নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন আজ

0
18

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করেছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি মাঝে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে বিটিভিতে আবারও চালু হয়েছে। আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের আদলে দেশব্যাপী এবার শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে আগামীর তারকা খুঁজে বের করতে দেশব্যাপী উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আজ (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। একই সময়ে দেশের অন্য সকল জেলা স্টেডিয়াম থেকে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীরা ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন বলে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের অনুপ্রাণিত করতে থাকবেন জাতীয় পর্যায়ের ৩২ ক্রীড়াবিদ। যারা প্রতিযোগীদের দিক-নির্দেশনা দেবেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় কোচ, ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়দের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলো প্রথমে শুরু হবে উপজেলা পর্যায়ে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। ১৩-২২শে মে’র মধ্যে শেষ হবে আঞ্চলিক পর্বের খেলা। জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত বাছাইয়ের দিনক্ষণ এখনও জানায়নি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলছিলেন, প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই প্রতিযোগিতা পরিচালিত হবে। চলতি বছরের এই আসর আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যন্ত ক্রীড়াকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। দলমত নির্বিশেষে খেলাধুলার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

পুরো বাংলাদেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। এসব অঞ্চলের মধ্যে বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে, যাতে কোনো মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।

ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনের প্রতিটি পর্যায়ে নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ীয় সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। প্রতিযোগিতায় একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দু’টি খেলায় অংশ নিতে পারবে।

পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের ও পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

‘১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি আবেদন’
রেজিষ্ট্রেশনের জন্য খুব অল্প সময় থাকা সত্ত্বেও সারা দেশ থেকে গত ১২-২৬ এপ্রিল ডেডলাইন পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় আট ইভেন্টের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী। এরমধ্যে ছেলে ১ লক্ষ ২০ হাজার ৯৪৯ জন, মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার ৩৮৭ জন প্রতিযোগী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সবচেয়ে কম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। সেখানে ৭ হাজার ৯৬৬ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান করা হবে। প্রতিটি খেলোয়াড়কে জেলা পর্যায় থেকে জার্সি প্রদান করা হবে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হবে সনদপত্র।

জাতীয় পর্যায়ে বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও নিজেকে পরিণত করার সুযোগ থাকবে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগও এর মাধ্যমে তৈরি হবে। এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে সরকারি ক্রীড়া বৃত্তি। এ ছাড়া বিকেএসপির মাধ্যমে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ, পড়াশোনা এবং সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করবে সরকার।

তিনি বলেন, ‘আমরা মেধাবী ও সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের বিকেএসপিতে দেব। মেধাবী কিশোর-কিশোরীরা কোনো না কোনো স্কুলের শিক্ষার্থী হবে, ফলে তাদের ক্রীড়া বৃত্তির আওতায় আনা হবে।’

সাভারে বিকেএসপির মূল কার্যালয়ে সুযোগ-সুবিধা সবচেয়ে ভালো, কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী। আবার অন্য জেলায় বিকেএসপি থাকলেও সেখানে সুযোগ-সুবিধা কম। তাই বর্তমান সরকার অন্যান্য বিকেএসপির মানোন্নয়নে জোর দিচ্ছেন, ‘চট্টগ্রামে একজন মেধাবী খেলোয়াড় পাওয়া গেলে সে যেন চট্টগ্রাম বিকেএসপিতেই থাকতে পারেন আমরা সেই ব্যবস্থা করতে চাই। এজন্য আঞ্চলিক বিকেএসপিগুলোর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।’

আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণে অনেক সময় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে। আবার এ রকম ট্রায়াল বা টুর্নামেন্টে এসে ইনজুরিতে পড়ে অনেক কিশোর-কিশোরীর জীবন হুমকির সম্মুখীনও হয়। এ নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিভা বাছাইয়ে কোনো স্বজনপ্রীতি থাকবে না। আমি মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটা তদারকি করব। আমাদের মেডিক্যাল টিম থাকবে যারা সর্বাত্মক চিকিৎসা প্রদান করবে।’

বিগত সময়ে প্রতিভা অন্বেষণের নামে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি, ক্রীড়া পরিদপ্তর থেকে নানা কর্মসূচি হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে পরিকল্পনার কোনো সমন্বয় না থাকায় সরকারের অর্থ ব্যয় হলেও তেমন কার্যকারিতা আসেনি। এ নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘আমরা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয় ও এনএসসি কর্মকর্তারা সহায়তা করছে। আমাদের কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে আপনারা দেখিয়ে দেবেন, আমরা শুধরে নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করব সবাই একসঙ্গে।’

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে দেশসেরা খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন অ্যাথলেটরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে বলছিলেন, ‘যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের ও পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here