গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও ফিলিস্তিনের মাটিতে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং এই যুদ্ধবিরতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অধিকৃত পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমে নিয়ন্ত্রণ ও আগ্রাসন আরও কঠোর করছে ইসরায়েলি বাহিনী। আর তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারীরা।
আলজাজিরার খবর অনুসারে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় দেখা গেছে, ইসরায়েলি সেনারা অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শাসিত এলাকাগুলোয় আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। গাজার বেসামরিক এলাকাগুলোয় তাদের অভিযান যেমন বেড়েছে, তেমনি পূর্ব জেরুজালেমের কেন্দ্রস্থলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর দমনপীড়ন জোরদার করা হয়েছে। মূলত যুদ্ধবিরতিকে শান্তির পথ হিসেবে নয়, বরং যুদ্ধের কৌশলী বিরতি দিয়ে দখলদারিত্ব পাকাপোক্ত করার কাজে ব্যবহার করছে ইসরায়েল।
গাজার জিকিম ক্রসিং দিয়ে মানবিক সহায়তা প্রবেশ সামান্য বাড়লেও তা ধ্বংসপ্রাপ্ত উপত্যকার বিশাল চাহিদার তুলনায় নগণ্য। অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তারা ফিলিস্তিনিদের স্কুল, বাড়িঘর ও কৃষিজমিতে অগ্নিসংযোগ করছে। দাতা দেশগুলোর অর্থায়নে নির্মিত স্কুলও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। চেকপয়েন্ট ও সামরিক বাধা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)। সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল গাজায় পানি সরবরাহকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এটি ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যারই একটি অংশ। গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো ইসরায়েলি হামলায় সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়ে গেছে।
এই যুদ্ধের ভয়াবহতার শিকার শিশুদের সহায়তায় জর্ডান সরকার একটি মানবিক করিডোর চালু রেখেছে। গতকাল মঙ্গলবার আহত ও অসুস্থ ৮১ ফিলিস্তিনি শিশুর একটি দল চিকিৎসার জন্য
জর্ডানে পৌঁছেছে। তাদের সঙ্গে পরিবারের আরও ১০৮ জন সদস্য রয়েছেন। জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যকার সমঝোতার ভিত্তিতে এই উদ্যোগের আওতায় প্রায় দুই হাজার শিশুকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।




