ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা নিয়ে আপাতত সরাসরি কোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নেই। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা তেহরানের পাঠানো সর্বশেষ প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। ইরানের পক্ষ থেকেও নতুন করে কোনো উদ্যোগের কথা বলা হয়নি। তবে মঙ্গলবার হঠাৎ করেই জ্বালানি উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকদের সংস্থা ওপেক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এ খাত ঘিরে বিশৃঙ্খলার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এএফপি জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে না দেওয়া এবং শান্তি আলোচনায় স্থবিরতার পরিপ্রেক্ষিতে দামের এই ঊর্ধ্বগতি। এর মধ্যেই এলএনজির শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ কাতার সতর্ক করে বলেছে, শান্তি আলোচনায় চূড়ান্ত সমাধান না হলে অঞ্চলজুড়ে ‘ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট’ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট বলতে জটিল এক পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়; যেখানে সংঘাত একেবারে থেমেও যায় না, আবার পুরোদমেও চলে না। সংঘাতের মাত্রা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে বাড়ে বা কমে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই অঞ্চলে যেটাই চলুক না কেন, এটি অবিলম্বে খুলে দেওয়া উচিত।
নতুন প্রস্তাবে ট্রাম্প অখুশি
পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো নতুন এক প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির ওপর আলোচনার রূপরেখা তুলে ধরেছে ইরান। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের নতুন প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা স্থগিত রাখতে চেয়ে হরমুজ চালু এবং যুদ্ধ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ প্রস্তাবের বিষয়ে খুশি নন বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। নতুন প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয় সময় সোমবার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকের বিষয়ে অবগত একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি স্থগিতের কথা বলায় ট্রাম্প বেশ অসন্তুষ্ট হয়েছেন।
‘যুক্তরাষ্ট্র হুকুম দিতে পারবে না’
ওয়াশিংটন যখন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, তখন ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আর হুকুম দেওয়ার অবস্থানে নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক গতকাল বলেন, ওয়াশিংটনকে এখন তাদের অবৈধ ও অযৌক্তিক দাবি পরিত্যাগ করতে হবে। এদিকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনার সম্মেলনে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছে ইরান। এ নিয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সোমবার তীব্র বাদানুবাদ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়িউ বলেন, ইরানকে এই পদে নির্বাচিত করা এনপিটির জন্য একটি ‘অপমান’। এর জবাব দেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় (আইএইএ) নিযুক্ত তেহরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি। তিনি বলেন, একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করছে।
এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আরব আমিরাত। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূরাজনীতি থেকে শুরু করে উৎপাদন-সংক্রান্ত কোটা নিয়ে বিরোধ থাকলেও জোট
দুটি দীর্ঘদিন ধরে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ ছিল। আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন বিশৃঙ্খলা ও ঐক্যের শক্তি কমে যেতে পারে।




