হেফাজতের তাণ্ডবের ৫ বছর

0
168
আজ ৫ মে। হেফাজতের তাণ্ডবের পাঁচ বছর পূর্তি। ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক তাণ্ডব চলে। মতিঝিল ও আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকের বুথে আগুন দেয়া হয়। কেটে ফেলা হয় রাস্তার মাঝের শত শত গাছ। পল্টনের ফুটপাতের শত শত বইয়ের দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে ইসলামী বইয়ের দোকানও ছিল। ওইদিন মতিঝিল ছাড়াও দেশের কয়েকটি স্থানে সহিংসতা হয়।
এসব ঘটনায় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারা দেশে ৭০টি মামলা হয়। এরপর ওই ঘটনার ৫ বছর পার হলেও ওই ঘটনায় করা মামলা তদন্তে তেমন কোনো গতি নেই।
মামলার এজাহারের বিবরণ ও হিসাব অনুযায়ী, সমাবেশের নামে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবে ভস্মীভূত হয়েছে ৫ হাজারেরও বেশি দোকান, ব্যাংক, একাধিক ব্যাংকের এটিএম বুথ, সরকারি গাড়ি, বাস, মোটরসাইকেল, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অর্ধশতাধিক কোটি টাকা। হাজার হাজার বই ও পবিত্র কোরআন-হাদিসেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কেটে ফেলা হয়েছিল রাস্তার সৌন্দর্য বর্ধনকারী শত শত গাছ। ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির নামে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নেমে আসে অরাজক পরিস্থিতি।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চ কর্তৃক ইসলাম অবমাননা প্রশ্নে ‘হেফাজতে ইসলাম’ মাঠে নামে। এরপরই ধর্মনির্ভর সংগঠনটি গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের নাস্তিক আখ্যা দিয়ে তাদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে মাঠে নামে। ওই বছরের ৬ এপ্রিল ঢাকামুখী লংমার্চ কর্মসূচি দিয়ে তারা আলোচনায় আসে। পরের মাসেই (৫ মে) ঢাকা ঘেরাও এবং মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে বসে সংগঠনটি।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, ‘হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের করা অনেক মামলার তদন্ত শেষ করে এরই মধ্যে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলেই চার্জশিট দেয়া হবে।’
জানতে চাইলে মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘এ দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গেড়ে বসেছে। তাই হেফাজতের তাণ্ডবের বিচার না হওয়ায় আমি মোটেও আশ্চর্য হইনি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
সরকার দলের অভিযোগ, হেফাজতের ওই কর্মসূচিতে নেপথ্যে থেকে ইন্ধন দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত অবস্থানে মধ্যরাতের অভিযানে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য হয় হেফাজতের নেতাকর্মীরা।
জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনায় আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো আইনগতভাবে মোকাবেলা করছি। ভবিষ্যতেও তাই করব। সেদিন আমাদের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা হয়েছিল। তাই আমরা মনে করি আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো অযৌক্তিকভাবে করা হয়েছে। তাই মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here