

আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল, আর রিটকারী পক্ষের পক্ষে উপস্থাপন করেন সিনিয়র এডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

রায় বাতিলের ফলে বন্ড সুবিধায় সম্ভাব্য চোরাচালান ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের পথ আবারও উন্মুক্ত হলো বলে আইনজীবীদের মত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here